শিরোনাম
রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

নতুন চুক্তি নিয়ে হামাসের মধ্যে মতবিরোধ

নতুন চুক্তি নিয়ে হামাসের মধ্যে মতবিরোধ

ইসমাইল হানিয়া

দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি নিয়ে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের আলোচনা চলছে। এই চুক্তি নিয়ে গত সপ্তাহে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আলোচনা হয় এবং একটি কাঠামো তৈরি করা হয়। এতে বলা হয়, হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হবে। এ সময় সব ধরনের হামলা বন্ধ থাকবে। এর বদলে হামাস বেসামরিক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেবে। তবে এ চুক্তি নিয়ে এখন হামাসের নেতাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল। শুক্রবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামাসের গাজা শাখার প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার ‘ছয় সপ্তাহের’ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন। তার মতে, এই ছয় সপ্তাহের মধ্যে হামাস নিজেদের আবার পুনর্গঠিত করতে পারবে এবং গাজায় অতিপ্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ করবে। তবে হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়া চান, দখলদার ইসরায়েলকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে হবে। স্থায়ীভাবে সব হামলা বন্ধ করতে হবে, গাজা থেকে সব সেনাকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে, ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালাবে না সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া গাজাকে পুনর্গঠন করে দিতে হবে। নতুন জিম্মি চুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার মিসরে যান ইসমাইল হানিয়া। পরবর্তীতে হানিয়ার দফতর থেকে জানানো হয়, তিনি আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদের প্রধান জিয়াদ নাখালেহের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

আর এই আলোচনার পর দুই নেতা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যে কোনো ধরনের চুক্তির আগে ইসরায়েলকে গাজা থেকে সব সেনাকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে, অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, গাজাকে পুনর্গঠন করে দিতে হবে এবং ইসরায়েলের হাতে বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। তবে ইসরায়েল ইসমাইল হানিয়ার দাবি মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমটি।

গাজায় ২৪ ঘণ্টায় নিহত ১১২ ফিলিস্তিনি, আহত ১৪৮ : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় থামছেই না ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস আগ্রাসন। বিগত ২৪ ঘণ্টায় অবরুদ্ধ ওই উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ১১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১৪৮ জন। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের তাণ্ডবে ৭৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়েছে। সেখানে খাবার, পানি, ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর সবচেয়ে মারাত্মক হামলার ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার। খান ইউনিস এবং রাফাহের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বেসামরিক গাড়ি এবং একটি মালবাহী গাড়ি হামলার শিকার হয়। এতে শিশুসহ চারজন নিহত হয়। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ঢুকে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় ইসরায়েলের হামলায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজারের বেশিই শিশু।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাফাহ এলাকায়ও হামলার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। এর আগে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। উত্তর গাজার হামাদ স্কুলের কাছে ‘কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে’ অন্তত ৩০টি লাশ পাওয়া গেছে। তাদের হত্যার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীকে দায়ী করেছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। সূত্র : আলজাজিরা ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

সর্বশেষ খবর