শিরোনাম
বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০২৪ ০০:০০ টা
ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ

গাজায় নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ৮৬ হাজার ছাড়াতে পারে : ল্যানসেট

উপত্যকার বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজারো মানুষ এবং খাবার, চিকিৎসাসেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার সংকটে পরোক্ষভাবে যে বহু মানুষ মারা গেছে, তাদের ওই হিসাবে বিবেচনায় আনা হয়নি

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের বর্বর আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ৮৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গবেষণা ও পিআর-রিভিউ সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিষয়টি নিয়ে চিঠিও লিখেছেন প্রখ্যাত চিকিৎসকরা।  গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের  অভ্যন্তরে নজিরবিহীন রকেট হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এর প্রতিশোধ হিসেবে ওই দিন থেকেই গাজায় নারকীয় তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ৩৮ হাজার ১৫৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে। চিঠিতে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নিহত ব্যক্তির যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে সম্ভবত সেটি নাটকীয়ভাবে কম। ইসরায়েলি হামলায় এ উপত্যকার বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজারো মানুষ এবং খাবার, চিকিৎসাসেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার সংকটে পরোক্ষভাবে যে বহু মানুষ মারা গেছে, তাদের ওই হিসাবে বিবেচনায় আনা হয়নি। অন্যদিকে গাজা গণহত্যা অবিলম্বে শেষ হয়ে গেলেও, এর ফলে সৃষ্ট নানা রোগ, খাদ্য, পানি, চিকিৎসা এবং আশ্রয়ের অভাব আগামী কয়েক মাস বা বছরে আরও অনেক মানুষের মৃত্যুর কারণ হবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের সংঘাতে পরোক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা প্রত্যক্ষ মৃত্যুর সংখ্যার তিন থেকে ১৫ গুণ হতে পারে। 

গাজার মোট জনসংখ্যা ২৩ লাখ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান অভিযানে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা হিসেবে ধরা হলে, শতকরা হিসাবে গত ৯ মাসে গাজায় নিহত হয়েছে সেখানকার মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ মানুষ। এর আগে গত মে মাসে গাজার নাগরিক সুরক্ষা সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছিল, উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনার নিচে প্রায় ১০ হাজার লাশ চাপা পড়ে আছে। এসব লাশে পচন ধরায় রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে। গাজা উপত্যকার ৩৫ শতাংশ ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। এ গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এদিকে গাজা সিটিতে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের শহর ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হাজার হাজার লিফলেট বিলি করেছে। গতকাল ফিলিস্তিনি উপত্যকার প্রধান শহরটিতে তীব্র সামরিক অভিযানের মধ্যে এই নির্দেশনা দেওয়া হলো।

সর্বশেষ খবর