শিরোনাম
প্রকাশ : ২ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:৫৪

করোনা মহামারীতে গরিবদের পাশে দাঁড়ানো ইমানের দাবি

মুফতি এহছানুল হক মোজাদ্দেদী

করোনা মহামারীতে গরিবদের পাশে দাঁড়ানো ইমানের দাবি

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে করোনাভাইরাসে বর্তমানে সতর্ক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে হোম কোয়ারেন্টাইনে (ঘরবন্দী)  অবস্থায় জীবনযাপন করছে অনেক অভাবী, দুস্থ, অনাথ, ইয়াতিম, নিরন্ন, দিনমজুর অসহায় মানুষ। এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দেওয়া বিবেকের দাবি এবং ধর্মের শিক্ষা। টাকা-পয়সা, খাদ্য, বস্ত্র, পানি, মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, হ্যান্ড ওয়াশ, প্রয়োজনীয় ওষুধসহ যার যা কিছু আছে, তা নিয়েই স্বতঃস্ফূর্তভাবে না খাওয়া মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে। মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, হে ইমানদারগণ! তোমরা আগে থেকেই সাবধানতা ও সতর্কতা অবলম্বন করো। (সূরা নিসা আয়াত-৭১) অন্যের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়ানোর প্রতিদান সম্পর্কে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা নিজেদের ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের দানের দৃষ্টান্ত হলো- যেমন একটি শস্যবীজ বপন করা হলো এবং তা থেকে সাতটি শীষ উৎপন্ন হয়েছে আর প্রত্যেক শীষে রয়েছে ১০০টি শস্যকণা। এমনিভাবে মহান আল্লাহতায়ালা যাকে চান তাকে প্রাচুর্যতা দান করেন। আল্লাহ  প্রাচুর্যময় জ্ঞানময়। (সূরা বাকারাহ, আয়াত : ২৬১।)  জলীলুল কদর সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইকে সাহায্য করবে, মহান আল্লাহতায়ালা ততক্ষণ তাকে সাহায্য করতে থাকবেন।’ (মুসলিম)। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, বান্দা যেভাবে ভাইয়ের বিপদের সাহায্যকারী হয়েছে, মহান আল্লাহতায়ালা ও তার বিপদে দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম সাহায্যকারী হবেন। সাধ্যমতো মানব সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা ধর্ম ও মানবিকতার দৃষ্টিতে অত্যন্ত পুণ্যের কাজ। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানব সেবায় তার ভাইয়ের সঙ্গে চলে, ওই কাজ না করা পর্যন্ত মহান আল্লাহতায়ালা ৭৫ হাজার ফেরেশতা দিয়ে তাকে ছায়া দান করেন। তারা তার জন্য রহমত ও মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে থাকে। তার প্রত্যেক কদমে একটি গোনাহ মাফ হয় এবং একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। (আত তারগিব।) করোনা ভাইরাসের সতর্কতায় মানুষ বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইন (ঘরবন্দী)। বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় খাদ্যের অভাবে অনেকে কষ্টে আছেন এবং অনেকের প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার টাকাও নেই। তাই জরুরি ভিত্তিতে  মানবেতর জীবনযাপনরত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ তৎপরতা, শুকনা খাদ্যসামগ্রী প্রদান, আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত জরুরি। হজরত আবদুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত, রসুল (সা.) .লেছেন, ‘তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া করো। আকাশের মালিক আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। (মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন।) হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) হতে বর্ণিত, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই! মহান আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন, যে তার বান্দাদের প্রতি দয়া করে।’ (বুখারি ও  মুসলিম।) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের সেবা ও উপকারের জন্য মহান আল্লাহতায়ালা কিছু নিবেদিত প্রাণ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ বিপদে পড়লে তাদের শরণাপন্ন হয়। এসব রহম দিল ব্যক্তিরা আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকবে। (আত-তারগিব।) যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বিপদগ্রস্ত ও দুস্থ মানবতার কল্যাণের জন্য দান-খয়রাত, জাকাত-সাদাকা, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন না; সমাজের অসহায় বিপন্ন, করোনাভাইরাসে চারপাশে হোম কোয়ারেন্টাইনে ক্ষতিগ্রস্ত, কাজ বন্ধ হওয়ায় নিঃস্ব, অর্ধাহারি-অনাহারি নিরন্ন গরিব মানুষের অভাব দূর, ক্ষুধা নিবারণ ও দারিদ্র্যবিমোচনের চেষ্টা করেন না; ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে অংশ নেয় না; তিনি কখনই আল্লাহ ও রসুলের প্রিয়ভাজন হতে পারেন না। এ সম্পর্কে প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, মহান আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না। (বুখারি ও মুসলিম।) প্রিয় নবী (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া করে না, সে আল্লাহর দয়া পায় না।’ (বুখারি।) তাই আসুন! আমরা মানুষকে অসহায় বিপদগ্রস্ত দেখে পাশ কেটে চলে যাব না। তার দিকে এগিয়ে যাব। মানুষকে বিপন্ন রেখে তাদের দিকে মুখ ফিরানোর পরিণাম খুবই ভয়াবহ। হজরত লোকমান তার ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘প্রিয় সন্তান! তুমি মানুষকে দেখে অহঙ্কার কিংবা তাচ্ছিল্যভরে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না।’ হায়! আজ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা আমরা ভুলে যাচ্ছি। তাই তো তরুণ যুবকরা দুস্থদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না। আগে মহামারীর আভাস পাওয়া মাত্রই ত্রাণ পৌঁছেছে। এখন এগিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে না। আহারে মানবতা! হে আল্লাহ! দিনমজুর মানুষের কষ্ট আপনি দূর করে দিন। তাদের দুঃখে আমাদেরকে পাশে থেকে সহযোগিতা করার তওফিক দিন। করোনাভাইরাসের এ মহামারী থেকে বিশ্ববাসীকে আপনি মুক্তি দিন। আমিন।


আপনার মন্তব্য