Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১৩:৫৮

যে দুর্গাপূজার উদ্যোক্তা মুসলমানরা

অনলাইন ডেস্ক

যে দুর্গাপূজার উদ্যোক্তা মুসলমানরা
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং ত্রিপুরা রাজ্যে মহাসমারোহে শুরু হয়েছে বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সুসজ্জিত হয়েছে মন্ডপগুলো।

দুর্গাপূজা এলেই ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য নজির গড়েন কলকাতার একটি এলাকার মুসলমানরা। দুর্গাপূজা আর কালীপূজা এলে নিজ উদ্যোগে মন্ডপ থেকে শুরু করে সব আয়োজন সম্পন্ন করেন সেই এলাকার মুসলমানরাই। 

ভারতের কলকাতা শহরেই ৬০ বছর ধরে হয়ে আসছে একটি দুর্গাপূজার আয়োজন, যেটির মূল উদ্যোগটাই নেন মুসলমানরা। কলকাতা বন্দরের কাছাকাছি মুসলমান-প্রধান খিদিরপুরের মুন্সিগঞ্জ এলাকায় সেই পূজার আয়োজন হয়। খবর-বিবিসি বাংলা'র।

এর কারণ মুন্সিগঞ্জে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বসবাস তেমন একটা নেই। সেখানে মুসলমানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই পূজা এলে মুন্সিগঞ্জের পাড়ার হিন্দুদের মন্ডপ তৈরিতে সাহায্য করে মুসলমানরা। হিন্দুরা পূজা করেন আর মুসলমানরা ঈদের মতো উৎসবে মেতে ওঠেন।

বিবিসি আরও জানায়, প্রতিবারের মতো এবারও মুন্সিগঞ্জের তিন রাস্তার মোড়ে প্যান্ডেল বানানো হয়েছে। দুর্গার মূর্তিও প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এসব ধর্মীয় আচারে স্থানীয় হিন্দুদের সর্বাত্মক সহায়তা করেছে প্রতিবেশী মুসলমানরা।

পূজা কমিটির প্রধান প্রেমনাথ সাহা বলেন, ৬০ বছর ধরে এভাবেই পূজা হয়ে আসছে। আমাদের পূর্বপুরুষরাও এভাবে হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থানে, ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত দেখিয়ে দুর্গাপূজা, কালীপূজা, ঈদও মহররম পালন করে এসেছেন। আমরাও সেভাবেই করি। এটা এই এলাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।

তিনি আরও বলেন, এবারের দুর্গাপূজায় এলাকার মুসলমান ছেলেরাই চাঁদা তুলে পূজার কাজে এগিয়ে এসেছেন। প্যাণ্ডেল তৈরি থেকে সব কাজে সাহায্য করেছে। গায়ে খেটেছে।

প্রেমনাথ সাহা বলেন, এই তো মহরম গেল। আমরাও মুসলমানদের মতো বাজার করেছি, খাবার বিলি করেছি, পানি দিয়েছি। এ নিয়ে কখনও কোনো সমস্যা হয় না এ পাড়ায়।

তিনি বলেন, ৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পরে যখন সারা ভারত জ্বলছিল, তখনও আমাদের মুন্সিগঞ্জ টেরই পায়নি বিষয়টি।

সালমান সর্দার নামে একজন বলেন, এখানে পূজা হলে মনে হয় ঈদ এসেছে। স্কুল থেকে ছুটি পাই। পূজার কয়েকদিন আগে প্যান্ডেল তৈরির কাজ করে আনন্দ পাই। ঠাকুর দেখতে যাই। এরপর ফুচকা আর আইসক্রিমের দোকান বসে। সেগুলো খাই। নাগরদোলায় চড়ি।

পূজার আরেক উদ্যোক্তা শেখ বাবু বলেন, এখানে হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই। তা পূজা আর ঈদ এলে যে কেউ বুঝতে পারবে।

এবারের পূজার চাঁদা তোলার দায়িত্বে ছিলেন মুহাম্মদ সেলিম নামের এক যুবক। তিনি বলেন, আগে পূজায় আর্টিস্ট এনে শো হত। এখন খরচ এত বেড়ে গেছে, সেসব বাদ দিতে হয়েছে। পাড়া-প্রতিবেশী আর রাস্তা থেকে চাঁদা তুলে এক লাখ ২০ হাজার রুপির মতো উঠেছে। তাই দিয়েছি ওদের। তাদের পূজা আনন্দে কাটুক এই চাই।

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য