শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১০:২৪

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (ফাইল ছবি)

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) প্রস্তাবিত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) বিরোধী ছাত্র বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এবার ভারত সরকারের তোপের মুখে এক বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থী। ইতিমধ্যেই কলকাতার ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) তরফ থেকে ওই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

বাংলাদেশি ওই নারী শিক্ষার্থীর নাম আফসারা মীম। বাংলাদেশের খুলনা জেলার কুষ্ঠিয়ায় বাসিন্দা আফসারা মীম ওরফে ইভা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাচেলর অব ডিজাইন’এ পাঠরত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। 

গত ৮ জানুয়ারী বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নাগরিকত্ব আইন সম্পর্কিত একটি সেমিনারে যোগ দিতে এসেছিলেন বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।  কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে প্রবল ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাদের। প্রায় পাঁচ ঘন্টার বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয় স্বপন দাশগুপ্ত সহ উপাচার্যকে। অভিযোগ ওঠে বামপন্থী শিক্ষার্থী সংগঠনের বিরুদ্ধে। সেই বিক্ষোভের প্রধান মুখ ছিল এই আফসারা। 

এর আগেও গত ডিসেম্বরে বোলপুরে আরও একটি সিএএ, এনআরসি ও এনপিআর বিরোধী মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায় তাকে। এমনকি কলকাতায় মোদি বিরোধী র‌্যালিতেও আফসারা অংশ নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বপন দাশগুপ্তকে বিক্ষোভের বিষয়টি নিয়ে সেসময় প্রচন্ড শোরগোল পড়ে যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়ও। এমনকি বিষয়টি গড়ায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় পর্যন্ত। 

বিজেপির সাইবার সেল থেকে ওই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। এরপরই গত ১৪ ফেব্রুয়ারী এফআরআরও’এর তরফে একটি নোটিশ জারি করা হয়। আজ ২৬  ফেব্রুয়ারী বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মারফত ওই নোটিশ হাতে পান আফসারা। সেখানে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এফআরআরও'র দাবি, ভিসা আইন লঙ্ঘন করার জন্যই তাকে দেশ ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে।

যদিও বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা অবলম্বন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও ফরেন সেল’র সাথে যোগাযোগ করে সফল হওয়া যায়নি। এব্যাপারে  কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ নীরবতা অবলম্বন করেছে। এমনকি আফসারার ফোনে যোগাযোগ করা হলে গোটা ঘটনাটি অস্বীকার করে জানিয়েছেন তিনি এমন কোন বিক্ষোভ বা মিছিলে অংশ গ্রহণ করেননি। যদিও সিএএ, এনআরসি বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আগে ও পরে সেই সব ছবি নিজেই তিনি তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। 

তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগে গত জানুয়ারীতে ভারতে চিকিৎসা ও ভ্রমণ করতে এসে কলকাতায় মোদি বিরোধী মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায় নূর আলম নামে খুলনার এক বাসিন্দাকে। হাতে ‘গো ব্যাক মোদি’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে শ্লোগানও দিতে দেখা যায় তাকে। আর সেই ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করতেই বিতর্ক ওঠে। 

তারও আগে গত মে মাসে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন দুই বাংলাদেশি অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ ও গাজী আব্দুর নুর। সেসময় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরে দুই অভিনেতাকেই ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয় ভারত সরকার। 

উল্লেখ্য, সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে ভারত ছাড়তে হয়েছে মাদ্রাজ আইআইটি’র পদার্থবিদ্যার স্নাতকোত্তর স্তরে পাঠরত জ্যাকব লিন্ডেলথাল নামে এক জার্মান ছাত্রকে। কোচিতে সিএএ-এনআরসি বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় নরওয়ের এক নারী পর্যটক জন মেট জোহানসনকেও সেদেশে ফেরত পাঠায় ভারত সরকার। 


বিডি প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর