শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ মে, ২০২০ ১৭:২৮
আপডেট : ২৫ মে, ২০২০ ১৯:৩৮

দূরত্ব বজায় রেখে বাড়িতেই ঈদের নামাজ আদায় ভারতের মুসলিমদের

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

দূরত্ব বজায় রেখে বাড়িতেই ঈদের নামাজ আদায় ভারতের মুসলিমদের
সংগৃহীত ছবি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গোটা ভারতের সাথেই পশ্চিমবঙ্গে জারি আছে লকডাউন। এই আবহেই দীর্ঘ এক মাস রমজানের রোজা শেষে সোমবার সারা ভারতের সাথে পশ্চিমবঙ্গেও পালিত হচ্ছ ঈদুল ফিতর। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা নিজের বাড়িতেই ঈদের নামাজ আদায় করেন। 

দক্ষিণ কলকাতার চেতলায় নিজের বাড়িতেই কলকাতার বিদায়ী মেয়র ও রাজ্যটির পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম নামাজ আদায় করেন। উলুবেড়িয়ার তৃণমূল বিধায়ক ইদ্রিশ আলিও তার বিধানসভার কেন্দ্রে কয়েকজনকে সাথে নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই বাড়ির ছাদে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।
 
কলকাতার ঈদের সবচেয়ে বড় নামাজটি হয় রেড রোডে। প্রতি বছর প্রায় লাখো মুসল্লি এই নামাজে অংশ নিয়ে থাকে। কিন্তু করোনার আবহে বড় জমায়েত এড়াতে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে রেড রোড ছিল সুনসান। এ বছর সেখানে ঈদের কোনো জমায়েত হয়নি। কলকাতা শহরের অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকা নিউমার্কেটও অন্য দিনের তুলনায় একেবারে আলাদা। খাঁ খাঁ করছিল, নিউমার্কেট সংলগ্ন এলাকাও।
  
এছাড়াও নাখোদা মসজিদ, টিপু সুলতান মসজিদেও এদিন কোনো জমায়েত দেখা যায়নি। নামাজ শেষেই একে অপরকে আলিঙ্গন করার যে দৃশ্য সচরাচর দেখা যায়-করোনার কারণে এ বছর সেই দৃশ্যও নেই। ফলে মোবাইলে ডিডিও কলের মাধ্যমেই একের অপরকে ঈদ মোবারক জানান।

করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য চলতি বছর রমজান মাস চলাকালীন সময়েও ইফতার পার্টি, তারাবিহর নামাজ সবকিছুতেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় কলকাতার বড় মসজিদগুলিতে। 
শহরে করোনায় সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়কে জমায়েত এড়িয়ে ঘরে বসেই ঈদ পালনের আর্জি জানিয়েছিলেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেই সাথে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। 

তিনি জানান, ‘আমি প্রতিবার ইফতারে যাই। রেড রোডের নামাজে যাই। কিন্তু এ বছর রেড রোডের নামাজ হবে না। আমারও তো খারাপ লাগছে।’ 

যদিও সোমবার কলকাতাসহ রাজ্যটির কিছু মসজিদ বা ইদগাহে ঈদের নামাজের ব্যবস্থা হলেও সেখানেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই পুরুষ ও নারীদের নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। 

কলকাতার পাশাপাশি দিল্লি, লখনউতেও ছবিটা ছিল একরকম। দিল্লিতে নিজের বাড়িতেই নামাজ আদায় করেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নাকভি। করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে মুসলিমদের পবিত্র উৎসব ঈদের দিনেও দিল্লির বিখ্যাত জামে মসজিদ ছিল বন্ধ। ফলে বাড়িতেই নামাজ আদায় করেন মুসলিমরা। অন্য বছরগুলিতে রমজানের সময় দিল্লির পুরোনো শহরতলি এলাকায় যেখানে কেনাকাটার ধূম পড়ে যায়-তাও ছিল জনমানবহীন। 

লখনউয়ের আমিনাবাদ, নাজিরাবাদ, ফতেগঞ্জ, কায়সারবাগসহ ব্যস্ততম এলাকাগুলিতেও মানুষের চলাফেরা ছিল সীমিত। করোনার আবহে বন্ধ ছিল হায়দরাবাদের বিখ্যাত মক্কা মসজিদের দরজাও।
জমায়েত এড়াতে কেরালার তিরুবন্তপূরমের পালায়মের একটি মসজিদ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ইদের নামাজ পড়ান ইমাম। 

ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ায় একদিন আগে রবিবারই কেরালার পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরে ঈদ পালিত হয়। শ্রীনগর শহরসহ গোটা কাশ্মীরের বড় বড় মসজিদ ও ইদগাহতে ঈদ উপলক্ষে কোনো জমায়েত হয়নি।
 
ঈদ উপলক্ষে ভারতবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি লকডাউন বিধি মেনে চলার আর্জি জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ থেকে শুরু করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগত সিং কোশয়ারী প্রত্যেকেই। 
রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন, অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর, সারা আলি খান, নারী ক্রিকেটার মিতালি রাজ প্রমুখ। 


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর