শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০৬

সরকারি হাসপাতালের কাছেই বেসরকারি হাসপাতাল

অনিয়মের কথা স্বীকার করলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও

মাহবুব মমতাজী

নিয়ম আছে সরকারি হাসপাতালের ৩০০ গজের মধ্যে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিক থাকতে পারবে না। এ নিয়মের তোয়াক্কা না করেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের। যেগুলোর বেশিরভাগের অবস্থান সরকারি

হাসপাতালের ১০০ গজের মধ্যে। এ অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা। ১৯৮২ সালের মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশে রয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল গঠন এবং পরিচালনার দিকনির্দেশনা।

বেসরকারি হাসপাতালগুলো সরকারি হাসপাতালের কাছাকাছি হওয়ায় সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ রোগীরা। নিম্নমান ও অনুমোদনহীন এসব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের নিয়োগ করা দালালরা রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে ভর্তি করে। ফলে রোগীরা সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, সারা দেশে নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৮৭টি। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই আছে এক হাজার ৫০৫টি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাছাকাছি অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে রয়েছে, চাঁনখারপুল জেনারেল হাসপাতাল। এটি ২০০২ সালের ২৩ জানুয়ারি নিবন্ধন নেয়। এ ছাড়া চৌধুরী ক্লিনিকের নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে ২০০২ সালের ২৮ মার্চ, রাফাত জেনারেল হাসপাতালের নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে ২০০৪ সালের ১৫ জুলাই, ২০১০ সালের ২০ মে আরাফাত জেনারেল হাসপাতাল, ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল মৌসুমী ক্লিনিক এবং একই সময়ে নিবন্ধন নেওয়া সেবা মেটারনিটির অবস্থানও চাঁনখারপুলে। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনেই অবস্থিত নিউ ঢাকা ক্লিনিক। এটি নিবন্ধন নেয় ১৯৯৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া ২০০২ সালের ১২ ডিসেম্বর নিবন্ধন নেওয়া আরাফাত মেডিকেল প্রাইভেট লিমিটেড, ২০০৪ সালের ৭ ডিসেম্বর নিবন্ধন নেওয়া ডক্টরস ক্লিনিক, ২০০৪ সালের ২৪ আগস্ট নিবন্ধন নেওয়া আলফা ডায়াগনস্টিক হাসপাতাল, ২০০৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর নিবন্ধন নেওয়া ঢাকা হাসপাতাল, ২৮ ডিসেম্বর নিউ ঢাকা মডার্ন ক্লিনিক, ১৪ জুন রেজিয়া ক্লিনিক ও ২০০৭ সালের ২৭ নভেম্বর নিবন্ধন নেওয়া আল আরাফাত ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালও একই অবস্থানে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী সরকারি হাসপাতালের সামনে অবস্থান ট্রমা সেন্টারের। এটি ১৯৯২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নিবন্ধন নেয়। স্পেশালাইজড সার্জারি ল্যাপারোস্কোপি অ্যান্ড ইউরোলজি ক্লিনিক, পরিবাগের মডার্ন মেটারনিটি ও কবির নার্সিং হোম গড়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালকে ঘিরে। রাজধানীর আগারগাঁও-শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা শিশু হাসপাতাল, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স এবং জাতীয় বাতজ্বর ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রসহ আরও বেশকিছু হাসপাতাল। সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালগুলোয় বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে। যারা রোগীদের ভালো চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করে। ফলে রোগীরা  কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে হারাচ্ছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। অন্যদিকে চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় চলে দালাল চক্রের বেপরোয়া বিচরণ। এসব হাসপাতালকে পুঁজি করে কিছু ব্যক্তি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. কাজী জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, নিয়ম ভেঙে সরকারি হাসপাতালের ১০০ গজের মধ্যে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। বিষয়টি আমরা অবহিত হলেও সেগুলো তুলে দিতে পারছি না। এটার জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সূত্র জানায়, শেরেবাংলানগরের সরকারি হাসপাতালগুলোয় উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তা, চিকিত্সক ও দালালদের অলিখিত চুক্তিতে কোনো কোনো রোগের চিকিৎসাই মেলে না। এরপর দালাল আর কর্মকর্তাদের প্ররোচনায় রোগীরা চিকিৎসা নিতে যান দালালদের খপ্পরে পড়ে পাশের বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে ছলে বলে কৌশলে আর্থিক ব্যয় বাড়ানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে ধরিয়ে দেওয়া হয় মোটা অঙ্কের রসিদ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর