Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৩৫

অপরাধ রোধে বসছে মোবাইল কোর্ট

মানিক মুনতাসির

অপরাধ রোধে বসছে মোবাইল কোর্ট

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে এসব ক্যাম্পে কোনো ধর্মীয় বা সেবাদানকারী সংগঠন সেবাদানের নামে যেন জঙ্গি তৎপরতা চালাতে না পারে সেদিকেও কঠোর নজরদারি রাখতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাদক ও জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এসব ক্যাম্পে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেনের লেখা এই প্রস্তাবের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছে, এসব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় নাগরিকরা মাদক সরবরাহ করছে। এমনকি অতীতে বাংলাদেশে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এমন রোহিঙ্গা নাগরিকদের অনেকেই এমন তৎপরতার সঙ্গে জড়িত। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এমন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে সন্ধ্যার পর এনজিওর কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে ত্রাণ তৎপরতা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ক্যাম্পগুলোয় প্রবেশ ও বহির্গমন পথ নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রতিটি প্রবেশ ও বহির্গমন পথে বসানো হচ্ছে চেকপোস্ট। ক্যাম্পের চারদিকে নির্দিষ্ট ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করে এসব স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য নিয়োগের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে যেসব বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) কাজ করছে তারা তাদের কর্মপরিধির বাইরে অন্য কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এতে কোনো এনজিও বা ব্যক্তি মিয়ানমারবিরোধী বা জঙ্গি তৎপরতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কয়েকটি এনজিওর কার্যক্রম ইতিমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং যেগুলোর বিরুদ্ধে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সেসব সংস্থাকে এসব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এজন্য সন্ধ্যার পর এসব ক্যাম্পের ভিতরে কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, এনজিও কিংবা ধর্মীয় সংগঠনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। জঙ্গি তৎপরতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের দায়িত্বে নিয়োজিত গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম জোরদার করতে কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনাও প্রয়োজন বলে মনে করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় প্রশাসন। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ডিজিএফআই, এনএসআইর নজরদারি বাড়াতে এসব সংস্থার জনবল বৃদ্ধিরও প্রস্তাব করা হয়েছে। সব ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়াতে এসব এলাকায় অস্থায়ী ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অফিস স্থাপনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য