শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:৫০

গতি বাড়াতে অ্যাকশন প্ল্যান

চট্টগ্রাম বন্দর

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

গতি বাড়াতে অ্যাকশন প্ল্যান
Google News

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিতি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ হাতে নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। ওই ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থা সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে আণবিক শক্তি কমিশন, কোয়ারেন্টাইন, খাদ্য বিভাগ, চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থা, বিজিএমইএ, বিএসটিআই, সিএন্ডএফ, শিপিং এজেন্ট এবং আগ্রাবাদ এলাকার সব ব্যাংক। গত ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ‘অ্যাকশন প্ল্যান’টি উপস্থাপন করেন চবক চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আজিজ, (ই) পিএসসি, বিএন। এ বিষয়ে

জানতে চাইলে কমোডর জুলফিকার আজিজ, (ই) পিএসসি, বিএন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, একটি বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অনেক সংস্থার কার্যক্রম জড়িত। ওইসব সংস্থার সেবা যদি চাওয়া মাত্র পাওয়া যায় তবে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমেও গতি বেড়ে যায়। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ডেলিভারি টাইমেও সময় কম লাগবে। কনটেইনার লোড-আনলোডেও জট কমবে। বন্দরের অপারেশনাল কাজের গতি বাড়াতেই ‘অ্যাকশন প্ল্যান’টি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান চবক চেয়ারম্যান।  অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আরও যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো : পতেঙ্গা টার্মিনাল ও লালদিয়া টার্মিনাল দ্রুত চালু করা; প্রয়োজনের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ (আপদকালীন ও রিজার্ভসহ) আধুনিক ও দ্রুততর স্ক্যানিং মেশিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া; স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বন্দরের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা; বন্দরে আগমনের ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামযোগ্য মালামাল শুল্ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা; বে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের অনুকূলে ভূমি বরাদ্দ ত্বরান্বিত করা; বন্দর কর্তৃপক্ষের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানো; কনটেইনার পরিবহনের জন্য ডাবল রেলওয়ে ট্র্যাক স্থাপনের লক্ষ্যে রেলওয়ে কর্তৃক পরামর্শক নিয়োগ এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি চবক-কে অবহিত করা; আমদানি-রপ্তানি কাজে নিয়োজিত শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এফবিসিসিআই ৫/১০/১৫/২০ বছর মেয়াদে আমদানি-রপ্তানির প্রক্ষেপণ বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে; বহিঃনোঙ্গরে জাহাজের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য লাইটারেজ জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি করা; আমদানি পণ্য খালাসের লক্ষ্যে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ক্যামিকেল টেস্ট রিপোর্ট দেওয়া এবং এজন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব অ্যাসিসটেন্স নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া; ২০১৯ সালের মধ্যে পানগাঁও কনেটেইনার টার্মিনালের শতভাগ সক্ষমতা ব্যবহার নিশ্চিত করা; আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত সব লেনদেন ইলেকট্রোনিক্যালি সম্পাদন করা; লেস দেন কনটেইনার লোড (এলসিএল) কার্গো তিন দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা; এলসিএল কার্গো আনস্টাফিংয়ের সময়সীমা সর্বোচ্চ ২ দিনে নামিয়ে আনা এবং বেসরকারি আইসিটিগুলোকে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সিসেটমে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি যাচাই করা।  এ ছাড়া বন্দরের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন ও সমস্যা সমাধানে চবক চেয়ারম্যানকে বন্দর ব্যবহারকারী ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ক্লোজ গ্রুপ মনিটরিং টিম গঠন করতে বলা হয়েছে। বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে প্রণীত অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল কুদ্দুস খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের কনটেইনার জট কমানো এবং সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্প্রতি এফবিসিসিআই থেকেও সুপারিশ এসেছে। বন্দরের গতি বাড়াতে কিছু কৌশলগত উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্দরে আরও ২০টি জেটি এবং টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব অবকাঠামো নির্মাণ হলে বন্দরের সক্ষমতা অনেকাংশে বেড়ে যাবে। গত বছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন টিইউএস (টুয়েন্টিফিট ইকুইভেলেন্ট ইউনিট) কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। চলতি বছরে এটি ২ দশমিক ৮ মিলিয়নে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের।