শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মে, ২০১৮ ২৩:১২

সেন্ট্রাল আফ্রিকায় শান্তি প্রচেষ্টায় এক অনন্য বাংলাদেশ

শিমুল মাহমুদ, সেন্ট্রাল আফ্রিকা থেকে

আফ্রিকার অধিকাংশ দেশই সীমাহীন দারিদ্র্যের মধ্যে নিপতিত। সেই গরিবের মধ্যে আরও গরিব সেন্ট্রাল আফ্রিকা রিপাবলিক। মাটির নিচে প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব নেই। কিন্তু নিজেদের হানাহানির কারণে সেই সম্পদ তাদের ভাগ্য বদলে কাজে লাগছে না। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে রক্ত ঝরছে নিয়মিত। এখানকার মানুষের হাতে হাতে অস্ত্র। অসংখ্যসশস্ত্র গ্রুপ পরস্পরের সঙ্গে হানাহানিতে লিপ্ত। বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বড় সেন্ট্রাল আফ্রিকায় মানুষ মাত্র ৪৭ লাখ। এই অল্প সংখ্যক মানুষের দেশটিতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে জাতিসংঘের মাইক্রোবাসে উঠতেই আমাদের বলা হলো, আপনাদের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট রাখা আছে, পরে নিন।

বিশ্বশান্তি রক্ষার অগ্রদূত হিসেবে ৩০ বছর ধরে জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তিন দশকের এই গৌরবের পথচলা স্মরণ করছে এই মাসে। বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের চ্যালেঞ্জ ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদান দেখতে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের দুটি মিডিয়া টিম গতকাল থেকে আফ্রিকার ৪টি দেশ ভ্রমণ করছে। সেনা সদরের লে. কর্নেল আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে সদস্যের ৫ মিডিয়া টিমের অংশ হিসেবে আমরা  সেন্ট্রাল আফ্রিকা ও মালি ঘুরছি। 

বিশ্বের দ্বিতীয় অশান্তিময় দেশটি হচ্ছে এই সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে জাতিগত সংঘাত। এখানকার মানুষ ভারী অস্ত্র দিয়ে গোলাগুলি করাটা রীতিমতো উৎসব বলে মনে করে। নিষ্ঠুরতা তাদের অস্তিত্বে মিশে আছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে জাতিগত যুদ্ধ বহুদিন ধরেই চলছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা এখানে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শান্তি স্থাপনের কৌশল হিসেবে স্থানীয়দের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এখানকার লোকজনকে সম্পৃক্ত করছে।

জাতিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় জাতিসংঘ এখানে ২০১৪ সালে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শান্তি রক্ষা মিশন চালু করে। শান্তি মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা দেশটিতে কাজ শুরুর পর তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতার মাধ্যমে এ দেশের সরকার এবং জনসাধারণের আস্থা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। এখানে পানির সমস্যা প্রকট। রয়েছে বিদ্যুতের সমস্যাও। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসব সমস্যা নিরসনে কাজ করছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস সদস্যরা।

উঁচু-নিচু পাহাড়, সমতল ভূমি আর সবুজ ছায়াঘেরা এই দেশটি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। মাটি খুবই উর্বর। দেশটির আয়তন ২ লাখ ৪০ হাজার বর্গমাইল। রাজধানীর নাম বাঙ্গি। শিক্ষার হার ৫০ শতাংশ। মুদ্রার নাম সেফা। সাংহো এবং ফরাসি এই দুটি ভাষা প্রচলিত। দেশটির জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ। প্রতিবছরই প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। বিমানবন্দরে গতকালও আমাদের স্বাগত জানাল বৃষ্টি। অথচ গাছে আম ধরে থাকে বারো মাস। দারিদ্র্য আর দূষণ হাত ধরে চলে। লোকজনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই। গোসল করে অনেক দিন পর পর। অবশ্য পানির সংকটও প্রকট। বিলাসিতার ধারেকাছেও নেই দেশটির মানুষ।

সম্পূর্ণ জাতি প্রায় ৮০টি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীতে বিভক্ত। দেশটিতে প্রচুর পরিমাণে হীরা, ইউরোনিয়াম, তেল এবং সোনার খনি রয়েছে। দেশটির একটি মাত্র প্রধান সড়ক রয়েছে। রাজধানী বাঙ্গি থেকে ক্যামেরুন পর্যন্ত ৬১০ কিলোমিটার সড়কটির কোথাও পাকা, আবার কোথাও আধা পাকা। সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।


আপনার মন্তব্য