শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুন, ২০১৮ ০০:০৫

রানার পরিবর্তে কে হচ্ছেন প্রার্থী

আতিকুর রহমান, ঘাটাইল

রানার পরিবর্তে কে হচ্ছেন প্রার্থী

রাজনৈতিকভাবে টাঙ্গাইল-৩ আসন বেশ গুরুত্ব বহন করে। এ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি আমানুর রহমান খান রানা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে। তার অনুপস্থিতিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী— তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের অর্ধডজন নেতা। রানাবিরোধী গ্রুপটিও নানা ভাগে বিভক্ত। আবার আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চাইছে বিএনপি। প্রার্থিতা নিয়ে দলটির দুই নেতার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও কোন্দল নেই বললেই চলে।

১৯৭০, ’৭৩ ও ’৮৬ সালের নির্বাচনে এ আসনে এমপি হন বর্তমান এমপির চাচা আওয়ামী লীগের শামসুর রহমান খান শাহজাহান। ’৭৯ সালে নির্বাচিত হন বিএনপির শওকত ভূঁইয়া। ’৮৮ সালের ভোটে জাতীয় পার্টির সাইদুর রহমান খান মোহন এমপি হন। এরপর ১৯৯১, ’৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে শামসুর রহমান খান শাহজাহান আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। পরপর চারবার এমপি হন বিএনপির লুত্ফর রহমান খান আজাদ। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ২০০৮ সালে বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মতিউর রহমানের হাত ধরে আসনটি পুনরুদ্ধার করে আওয়ামী লীগ। মতিউর রহমান ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মারা গেলে উপনির্বাচনে মনোনয়ন পান উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নেন শামসুর রহমান খান শাহজাহানের ভাতিজা তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমানুর রহমান খান রানা। তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রানা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন। ২০১৪ সালের আগস্টে পুলিশি তদন্তে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যায় রানা ও তার ভাইদের জড়িত থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। তারপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এমপি রানার অনুপস্থিতিতে শাসক দলের মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু, সদ্য আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া জাকারিয়া, মানবকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ তুহিন, সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শহীদুল ইসলাম, প্রয়াত এমপি ডা. মতিউর রহমানের ছেলে ঢাকা ভিক্টোরিয়া হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান তানভীর রহমান, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ড. মো. নূরুল আলম তালুকদার, জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক পিপি এস আকবর খান এবং তেজগাঁও কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অধীরচন্দ্র সরকার। উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অ্যাডভোকেট মিয়া মোহাম্মদ হাসান আলী রেজা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নানা ভাগে বিভক্ত। তারা প্রার্থিতা নিয়ে কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন। এতে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে দলটি। এমপি রানার অনুসারীরা রয়েছেন নিশ্চুপ। তাদের দলীয় কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায় না। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু জানান, ‘এমপি রানার কোনো জনসমর্থন নেই।

দলকে সাংগঠনিকভাবে গুছিয়ে রেখেছি। এমপি রানার সমর্থকরা তেমন প্রভাব ফেলতে পারবেন না। উপনির্বাচনেও আমি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলাম। আশা করছি, আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন পাব।’ টাঙ্গাইল-৩ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘাটাইলকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। গণসংযোগে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।’

এ আসনে বিএনপির রয়েছে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি। এমপি থাকাকালে লুত্ফর রহমান খান আজাদ এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছেন। দলে তার একক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে এর আগে তার বিপক্ষে কেউ মনোনয়ন না চাইলেও এবার দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হচ্ছেন জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মাইনুল ইসলাম। তিনি এলাকায় নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগ করছেন। জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব মাইনুল ইসলামকে সমর্থন করেছে বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুত্ফর রহমান খান আজাদ বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে ঘাটাইলের জনগণ তাকে পুনরায় নির্বাচিত করবেন।


আপনার মন্তব্য