Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৪

দুই সাংবাদিককে সাজা

সু চির সাফাই রায়ের পক্ষে

প্রতিদিন ডেস্ক

সু চির সাফাই রায়ের পক্ষে

কারাদণ্ডিত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক তাদের ৭ বছরের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন এবং আদালতের এ রায়ের সঙ্গে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। খবর : রয়টার্সের।

গতকাল ভিয়েতনামের হ্যানয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো নিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এক সম্মেলনে সু চি এসব কথা বলেন। গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে দুই সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্তে আপনার অনুভূতি কি— ফোরাম মডারেটরের এমন প্রশ্নের জবাবে সু চি বলেন, ‘সাংবাদিক হিসেবে তাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি, তাদের কারাদণ্ড হয়েছে কারণ আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা দাফতরিক গোপনীয়তা আইন ভেঙেছে। বেশিরভাগ মানুষ ওই রায়ের সারসংক্ষেপ পড়েছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে, এর (রায়) সঙ্গে মত প্রকাশের স্বাধীনতার  কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক আছে অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের। আমরা যদি আইনের শাসনে বিশ্বাস করি, তাহলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও এই বিচার কেন ভুল হয়েছে তা তুলে ধরার পুরো সুযোগ আছে তাদের।’ সাংবাদিকদের মুক্তির বিষয়ে পেন্সের আহ্বানের বিষয়ে জানতে চাইলে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এ নেত্রী বলেন, ‘সমালোচকরা কি এখানে আইনের কোনো ধরনের অপপ্রয়োগ খুঁজে পেয়েছেন? উন্মুক্ত আদালতে মামলাটি চলেছে, যারা যেতে চেয়েছে ও উপস্থিত হতে চেয়েছে তাদের সবার জন্য শুনানিও উন্মুক্ত ছিল। কারও যদি মনে হয়,  সেখানে আইনের অপপ্রয়োগ হয়েছে তাহলে তাদেরকে তা  দেখিয়ে দিতে বলবো আমি।’ হ্যানয়ের ওই আয়োজনেই মিয়ানমারের এ নোবেল বিজয়ী নেত্রী বলেলেন, তার সরকার ‘রাখাইনের পরিস্থিতিকে হয়ত আরও ভালোভাবে সামাল দিতে পারত’। চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমারের আদালত রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সো ওকে (২৮) ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়। ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক মহল দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে  দেওয়া এ রায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। বিশ্বজুড়ে রয়টার্সের এ দুই সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়ার দাবি ওঠে। রোহিঙ্গা গ্রামে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যাযজ্ঞ ও বর্বরতা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছিলেন এই দুই সাংবাদিক। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও ওই দুই সাংবাদিককে ছেড়ে দিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সু চি-র এক সময়ের ঘনিষ্ঠ, মিয়ানমারের খ্যাতনামা রাজনৈতিক বন্দী প্রয়াত উইন তিনের প্রতিষ্ঠিত একটি ফাউন্ডেশন গত বুধবার ওয়া লোন ও কিয়াও সো ও’কে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দুই সাংবাদিকের শাস্তির বিরোধিতা করে তাদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে তারা।


আপনার মন্তব্য