Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৭

প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে ইজতেমা ময়দান

কমিটি গঠন, থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে ইজতেমা ময়দান
দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর ইজতেমা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পুলিশ। টঙ্গী মাঠ থেকে গতকাল তোলা ছবি —বাংলাদেশ প্রতিদিন

গাজীপুরের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার পর ইজতেমা ময়দানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল দুপুর থেকে পুলিশ তালিকা করে মুসল্লিদের মালামাল ফেরত দিচ্ছে। মালামাল ফেরত ও ইজতেমা মাঠে অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে দুই গ্রুপের দুজন মুরব্বিকে নিয়ে ৯ সদস্যের কমিটি করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ। অন্যদিকে, হামলাকারীদের শাস্তিসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে তাবলিগ জামাতের জুবায়েরপন্থি মুসল্লিরা। এ ছাড়া ইজতেমা মাঠে সংঘর্ষের সময় পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আহত, গাড়ি ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করার অভিযোগে টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই রাকিবুল হাসান ২০-২৫ হাজার জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। তবে ইজতেমার মাঠে তাবলিগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মুসল্লি ইসমাইল মণ্ডল নিহতের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। লাশ দাফনের পর নিহতের স্বজনরা মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. এমদাদুল হক।

গত শনিবার ইজতেমা ময়দানে আধিপত্য ও নেতৃত্বের কোন্দলসহ ভারতের দিল্লির মাওলানা সাদ এবং দেওবন্দসহ কওমি মাদ্রাসাপন্থি দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন মুসল্লি মারা যান, আহত হন দুই শতাধিক। ওইদিনই বিকালে পুরো ইজতেমা ময়দানের নিয়ন্ত্রণ নেয় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। মাইকিং করে মুসল্লিদের ইজতেমা মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাড়াহুড়ো করে যেসব মুসল্লি বিছানাপত্র ও মালামাল ফেলে ইজতেমা ময়দান ত্যাগ করেছেন গতকাল তাদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিতের মাধ্যমে মালামাল ফেরত দেওয়া শুরু হয়।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন : টঙ্গী ইজতেমার মাঠে শনিবার সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাবলিগ জামাতের সা’দবিরোধী ও হেফাজতে ইসলামপন্থী কওমি আলেমরা। তারা বলেন, সা’দপন্থী ওয়াসিফুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন নাসিমের অনুসারীরা নিরস্ত্র নিরীহ তাবলিগের সাথী ও মাদ্রাসার ছাত্রদের ওপর লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র, ইটপাটকেল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ অবস্থায় প্রশাসকের ভূমিকা ছিল নীরব ও রহস্যজনক। পুলিশ দাঁড়িয়ে দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। গতকাল রাজধানীর পুরানা পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসিফুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন নাসিমকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আজ সারা দেশে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভিক্টোরিয়া পার্ক মসজিদের ইমাম ও তাবলিগের মুরব্বি মাওলানা আমানুল হক। উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা জুবায়ের আহমদ, নূর হুসাইন কাসেমী, মাওলানা ওমর ফারুক, যুবায়ের আহমদ চৌধুরী, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মুফতি জহির ইবনে মুসলিম, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা মামুনুল হক, আবদুল বারী প্রমুখ।

নিন্দা ও বিচার দাবি :  বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিচার দাবি করেছেন ঢাকার জামিয়া ইসলামিয়া আযমিয়া দারুল উলুম রামপুরা বনশ্রী মাদরাসার মুহতামিম ও শাইখুল হাদীস মাওলানা ইয়াহ্ইয়াহ মাহমূদ। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মুসল্লিদের উপর জঙ্গি স্টাইলে হামলা করে সা’দপন্থীরা তাদের প্রকৃত চেহারা প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে তিনি সা’দপন্থীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমাদের প্রতি আহ্বান জানান।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর