শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২০

নদী বাঁচাও ৬

তিতাস একটি ফসলের মাঠ

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

তিতাস একটি ফসলের মাঠ
তিতাসের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ফসলের মাঠ -বাংলাদেশ প্রতিদিন

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা তিতাস নদী এবং এর শাখাগুলো এখন মুরাদনগরবাসীর দুঃখ। ইতিমধ্যে উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে নদীটি। বর্তমানে পানি শুকিয়ে নদীটি রূপ নিয়েছে আবাদি জমিতে। নদীতে পানি না থাকায় সেচের অভাবে হুমকিতে পড়েছে উপজেলার কয়েক হাজার হেক্টর জমির ইরি-বোরো আবাদ। স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভূমিহীন সেজে নামে-বেনামে দখল করে বিস্তীর্ণ নদীর বুকজুড়ে চালাচ্ছে বোরো ধানের চাষ। নাব্যতা সংকটের কারণে একসময়ের স্রোতস্বিনী তিতাস নদীতে নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে অনেক আগেই।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিতাস নদীর কোনো কোনো স্থানে পলিমাটি জমে জেগেছে চর আবার কোথাও হাঁটুপানি। নদীর ওপরের ভাগে ধানের বীজতলা ও নদীর তলায় ধান রোপণ করার দৃশ্য চোখে পড়ে। মনে হয় নদীর কোনো অস্তিত্ব নেই। এর ফলে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী থেকে মুরাদনগর, হোমনা, নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার লোকজন লঞ্চ দিয়ে মালামাল নিয়ে আসা-যাওয়া করত। তখন লঞ্চই ছিল একমাত্র যাতায়াতের উপায়। লঞ্চ যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করে এলাকার মানুষ। তিতাস নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে তাও আস্তে আস্তে বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে। বেকার হয়ে পড়েছে এলাকার জেলে সম্প্রদায়। বাঁচার তাগিদে অনেকে চলে গেছে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায়। রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক ছলিম উদ্দিন জানান, কৃষিকাজে সেচ, গোসলসহ গৃহস্থালি কাজের জন্য পানির চরম সংকটে পড়েছেন নদীপাড়ে বসবাসকারীরা। এ ছাড়া পানি শুকিয়ে যাওয়ায় নদীতে মাছধরারও সুযোগ নেই জেলেদের। এতে নদীপাড়ের গ্রামের জেলেরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে এই নদী খনন করা হোক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন রাসেল জানান, সারা বছরে এ উপজেলায় তিন ধরনের ধান চাষ হয়। এর মধ্যে বোরো ১৭ হাজার ৭৫০ হেক্টর, আউশ সাত হাজার ৫০০, রোপা আমন পাঁচ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে। সর্বমোট ৩১ হাজার ২৪০ হেক্টর জমি চাষ করেন কৃষক। এর মধ্যে সেচব্যবস্থার অভাবে উপজেলার সদর, রামচন্দ্রপুর উত্তর ও শ্রীকাইল ইউনিয়নে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে। অথচ একসময় তিতাস নদীর পানি ওই এলাকার কৃষকদের প্রয়োজনীয়তা মেটাত।


আপনার মন্তব্য