শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:২৯

ঐতিহ্য

বিলুপ্তির পথে মান্দার সোনাবিবির মসজিদ

নওগাঁ প্রতিনিধি

বিলুপ্তির পথে মান্দার সোনাবিবির মসজিদ

নওগাঁ সদর উপজেলা থেকে ৩৫ কিলোমিটার পশ্চিমে মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামে সোনাদিঘির দক্ষিণ পাড়ে সোনাবিবির মসজিদ। যা সুলতানি আমলের একটি প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন। ৬ ফুট পুরুত্বের দেয়ালবিশিষ্ট এবং ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থ মসজিদটির দক্ষিণ-পশ্চিমের ভিটাগুলোতে  বিধ্বস্ত পাকাবাড়ির ধ্বংসাবশেষ, বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো-ছিটানো ইট ও কংকরের প্রাচুর্যতা দেখে সহজেই অনুমান করা যায় একটি রাজকীয় প্রশাসনিক স্থান তথা আন্তঃপ্রাদেশিক অঞ্চল থাকায় এই স্থান অতীতে নগর সভ্যতায় উন্নত ছিল। সোনাবিবির মসজিদের পাশে গৌড়ের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহর বেগম কুসুমবিবির বাসস্থান ছিল বলে কিংবদন্তি প্রচলিত আছে।

সরেজমিন দেখা যায়, ধ্বংসপ্রাপ্ত সোনাবিবির মসজিদের চার কোনের ৩ পিলার এবং কিছু অংশ আজও কালের সাক্ষী হয়ে তার অতীত অস্তিত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে। ২০০৪ সালে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপরই নির্মিত হয়েছে কুসুম্বা সোনামসজিদ হাফেজিয়া মাদ্রাসা। আর এটি তৈরি করতে গিয়ে নষ্ট করা হয়েছে মসজিদটির প্রাচীন কিছু নিদর্শন।

মসজিদে প্রবেশ দরজার একটি পাথরের চৌকাঠ এখনো দাঁড়িয়ে থাকলেও অন্য অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত ইটপাথরের সঙ্গে পূর্বদিকে পড়ে আছে। শামস উদ্দীন আহম্মদ রচিত এবং রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘ওঠ’ গ্রন্থের ১৫৫ পৃষ্ঠায় লিখিত একটি তথ্য মতে, রাজশাহী জেলা পরিষদের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সুরেন্দ্র মোহন চৌধুরী সোনাদিঘির দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত সোনাবিবির মসজিদের ধ্বংস স্তূপ থেকে একটি শিলালিপি আবিষ্কার করেন। এতে ধ্বংসপ্রাপ্ত সোনাবিবির মসজিদ খ্রিস্টাব্দ ১৪৯৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর মোতাবেক আরবি ৯০৪ হিজরির ১৩ জমাদিউল আওয়াল তারিখে নির্মিত হয়েছিল। ‘রিয়াজ-উস-সালাতীন’ থেকে সুখময় মুখপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন, ‘হোসেন শাহ তাঁর পিতা আশরাফ আল হোসেন ও ভ্রাতা ইউসুফের সঙ্গে সুদূর তুর্কিস্থানের “তারমুজ” শহর থেকে রাঢ়ের চাঁদপুর মৌজায় বসতি স্থাপন করেন। সেখানকার কাজী তাদের দুই ভাইকে শিক্ষা দেন এবং তারা উচ্চ বংশমর্যাদার কথা জেনে নিজের কন্যার সাথে বিবাহ দেন।’ এরপরে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ গৌড়ের সুলতান হন। কিন্তু এর পরের ঘটনা আরও চমকপ্রদ। এই কাহিনীগুলো ইতিহাসে লিপিবদ্ধ নেই কিংবদন্তিতে প্রচলিত। সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহর বেগম কুসুম্বা অঞ্চলে বনবাসে এলে এই অঞ্চল পুনরায় নগর সভ্যতায় উন্নত হয়। সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ কুসুম্বা অঞ্চলকে একটি প্রাদেশিক মর্যাদায় উন্নীত করেন। এই প্রদেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিযুক্ত করেছিলেন (সম্ভবত) রামনদলকে। যিনি ৯০৪ হিজরিতে সোনাদিঘির দক্ষিণ পাড়ে সোনাবিবির মসজিদ নির্মাণ করেন।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, আমি যতটুকু বিভিন্ন বই-পুস্তক ও সরেজমিন জানতে পেরেছি তা হচ্ছে কিংবদন্তি আছে, সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহর ‘সোনা’ নামের আদরের একটি কন্যা ছিল। অকালে তার প্রয়াণ হলে মানসিকভাবে সুলতান ভেঙে পড়েন। এ সময় তার এক কন্যার স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, আর সেই মসজিদই নাকি ‘সোনামসজিদ’। যা সুলতানি আমলের একটি প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শণ হতে পারে। আমি ইতিমধ্যে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরে যোগাযোগ করছি, যাতে ঐতিহাসিক এ স্থানটি সংরক্ষণের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর