Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মে, ২০১৯ ২২:৫৮

টিএসসির সবুজ চত্বরে অন্যরকম ইফতার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

টিএসসির সবুজ চত্বরে অন্যরকম ইফতার

আড্ডা-গান আর হৈ-হুল্লোড়ে সারা বছরই মেতে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র-টিএসসি। দেশের শিল্প-সাহিত্যের এই প্রাণকেন্দ্র বছরজুড়েই কর্মচঞ্চল থাকে কোনো না কোনো উৎসবের আমেজে। তবে সিয়াম সাধনার মাস রমজান টিএসসির চিরচেনা এই দৃশ্যে নতুন মাত্রা যোগ করে।

বিকাল হতেই টিএসসির সবুুজ চত্বর ভরে যেতে থাকে নানা বয়সী  মানুষের উপস্থিতিতে। খোলা আকাশের নিচে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নানা পেশার মানুষ ভিড় জমাতে থাকেন। কেউ আসেন বন্ধুদের নিয়ে, কেউবা পরিবারের সঙ্গে। হাতে নানা রঙের ঠোঙা, পানির বোতল আর পত্রিকা নিয়ে দলে দলে গোল হয়ে বসে পড়েন মাঠে। ছোট বা বড় দল, সবার উদ্দেশ্যই এক। সারা দিনের সিয়াম সাধনার পর বন্ধু-বান্ধব বা পরিজনদের নিয়ে ইফতার করা। বাহারি আইটেমের ইফতার সামগ্রী কেনা হয় দলের সবার দেওয়া চাঁদা দিয়ে। এ আয়োজনে থাকে মুড়ি, ছোলা, খেজুর, জিলাপি, বেগুনি, চিকেন পাকোড়া, বুরিন্দা, আলুর চপ ইত্যাদি। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা যত ঘনিয়ে আসে মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ছাত্রছাত্রীর এই মিলনকেন্দ্র।

 কেউ কেউ মাঠে জায়গা না পেয়ে বসে পড়েন টিএসসির ভিতরে-বাইরের করিডরে। ইফতার আয়োজনের পাশাপাশি চলতে থাকে আড্ডাবাজি। অনেকে ছাত্রী হল থেকে রান্না করে নিয়ে আসেন বন্ধু-বান্ধুবদের খাওয়াতে। ইফতার শেষেও চলে আড্ডা-গল্প। বন্ধুদের সঙ্গে খোলা আকাশের নিচে ইফতারের এ আয়োজন যেন তাদের আড্ডার আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।

বিকাল থেকে ইফতারের আয়োজন নিয়ে টিএসসিতে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন তিন বন্ধু সাইফ, লিমা, মাহবুব। এদের কেউই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকেন না। কথা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে পড়ুয়া সাইফের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি হলে থাকি না কিন্তু বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ইফতারের আনন্দ উপভোগ করতে টিএসসিতে এসেছি। বন্ধুদের ছাড়া ইফতার আড্ডা কোনোটাই জমে না।’ বহুজাতিক তিন কোম্পানিতে কর্মরত আছেন ইফতেখার আলম, হুসাইন আহমেদ আর মিথুন চৌধুরী। তারা তিনজনই সাবেক শিক্ষার্থী। কাজের ফাঁকে সময় মিলতেই তিন বন্ধু এসেছেন একসঙ্গে ইফতার করতে। তারা বেছে নিয়েছেন টিএসসিকে। মিথুন চৌধুরী জানালেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি জায়গার সঙ্গে আমাদের স্মৃতি মিশে আছে। তবে টিএসসির প্রতি আবেগটা একটু বেশিই। তাই সময় পেলেই ছুটে আসি টিএসসিতে। আজ যেমন এসেছি বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারের আনন্দ ভাগাভাগি করতে।’ অনেক দিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ মেলায় টিএসসিতে ইফতার করতে আসার অন্যতম কারণ বলেও জানালেন তিনি।

এদিকে টিএসসির এ ইফতারের মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে টিএসসি সড়কদ্বীপ, মিলন চত্বর, হাকিম চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট, শামসুন্নাহার হলের সামনের প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রায় ২০-২৫টি অস্থায়ী দোকান। বিকাল গড়াতেই ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। ইফতার সামগ্রী কিনতে দোকানগুলোতে ভিড় জমান অসংখ্য ক্রেতা। তবে এর আগের বছরগুলোতে ইফতারের পর উচ্ছিষ্ট আবর্জনায় ময়লা হয়ে যেত পুরো টিএসসি। এতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হতো। এ অসুবিধা দূর করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদারের উদ্যোগে মাঠে স্থাপন করা হয়েছে বেশকিছু ডাস্টবিন। বিষয়টি নিয়ে আসিফ তালুকদার বলেন, প্রতিবছরই রমজানে ইফতারকে উপলক্ষ করে টিএসসি মিলনমেলায় পরিণত হয়। তবে একটু সচেতনতার অভাবে ইফতার আয়োজনের পর ময়লা রেখে যাওয়ায় টিএসসি আবর্জনায় ভরে যেত। তাই এবার পর্যাপ্তসংখ্যক ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিএসসিকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাইকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। সবার সহযোগিতায় আরও সুন্দর টিএসসি গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।


আপনার মন্তব্য