Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৪৬

নৌকায় সংসার

মেজবাহ্-উল-হক, লন্ডন থেকে

নৌকায় সংসার

কয়েক বছর আগের ঘটনা। নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডাম থেকে এক তরুণী পড়তে এসেছিলেন লন্ডনে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে তিনি দেশে ফিরেছিলেন। পাঁচ বছরে লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে বাসস্থানের জন্য তাকে এক পাউন্ডও খরচ করতে হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে ‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকায় ফিচার ছাপা হওয়ার পর বেশ হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল! কিন্তু কীভাবে সেই ডাচ তরুণী নিজের বাসস্থানের খরচ বাঁচিয়েছেন?

পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হেমলেটের জেলা লাইমহাউস! বাসস্থানের জন্য টেমস নদীর তীরবর্তী এই নিরিবিলি জায়গাকেই বেছে নিয়েছিলেন সেই তরুণী। আর এখানে এসে তিনি ৮ হাজার পাউন্ড দিয়ে একটি নৌকা কিনে নেন। পড়াশোনা চলাকালীন সেই নৌকাতেই কাটিয়ে দেন পাঁচ বছর। দেশে ফেরার সময় কাকতালীয়ভাবে ঠিক ৮ হাজার পাউন্ডেই নৌকাটি বিক্রি করেন। এভাবেই বাঁচিয়েছেন বাসস্থানের খরচ। এই লাইমহাউসে দিন দিন আরও আকর্ষণীয় হচ্ছে নৌকার জীবন। ধীরে ধীরে নৌকার সংখ্যাও বাড়ছে। প্রতিটি নৌকায় জীবনযাপনের জন্য আধুনিক সব সরঞ্জামাদিই আছে। এক একটি নৌকা যেন একটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট। উচ্চবিত্তদের অনেকেই জীবনে বৈচিত্র্য আনতে বেছে নিয়েছেন নৌকা। অনেকে আবার বছরের পর বছর ধরে এই নৌকাতেই সংসার পেতে বসেছেন। ফ্ল্যাট কেনার পরিবর্তে অনেক শৌখিন ছোট পরিবার নৌকার জীবন বেছে নিয়েছে। ফ্ল্যাট তো আর সরানো যায় না, কিন্তু চাইলেই নৌকা নিয়ে যে কোনো জায়গায় ঘুরে আসা যায়। তবে প্রতিটি নৌকার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা আছে। নিরাপত্তার জন্য আলাদা ব্যবস্থাও আছে। সিটি করপোরেশনের কাছে প্রতিটি নৌকাই একটি ফ্ল্যাট হিসেবে চিহ্নিত হয়। প্রতিটি নৌকার আলাদা কোড আছে। নৌকায় বসবাসকারীদের জন্য আছে আলাদা পোস্ট কোডও। স্থানীয় সব নাগরিক-সুবিধাও পান তারা। নৌকায় বিদ্যুৎ সংযোগের জন্যও ব্যবস্থা আছে। আছে সৌর বিদ্যুৎও। কেউ কেউ আবার নৌকার ছাদে শৌখিন বাগানও করছেন। লাইমহাউসে কথা হয় নৌকার বাসিন্দা ক্রিস্টোফার বার্টলেটের সঙ্গে। ইন্ডিগো সাফারিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ক্রিস্টোফার ছয় ধরে বছর নৌকায় বাস করছেন। সঙ্গে আছে তার স্ত্রী এলিনা এবং দুই ছেলে সান ও ফিন। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে ক্রিস্টোফার বলেন, ‘আমি এখন এই নৌকাতে  থেকেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এটাই আমার বাড়ি। আমার খুবই ভালো লাগে। মাঝে মাঝে উইকেন্ডে আমি নৌকা নিয়ে ঘুরতেও যাই।  আমাদের পরিবারের সবাই খুবই উপভোগ করছি নৌকার সংসার জীবন! এখানকার সব কিছুই আমাদের অনেক ভালো লাগে।’ এখানে বসবাসের জন্য নৌকা ভাড়াও পাওয়া যায়। কেউ ২৪ ঘণ্টার জন্য ভাড়া নেন। দু-তিন দিন কিংবা সপ্তাহ, মাসের জন্যও ভাড়া নিয়ে আছেন অনেকে। তবে যাদের বেশি দিন থাকার ইচ্ছা তারা কিনেই নেন। নৌকার আকার ও সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করে দামও কম বেশি হয়। তবে চাইলেই কেউ ইচ্ছামতো দাম হাঁকাতে পারবেন না। অনুমতি লাগবে সিটি করপোরেশনের।


আপনার মন্তব্য