Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:১২

বাস-প্রাইভেট কার সংঘর্ষ

তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ ঝরল চার প্রাণ

নরসিংদী প্রতিনিধি

তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ ঝরল চার প্রাণ
এ গাড়িতেই চড়ে তুলেছিলেন সেলফি। বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে প্রাইভেট কারটি। মারা গেছেন চারজন - বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঈদের এক সপ্তাহ আগে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার সাথীর সঙ্গে ইমরানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ঈদ উৎসব পালন। তারপর হানিমুন। এর সঙ্গে সিলেটে মাজার জিয়ারত। ঈদ আনন্দ হয়েছে। হানিমুন হয়েছে। মাজার জিয়ারতও হয়েছে। তবে বাড়ি ফেরা হয়নি এই দম্পতির। পথেই বাসের চাপায় তারা পিষ্ট হয়ে চলে যান না ফেরার দেশে।  মেহেদির রং এখনো মুছেনি। যায়নি বিয়েবাড়ির ধুম। এরই মধ্যে নবদম্পতিসহ চারজনের মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ হয়ে গেছে নিহতের পরিবার। শোকে কাতর হয়ে গেছেন স্বজনরা। মৃত্যুর খবরে হুমড়ি খেয়ে পড়েন হাসপাতাল চত্বরে। স্বজনদের হৃদয়বিদারক আর্তনাদ আর কান্নায় ভারি হয়ে উঠে হাসপাতাল চত্বর। এদিকে ঘাতক বাসটিকে আটক করলেও চালক পালিয়ে গেছেন। গতকাল রাত আড়াইটার দিকে সিলেট থেকে ফেরার পথে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কারারচর এলাকায় শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস-প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীসহ ৪ জন নিহত হন। আহত হন আরও ৪ জন। মুমূর্ষু অবস্থায় আহত প্রাইভেট কারের যাত্রী সজলসহ বাসের ৩ যাত্রীকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। 

নিহতরা হলেনÑ প্রাইভেট কারের যাত্রী ঢাকার মিলেনিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএর শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার সাথী (২৬), তার স্বামী ইমরান হোসেন (৩৫), বান্ধবী জান্নাত রাইসা (২৫) ও বন্ধু আকিবুল হাসান (২৭)। নিহত সাদিয়া আক্তার সাথী বগুড়া জেলার মোশাররফ হোসেনের মেয়ে এবং তার স্বামী ইমরান নোয়াখালীর আবু হানিফের ছেলে। তিনি ঢাকায় ডেকোরেটরের ব্যবসা করতেন।

হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিয়ের পর মিলেনিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া হানিমুন করতে সিলেট গিয়েছিলেন। হানিমুন ও মাজার জিয়ারত শেষে বন্ধুদের নিয়ে ইমরান প্রাইভেট কার চালিয়ে সিলেট থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। প্রাইভেট কারটি শিবপুরের কারারচর এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক ঢাকা থেকে আসা সিলেটগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় প্রাইভেট কারটি ধুমড়ে-মুচড়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নবদম্পতিসহ প্রাইভেট কারে থাকা ৩ যাত্রী মারা যান। খবর পেয়ে ইটাখোল হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস নরসিংদী ও শিবপুরের ৪টি ইউনিট দুর্ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে। আহতাবস্থায় বাস ও প্রাইভেট কারের আরও ৫ যাত্রীকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর শুনে সকালে জেলা হাসপাতালে ছুটে আসেন নিহতের স্বজনরা। নিহত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সাথী আক্তারের ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মাসের ৬ তারিখ সাথী ও ইমরানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ঈদের ছুটিতে গত ৪ দিন আগে হানিমুন ও মাজার জিয়ারত করতে বন্ধুদের নিয়ে সিলেট যায়। ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। পুলিশের কাছ থেকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে এসেছেন।

নিহতের মা রহিমা বেগম বলেন, মাত্র ১০ দিন আগে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। হাতের মেহেদি রং এখনো মুছেনি। এর আগেই দুর্ঘটনা আমার মেয়ে ও মেয়ের স্বামীকে কেড়ে নিয়েছে। আমি এখন বাঁচব কী করে? মিলেনিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএর শিক্ষার্থী সুজন বলেন, মাত্র কিছুদিন আগে ইমরানের সঙ্গে আমাদের সহপাঠী সাদিয়ার বিয়ে হয়। জান্নাত রাইসা ও আকিবুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার তারা ঈদের ছুটিতে সিলেট গিয়েছিল। আসার পথে এই মর্মান্তিক মৃত্যু। নরসিংদী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা দুর্ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা প্রাইভেট কারে তিনজনকে আটকা অবস্থা দেখতে পাই। তাদের উদ্ধার করলে দেখা যায় তারা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রাইভেট কারটি ওভারটেকিং করতে গিয়ে বাসের সঙ্গে লেগে যায় এবং গাড়িটি ঘুরে যায়। তখন বাসটি একেবারে প্রাইভেট কারের ওপর দিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে কারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ইটাখোলা হাইওয়ের উপ-পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, মূলত বেপরোয়া গতিতে পাশ কাটাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় ৩ শিক্ষার্থীসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটিকে আটক করা হয়েছে। তবে চালককে আটক করা যায়নি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর