শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫১

সুন্দরবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে

ড. ইফতেখারুজ্জামান

সুন্দরবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে

সুন্দরবনের কারণেই বাংলাদেশে ঢুকে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের শক্তি হ্রাস পেয়েছে।  বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কম হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের স্বার্থেই সুন্দরবন সুরক্ষায় অবিলম্বে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ এবং সুন্দরবনকে ঘিরে যে পরিবেশবিনাশী শিল্পায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান গতকাল এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে সুদৃঢ় বর্ম হয়ে এ অঞ্চলকে রক্ষায় সুন্দরবনের অবদান অনস্বীকার্য। নিশ্চিদ্র সুরক্ষাবেষ্টনী হয়ে সুন্দরবন বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল বাংলাদেশের প্রাণ ও সম্পদ রক্ষা করে আসছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে আঘাত হানার আগেই সাম্প্রতিক প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের শক্তি হ্রাস করে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন।

যা বুলবুলের পরিপ্রেক্ষিতে আবহাওয়া অধিদফতরসহ সরকারি সংশ্লিষ্ট মহল থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর আগেও প্রলয়ঙ্করী সিডর, আইলাসহ আরও বহু মহাদুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপকতর হতে দেয়নি সুন্দরবন। শুধু দুর্যোগ থেকে রক্ষায় নিরাপত্তাবেষ্টনী হিসেবে নয়, সুন্দরবন এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম রক্ষাকবচ। তাই সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশকেই সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সুন্দরবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে বৈশ্বিক ও স্থানীয় উদ্বেগ ও পরামর্শ উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কৌশলগত পরিবেশগত সমীক্ষা ছাড়াই সুন্দরবনের সন্নিকটে রামপাল, তালতলী ও কলাপাড়ায় বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বহুমুখী ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পায়ন চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অথচ ইতিমধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি কর্তৃক সুন্দরবনকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্য’র তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারপরও নিজের পায়ে কুড়াল মারার মতো সব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা উপেক্ষা করেই সুন্দরবনের বিনিময়ে উন্নয়নের এ প্রক্রিয়া এখনো বন্ধ হয়নি। 


আপনার মন্তব্য