শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:৫১

আধুনিক সব সুবিধা থাকছে বসুন্ধরায় হাসপাতালে

করোনা চিকিৎসায় যত দিন প্রয়োজন ব্যবহার করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

আধুনিক সব সুবিধা থাকছে বসুন্ধরায় হাসপাতালে

করোনাভাইরাস আক্রান্তের চিকিৎসায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) নির্মিত দেশের বৃহত্তম অস্থায়ী হাসপাতালটিতে থাকছে আধুনিক হাসপাতালের সব সুযোগ-সুবিধা। হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মিত হয়ে গেছে। আজ শুক্রবার পৃথক বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা। এটা হলেই চালু হয়ে যাবে বিদ্যুৎসংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাজ ও যন্ত্রপাতি। এরপর উদ্বোধন করে চিকিৎসাসেবা শুরুর অপেক্ষা। গতকাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। উল্লেখ্য, কভিড-১৯ বিপর্যয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং সরকারের যত দিন ব্যবহারের প্রয়োজন শেষ না হবে তত দিন বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে আইসিসিবিকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে আইসিসিবিকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১২ এপ্রিল কাজ শুরু করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। আইসিসিবিতে নির্মিত হাসপাতাল চত্বর ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসক ও নার্সের চেম্বারগুলোর কাজ শেষ। বেডগুলোয় বেডশিট, ডাস্টবিন, স্যালাইন হ্যাঙ্গারসহ আনুষঙ্গিক সাপোর্ট বসানো হয়েছে। টয়লেট নির্মাণও শেষ। হাসপাতালের এসি, চেয়ারসহ অন্যান্য কাজের ফিনিশিংও একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে। মাসুদুল আলম বলেন, ‘হাসপাতাল প্রস্তুত। এখন শুধু পৃথক বিদ্যুৎ সংযোগের অপেক্ষায় আছি। বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমোদন পেয়েছি। শুক্রবার সংযোগ দেওয়ার কথা। এটা হলেই বিদ্যুৎসংশ্লিষ্ট সব ধরনের যন্ত্রপাতি চালু হয়ে যাবে। একটা তাঁবুর মধ্যে হাসপাতালটি হলেও আধুনিক যত ধরনের যন্ত্রপাতি ও সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার সবই এখানে আছে। ফায়ার ফাইটিং, রোগীদের পানের জন্য সার্বক্ষণিক বিশুদ্ধ পানি, ডাক্তার ও নার্সদের জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থাসহ আধুনিক ও নিরাপত্তামূলক সব ব্যবস্থা থাকছে এখানে। আমার মনে হয়, এ হাসপাতালটি শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার জন্য উদাহরণ হতে পারে। আশপাশের কোনো দেশে এত দ্রুত এত বড় আধুনিক সুবিধাসংবলিত হাসপাতাল হয়নি। ব্যয়বহুল হওয়ার পরও এখানে ৭১ বেডের আইসিইউ হচ্ছে। তবে এটা নিয়ে এত দিন সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি। এখন সাত দিনের মধ্যে করে ফেলতে পারব বলে আশা করছি। কাজ শুরু হয়ে গেছে। আইসিইউ ছাড়া ২ হাজার ১৩ বেড প্রস্তুত আছে। এ ছাড়া ভেনটিলেটরের কোনো সমস্যা হবে না। পর্যাপ্ত ভেনটিলেটর মজুদ আছে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল বর্জ্য রাখার জন্য প্লান্ট করেছি। ওখানে বায়ো-হ্যাজার্ড ব্যাগে বর্জ্যগুলো থাকবে। উত্তর সিটি করপোরেশন এগুলো ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে পুড়িয়ে ফেলবে। দায়িত্ব পালন শেষে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর ডিজইনফেকটেড হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া এখানে রোগী, ডাক্তার, নার্সদের হাসপাতালে ঢোকা এবং বের হওয়ার জন্য থাকবে আলাদা রাস্তা।’ তথ্যানুযায়ী, হাসপাতালে মোট আইসোলেশন বেড হবে ২ হাজার ১৩টি। ট্রেড সেন্টারে ছয় ক্লাস্টারে ১ হাজার ৪৮৮টি বেড বসবে। এ ছাড়া তিনটি কনভেনশন হলে থাকবে আরও ৫২৫টি বেড। এর বাইরে ৪ নম্বর হলে ৭১ বেডের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে সরকারকে আইসিসিবিতে ৫ হাজার শয্যার একটি সমন্বিত অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিলে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল পরিদর্শন করে হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। নানা হিসাব-নিকাশ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানে ২ হাজার ১৩ শয্যার হাসপাতাল ও ৭১ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। আইসিসিবির সুবিশাল চারটি কনভেনশন হল ও একটি এক্সপো ট্রেড সেন্টারে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ হাসপাতালটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর