শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মে, ২০২০ ০০:০৭

ঈদযাত্রা ঠেকাতে পথে পথে চেকপোস্ট

ঢাকায় ঢুকতে ও বের হতে লাগবে বিশেষ পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদযাত্রা ঠেকাতে পথে পথে চেকপোস্ট

একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঢাকায় প্রবেশ বা এখান থেকে বাইরে  বের হতে পারবেন না। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে এবারের ঈদযাত্রা  ঠেকাতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। পথে পথে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। এমনকি আজ শুক্রবার থেকে ঢাকা থেকে বের হতে এবং ঢাকায় ঢুকতে হলে মুভমেন্ট পাস নিতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

এদিকে সড়ক ও মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না- এমন কড়া নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। সংস্থাটি বলেছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কোনো কোনো পণ্যবাহী যানবাহন কৌশলে যাত্রী পরিবহন করছে- যা সরকারি আদেশ অমান্যের শামিল এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

গতকাল ঢাকার প্রবেশপথ সাইনবোর্ড ও পোস্তগোলা ব্রিজ এলাকায় দেখা গেছে, ঈদযাত্রা ঠেকাতে সড়কের একটি লেন খোলা রেখে পুরো রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে পুলিশ। দুই দিন ধরে এই দুই প্রবেশপথে চেকপোস্ট বাড়িয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগ। এসব পথ দিয়ে যারাই চলাচল করছেন- প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পণ্যবাহী পরিবহন এবং সেবা সংস্থার গাড়ি ছাড়া সব ধরনের যানবাহন আটকে দেওয়া হয়। এমনকি পায়ে হেঁটে যাওয়া মানুষদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপরও কিছু মানুষ দীর্ঘ পথ হেঁটে হেঁটে ব্যারিকেড পেরিয়ে ঢাকা থেকে বের হয়ে যান। সেখানে চেকপোস্টের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গতকাল দুপুরে পোস্তগোলায় সশরীরে চেকপোস্টের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শাহ আবিদ হোসেন ও ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) শাহ ইফতেখার আহমেদ। এ সময় তারা ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কড়াকড়ি ধরে রাখার নির্দেশনা দেন। সাইনবোর্ড, পোস্তগোলা ছাড়াও বাবুবাজার ব্রিজ, ডেমরা ব্রিজ, আবদুল্লাহপুর এবং গাবতলী প্রবেশপথে চেকপোস্টের নজরদারি বাড়ানো হয়, যাতে কেউ সাহরির পরে কিংবা ইফতারের সময় ঢিলেঢালা সুযোগ নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ কিংবা বের হতে না পারে- সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পুলিশের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের রোস্টার অনুসারে এসব চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। মাঝরাত এবং ভোররাতেও পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা চেকপোস্ট পর্যবেক্ষণে রাখবেন।

ওয়ারী বিভাগের ডিসি শাহ ইফতেখার আহমেদ জানান, মানুষের ঢল থামানো খুবই কঠিন। ঝুঁকি জেনেও মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। তবে তারা সব পর্যায় থেকে ঈদযাত্রা ঠেকাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন, যাতে কোনোভাবেই মানুষ ঢাকা থেকে বের কিংবা প্রবেশ করতে না পারে। তবে পণ্যবাহী এবং সেবা সংস্থার গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করবে। ডিএমপি সূত্র জানায়, গত ১৭ মে সকাল থেকেই ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে নজরদারি আরও কঠোর করা হয়। মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কোনো ব্যক্তি একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকায় প্রবেশ বা ঢাকা থেকে বাইরে যেতে পারবেন না। তবে জরুরি সেবা ও পণ্য সরবরাহ কাজে নিয়োজিত যানবাহনসমূহ এই নিয়ন্ত্রণের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। তাদের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এ অবস্থায় যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি যানবাহন ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে উ™ভূত করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পুলিশ অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে যথোপযুক্ত কারণ দেখিয়ে বাইরে যাওয়ার সুযোগ খোলা রেখেছে। https://movementpass.police.gov.bd ঠিকানায় গিয়ে আবেদনের মাধ্যমে মুভমেন্ট পাস সংগ্রহ করা যাবে।

এদিকে গতকাল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, যেসব পণ্যবাহী যানবাহন যাত্রী পরিবহন করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. আবু নাছের জানিয়েছেন, সাধারণ ছুটির ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সম্প্রতি এক আদেশে গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্ত ৩০ মে পর্যন্ত বর্ধিত করে এবং পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না মর্মে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, অনলাইন লিঙ্কে ঢুকে মুভমেন্ট পাসের জন্য আবেদন করতে হবে। মুভমেন্ট পাস ক্লিক করে মোবাইল নম্বরটি প্রবেশ করাতে হবে। অতঃপর আপনার মোবাইলে একটি ওটিপি চলে যাবে। ওটিপি প্রবেশ করালে পাসের জন্য আবেদন করা যাবে। মুভমেন্ট পাস নেওয়ার জন্য যেসব তথ্য দিতে হবে- যে থানা এলাকা থেকে যাবেন, যে থানা এলাকায় যাবেন, নাম, লিঙ্গ, বয়স, ভ্রমণের কারণ, পাস ব্যবহারের তারিখ ও সময়, পাসের মেয়াদ শেষের তারিখ ও সময়, পরিচয়পত্র, নিজস্ব গাড়ি কিনা এবং ছবি। যেসব কারণে বাইরে যাওয়া যাবে- মুদি মালামাল কেনাকাটা, কাঁচা বাজার, ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসা, চাকরি, কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন, পণ্য সরবরাহ, ত্রাণ বিতরণ, পাইকারি/খুচরা ক্রয়, পর্যটন, মৃতদেহ সৎকার, ব্যবসা ও অন্যান্য। পরিচয়পত্র হিসেবে কী কী ব্যবহার করা যাবে- জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন এবং স্টুডেন্ট আইডি। প্রতিবার যাতায়াতের জন্য পাস নিতে হবে, একটি পাস একবার ব্যবহারযোগ্য। যাওয়া এবং আসার জন্য দুটি আলাদা পাসের আবেদন করতে হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর