শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৩২

সামগ্রিক পরিস্থিতি খারাপ

-আবদুল আউয়াল মিন্টু

সামগ্রিক পরিস্থিতি খারাপ

করোনা মহামারীতে বিদায়ী ২০২০ সালে কৃষি খাতের ব্যবসা ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এ খাতের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর মতে, ‘প্রায় ঘরে বসেই কেটেছে চলতি বছর। বেশির ভাগ লোকই ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু কৃষি খাত ভালো যাচ্ছে। ভোগ্যপণ্য ভালো যাচ্ছে। আমার ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বহুমুখী হওয়ায় আমি ভালো আছি। অন্যরা ভালো নেই। আর দুনিয়াজুড়েই ব্যবসা- বাণিজ্য খারাপ। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতিই খারাপ।’ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, কৃষি খাতের ব্যবসা ভালো। এ খাতে আমদানি কমেছে। কৃষিপণ্যের আমদানি কমে চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু রপ্তানির অবস্থা খারাপ। এ অবস্থা সহজেই কেটে যাবে না। আগামী বছর এপ্রিল ও মে মাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া শুরু হতে পারে। আসলে সব দেশেই ব্যবসা-বাণিজ্য খারাপ। মাল্ডিমোড গ্রুপের এই কর্ণধার বলেন, ২০২০ সালে বিশ্ব¦ব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মহামারীতে রপ্তানিকারকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ খাতের ব্যবসায়ীরা বড় সমস্যায় আছেন। কারণ বৈশ্বিক চাহিদা কম। তাই দেশীয় পণ্যের চাহিদা বাড়াতে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন। যদিও ৫০ শতাংশ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। বিএনপির এই ভাইস-চেয়ারম্যান বলেন, ওষুধের ব্যবসা খুব ভালো। কৃষিতেও ভালো করছে বাংলাদেশ। মূল সমস্যা হলো, যারা পণ্য উৎপাদন করেন, তাদের বেশির ভাগই এগুলো বিক্রি করেন দেশে। ভালো করতে হলে দেশে উৎপাদনশীল পণ্যের চাহিদা বাড়াতে হবে। ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কাটাতে দেশীয় উৎপাদনশীল কিছু খাতে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট স্থগিত রাখা উচিত। এই শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা মনে করেন, ‘রপ্তানিনির্ভর ব্যবসায়ীরা বড় সমস্যায় আছেন। কারণ তাদের রপ্তানিটা নির্ভর করছে আমদানিকারক দেশগুলোর করোনা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। এ মুহূর্তে বৈশ্বিক পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখছি না। তাই অভ্যন্তরীণ বাজার উন্নয়নে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য উৎপাদনশীল খাতে দিতে হবে সহায়তা।’

তিনি বলেন, সরকার-ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ৪ শতাংশ সুদে যে ঋণ দেওয়া হচ্ছে, এর মেয়াদ কমপক্ষে তিন বছর হওয়া উচিত। উৎপাদনশীল খাতের ব্যবসায়ীদের তাদের মোট মূলধনী বিনিয়োগের ৩০ শতাংশ ঋণ প্রণোদনা হওয়া উচিত। এখনো এ ঋণ সবাই পায়নি। সব ব্যবসায়ী যাতে এ ঋণ পান সে জন্য ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করতে হবে। ব্যাংকগুলো যেন ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রদান করে সে ধরনের বাধ্যতামূলক উদ্যোগ নিতে হবে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সরকারের উচিত হবে আরেকটা প্রণোদনা প্রদান করা। পাশাপাশি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে কর রেয়াত দিয়ে পণ্যমূল্য কমাতে হবে। দেশীয় পণ্যের চাহিদা বাড়াতে এই সহায়তা প্রয়োজন। দেশের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দেশীয় পণ্যের উৎপাদনে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া জরুরি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর