শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২৪

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যুতে ভবন মালিকের ছেলেকে খুঁজছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনের নিচে পড়ে মৃত বিদেশে পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। এখনো কাটেনি ধূম্রজাল। সুরতহালকারী পুলিশ ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলছেন, প্রাথমিকভাবে মৃত তাজরিন মোস্তফা মৌমিতার (১৯) শরীরে ধস্তাধস্তির চিহ্ন বা যৌন হয়রানির শিকার হয়ে মারা যাওয়ার কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তথ্য মেলেনি। তবে, অভিযোগের তীর থাকায় ওই ভবন মালিকের ছেলে ফাইজারকে আটকের চেষ্টা চলছে। মৃতের পরিবার এ ঘটনায় অভিযোগ দিলে তদন্তে গতি মিলবে। এ ছাড়া ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র বলেন, মৃত মৌমিতার পরিবার গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারা একটু দেরিতে অভিযোগ দায়ের করবে বলে শুক্রবার রাতেই আমাদের জানিয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবন মালিকের ছেলে ফাইজারের বন্ধু আদনানকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। ফাইজারকেও আটকের চেষ্টা চলছে। সব মিলিয়ে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। অনুসন্ধান শেষে এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে এটি আত্মহত্যা না হত্যাকা  সে বিষয়ে জানা যাবে।

এদিকে, গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে ওই ছাত্রীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, মৃতদেহ থেকে রক্ত, ভিসেরা ও হাইভেজনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এগুলো পরীক্ষার জন্য হিস্ট্রোপ্যাথলোজিতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে বলা যাবে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল কিনা। তার শরীরে ধস্তাধস্তির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তার শরীরে যে আঘাতগুলো রয়েছে তা ভবন থেকে পড়ার কারণেই হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মৃত ছাত্রীর বাবা কামাল মোস্তফা শামীম জানান, তাদের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর ঘাটানদি গ্রামে। তিন মেয়ের মধ্যে মৌমিতা মেজো। তারা সপরিবারে মালয়েশিয়ায় থাকতেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর তারা ঢাকায় ফিরে আসেন। এরপর থেকে কলাবাগান ৮ নম্বর রোডের ২ নম্বরে একটি সাততলা বাসার চতুর্থ তলায় থাকেন। মৌমিতা মালয়েশিয়ার এশিয়ান প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির বিএসসি ইঞ্জিনিয়িরিং দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। গত বছরের ১৮ জুলাই ঢাকায় আসেন। এরপর থেকে তিনি অনলাইনে ক্লাস করতেন। তিনি জানান, কলাবাগানের ওই বাড়ির মালিকের ছেলে ফাইজার তাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করত। ফাইজারের বন্ধু আদনানও তার সঙ্গে মিলে মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করত। বাড়িওয়ালার একটিই ছেলে। সে বাইরে থেকে বিভিন্ন ছেলেদের বাসায় নিয়ে আসত। গত সপ্তাহে মৌমিতার মা ফাইজারের মাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তাতে তিনি উল্টা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন মৌমিতার মায়ের ওপর। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যা মনে চায় তাই করবে, আপনার মেয়েকে বের হতে না দিলেই তো হয়, আমার ছেলেকে কেন থ্রেট দিতে আসছেন’। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মৌমিতা ছাদে ওঠে। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুনি সে ছাদ থেকে পড়ে গেছে। মৌমিতার ফুপু শাহনেওয়াজ খানম বলেন, ঘটনার সময় ছাদে ফাইজার ছিল। বিকালে ছাদের দরজা লাগিয়ে দিয়েছিল। আমাদের ধারণা মৌমিতাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই সে মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করছিল।