শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ মার্চ, ২০২১ ০০:০৫

দলীয় ফরম বিক্রি উন্মুক্ত করল আওয়ামী লীগ

এমপি-মন্ত্রীদের প্রভাবমুক্ত রাখা, মাইম্যান প্রার্থী করতে জনপ্রিয়দের বাদ দেওয়া, সঠিক সময়ে রেজুলেশন না পাঠানোর অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত

রফিকুল ইসলাম রনি

দলীয় ফরম বিক্রি উন্মুক্ত করল আওয়ামী লীগ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় ফরম বিক্রি উন্মুক্ত করল আওয়ামী লীগ। স্থানীয় এমপি-মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের প্রভাবমুক্ত রাখা, ‘মাইম্যান’ প্রার্থী করতে গিয়ে ‘জনপ্রিয়দের’ বাদ দেওয়াসহ নানা অভিযোগে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আগামী ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপে অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে দলীয় ফরম বিক্রি ও জমাদানের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। গতকাল দলের নীতিনির্ধারকরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, বিগত পৌরসভায় বিএনপি দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ করলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলগতভাবে অংশগ্রহণ করবে না মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। সে কারণে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর করতে করণীয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা নেতারা। প্রথম ধাপের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ৩৭১ ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী করতে তৃণমূলকে চিঠি পাঠানো হয়। যেসব জেলায় প্রথম ধাপের ভোট হচ্ছে সেখান থেকে দলীয় রেজুলেশন চাওয়া হয়। অনেক জেলা-উপজেলার নেতারা সঠিক সময়ে রেজুলেশন পাঠাতে ব্যর্থ হন। আবার অনেক উপজেলা-জেলার শীর্ষ নেতা কিংবা স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীরা পছন্দের লোককে মনোনয়ন দিতে প্রভাব ঘাটিয়ে জনপ্রিয় প্রার্থীদের বাদ দিয়েছেন-এমন অভিযোগ জমা পড়েছে দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে। সে কারণে দলীয় ফরম বিক্রি উন্মুক্ত করল আওয়ামী লীগ। গতকাল ধানমন্ডি দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশ থেকে নেতা-কর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে এসেছেন। যারা মনোনয়ন ফরম বিতরণের দায়িত্বে রয়েছেন, তারাও রেজুলেশন দেখে ফরম বিতরণে গলদঘর্ম হয়ে পড়ছেন। যে কারণে দুপুর থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি উন্মুক্ত করা হয়। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘অনেক জায়গায় ফরম বিক্রি উন্মুক্ত করা হয়েছে। যেসব জেলায় রেজুলেশন পাঠায়নি, অথবা দেরি করে পাঠিয়েছে, সেসব জায়গার প্রার্থীরা দলীয় কার্যালয়ে এলে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও স্থানীয় এমপি কিংবা প্রভাবশালী নেতারা প্রভাব বিস্তার করে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে ‘মাইম্যান’ হিসেবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন, সেসব জায়গায় উন্মুক্ত করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, স্থানীয় এমপি-নেতাদের প্রভাব বিস্তারের বিস্তর অভিযোগ কেন্দ্রে জমা পড়ছে। সে কারণে যারা দল করে তারা যেন প্রার্থী হতে পারে সেজন্য মনোনয়নপত্র দেওয়া হচ্ছে। দলীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডি কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, নোয়াখালীর হাতিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয় প্রকল্পের দরিদ্রদের জন্য ঘর না দিয়ে সে অর্থ আত্মসাৎ করেন তমরুদ্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফাররুখ আহমেদ, বুড়িচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়া আলী মোবারক কল্লোক ও জাহাজমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম মিল্লাহ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের সত্যতা পায়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তাদের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো ব্যবস্থা এখনো গ্রহণ করা হয়নি। বরং সেই তিন চেয়ারম্যানকে আবারও দলীয় মনোনয়ন দিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সুপারিশ করেছে। এমন অভিযোগ দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে জমা পড়েছে। এখানে এক প্রভাবশালী নেতার পছন্দের লোকদের নাম পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রে। বাদ দেওয়া হয়েছে একাধিকবারের জনপ্রতিনিধি ও জনপ্রিয় সাবেক ছাত্রনেতাদের। এ প্রসঙ্গে হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘উক্ত তিনজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, বিষয়টি আমার জানা নেই।’ হাতিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ঘর নির্মাণের টাকাগুলো তৎকালীন এক কর্মকর্তা মেরে খেয়েছেন। চেয়ারম্যানরা নিজের টাকা দিয়ে ঘর করে দিয়েছেন। চেয়ারম্যানদের কোনো দোষ নেই। সে কারণে তাদের নাম পাঠানো হয়েছে।’ এমন চিত্র বরিশালসহ কয়েকটি জেলা-উপজেলা থেকে পাঠানো তালিকায় স্থান হয়েছে বিতর্কিত ব্যক্তিদের। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম কেন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে, সেসব বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এদিকে আসন্ন ১১ পৌরসভা ও ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ফরম সংগ্রহ ও জমাদানের সময় বাড়িয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল দুপুরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ফরম সংগ্রহ ও জমা কার্যক্রম চলাকালীন এ ঘোষণা দেন দলের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। এ সময় তিনি বলেন, যে কয়দিন লাগে যতক্ষণ লাগে আমরা সবাইকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করব এবং মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করব। কাল হোক, পরের দিন হোক। তিনি বলেন, ‘ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার আজ যে শেষ দিন ছিল সেই সিদ্ধান্ত আমরা প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আমাদের নেত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, যে কয়দিন লাগে সে কয়দিন আমরা ফরম বিতরণ ও সংগ্রহ করব।’