শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ মার্চ, ২০২১ ২৩:৫৬

মশা মারতে প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে দুই সিটি

গতকালের বৃষ্টিতে কিউলেক্স কমলেও বাড়তে পারে এডিস

নিজস্ব প্রতিবেদক

মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। খুদে প্রাণীটির কারণে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের মুখে পড়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। চলছে অভিযান, কিন্তু মরছে না মশা। মশা মারতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে দামি ওষুধ কিনেও মিলছে না সুফল। নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘবে এখন অনেকটা প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে দুই সিটি। কখন হবে ঝড়, কখন নামবে বৃষ্টি, আর সেই বৃষ্টির পানি অপরিচ্ছন্ন ড্রেন, নালা, নর্দমা ও খাল থেকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে মশার লার্ভা, সেই ক্ষণের অপেক্ষাতেই যেন প্রহর গুনছেন দায়িত্বশীলরা। ২০১৯ সালে এডিস মশার কারণে রাজধানীতে ভয়াবহ রূপ নেয় ডেঙ্গু। প্রাণ হারান অনেক মানুষ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শপথ অনুষ্ঠানে দুই মেয়রকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘মশা আপনাদের ভোট যেন খেয়ে না ফেলে?’ অথচ, বছর শেষে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ঢাকাবাসী। সন্ধ্যার পর ঘরে-বাইরে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিগত ১০ মাসের মধ্যে জানুয়ারির শেষ দিকে ঢাকায় মশার ঘনত্ব চারগুণ বেড়েছে।

এদিকে দুই সিটি করপোরেশন ব্যর্থ হওয়ায় খোদ নগরবাসী মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছেন। মশারি, কয়েল, অ্যারোসল ¯েপ্র, ধুপ, মশা মারার ইলেকট্রিক ব্যাট, ইলেকট্রিক আলোর ফাঁদসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনে মশা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বইছে সমলোচনার ঝড়। অনেকেই মশা মেরে তা জমিয়ে ‘আজকের সংগ্রহ’ লিখে পোস্ট করছেন ফেসবুকে।

করোনা সংক্রমণের মধ্যে মশক নিধন কার্যক্রম সীমিত থাকলেও আগের বছরে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে ২০২০ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম ছিল। তবে বছর শেষে কিউলেক্স মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে ঢাকাবাসী। মশা মারতে দুই সিটি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। গতকালও রাজধানীর ভাটারা ও সাঁতারকুল এলাকায় মশক নিধন অভিযান পরিদর্শন করেন উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। দুই মেয়র আশা প্রকাশ করে বলেছেন, মশার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মশা মারতে আনা হয়েছে নতুন ওষুধ। আগামী এক সপ্তাহ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে মশা কমে আসবে।

কবে নাগাদ মশা কমতে পারে এমন প্রশ্নে জাবির কিটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঝড়-বৃষ্টি হলে কিউলেক্স মশা কমবে। প্রতি বছর মার্চের শেষ দিকে দু-একবার ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হয়। এপ্রিলে ঝড় হয়। গতকালও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ঝাড়ো হাওয়াসহ হালকা বৃষ্টি হয়েছে। এতে পাখা ভেঙে কিছু উড়ন্ত মশা কমবে। ঝড়টা আরেকটু বেশি হলে ভালো হতো। তবে বৃষ্টিপাত যতটুকু হয়েছে তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতির শঙ্কা বেশি। বেশি বৃষ্টি হলে নালা-নর্দমার পানি পাতলা হতো। এতে কিউলেক্স মশার লার্ভার খাবার কমে যেত। অনেক লার্ভা ভেসে নদীতে চলে যেত। গতকাল যতটুকু বৃষ্টি হয়েছে তাতে উল্টো বিভিন্ন স্থানে পানি আটকে এডিস মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, প্রতি বছর শীতের শেষ দিকে নালা-নর্দমায় প্রবাহমান পানি কমে এলে কিউলেক্স মশা বংশবৃদ্ধি ঘটায়। সাধারণত নর্দমা, ড্রেন, ডোবার বদ্ধ পচা পানিতে কিউলেক্স মশা বংশবৃদ্ধি করে। শীতের শেষে তাপমাত্রা বাড়ায় প্রকৃতিতে যে মশার ডিম থাকে সেগুলো একযোগে ফুটে যায়। যে কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মশার ঘনত্ব বেড়ে যায়। এ মশার কামড়ে গোদ রোগ হয়। হাত-পা ফুলে বড় হয়ে যায়। বিষয়টি মাথায় রেখে আগে থেকেই বহুমুখী মশক নিধন কার্যক্রম হাতে নেওয়া দরকার। এ ছাড়া মশার ওষুধ কাজ করছে কিনা সেটাও নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। একটি কীটনাশক একটানা পাঁচ বছরের বেশি ব্যবহার করলে মশা সেই কীটনাশকের বিপক্ষে সহনশীলতা তৈরি করে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর