শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৩০ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ মে, ২০২১ ২৩:৫৬

বড় পরিসরে আসছে নির্বাচন

ভোটের তারিখ নির্ধারণ হবে ২-৩ জুন

গোলাম রাব্বানী

বড় পরিসরে আসছে নির্বাচন
Google News

জুন-জুলাই মাসে বড় পরিসরে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে করোনা মহামারীর কারণে স্থগিত হওয়া লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন, ১১ পৌরসভা এবং প্রথম ধাপের ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণ হবে জুনের মাঝামাঝি। জুলাইয়ের তৃতীয় অথবা শেষ সপ্তাহে জাতীয় সংসদের তিন শূন্য আসনে উপনির্বাচন ও বড় পরিসরে ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। তবে বড় পরিসরে ইউপি ভোট আসন্ন ঈদুল আজহার আগে না পরে হবে সেই সিদ্ধান্ত হবে আগামী কমিশন বৈঠকে। এ ছাড়া কয় ধাপে জুলাইয়ে ইউপি ভোট হবে সেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে কমিশন বৈঠক থেকে।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, স্থগিত লক্ষ্মীপুর-২ উপনির্বাচন, প্রথম ধাপের ৩৭১ ইউপি ও ষষ্ঠ ধাপের ১১ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানে ১০/১২ দিন সময় লাগবে। এক্ষেত্রে ২/৩ জুন এ নির্বাচনের ভোটের তারিখ নির্ধারণ হলে ১২ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে এ নির্বাচনের তারিখ হতে পারে। তারা বলেন, বড় পরিসরে ইউপি ও তিনটি আসনের উপনির্বাচন করতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। তবে ঈদের আগে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে এ নির্বাচন করতে হলে ২/৩ জুন তফসিল ঘোষণা করতে হবে। আর ঈদের পরে ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে ভোট করতে হলে জুনের মাঝামাঝিতে তফসিল দিলেও চলবে। কেননা চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ জুলাই ঈদুল আজহা হতে পারে। দেশে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে অর্ধেকের বেশির মেয়াদ জুলাই মাসে শেষ হবে। নির্বাচন উপযোগী সব ইউপিতে ভোট জুলাই মাসের মধ্যে শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত ১১ এপ্রিল নির্ধারিত সব নির্বাচন ১ এপ্রিল স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। ওই দিন বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব নির্বাচন স্থগিত থাকবে। ১১ এপ্রিল দেশের ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ১১টি পৌরসভা এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ভোটের তারিখের ১০ দিন আগে এসব নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ভোট স্থগিত করার দিন ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, দেশের অবস্থা স্বাভাবিক হলে নির্বাচন যে অবস্থায় বন্ধ হয়েছিল, সেখান থেকে ভোটের প্রক্রিয়া আবার শুরু করা হবে। ওই সময় নির্বাচনী এলাকায় প্রচারে ছিলেন প্রার্থীরা। করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই জুলাইয়ের মাঝামাঝি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হবে আগামী ২/৩ জুন কমিশন সভায়। একই দিন আটকে থাকা পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের আটকে থাকা উপনির্বাচন জুনের মাঝামাঝি হতে পারে। আর বাকি তিন আসনের ভোট ঈদের আগে বা পরে হতে পারে। গত ২৪ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে ইসির ৮০তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। তিনি বলেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝি শূন্য আসনের উপনির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২ জুন কমিশন সভায় ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। স্থগিত থাকা ইউপি নির্বাচনের বিষয়েও ওই সভায় সিদ্ধান্ত আসতে পারে। শূন্য হওয়া যে চারটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন হবে সেগুলো হচ্ছে লক্ষ্মীপুর-২, সিলেট-৩, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫। আসন শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব না হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কুয়েতের আদালতে দন্ডিত সংসদ সদস্য কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলের লক্ষ্মীপুর-২ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয় ২৮ জানুয়ারি। ১১ এপ্রিল এ আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। করোনাভাইরাস সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় নির্বাচনটি স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া গত ১১ মার্চ সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে; ৪ এপ্রিল ঢাকা-১৪ এর আসলামুল হকের মৃত্যুতে এবং ১৪ এপ্রিল কুমিল্লা-৫ এর আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে তিনটি আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ দফায় বলা হয়েছে- সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে তার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশনারের মতে কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে এ নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব না হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ভোট করতে হবে। জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে লক্ষ্মীপুর-২ ও সিলেট-৩ আসনের মতো ঢাকা-১৪ এবং কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচন প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে হবে না। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এ আসন দুটির উপনির্বাচন অনুষ্ঠানে ২৫ মে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সেই হিসাবে ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচন ২ জুলাই এবং কুমিল্লা-৫ আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা না থাকায় কমিশন দুটি আসনের উপনির্বাচনের জন্য আরও ৯০ দিন সময় বাড়িয়েছে। নতুন করে ৯০ দিন বাড়ানোর ফলে ঢাকা-১৪ আসনে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এবং কুমিল্লা-৫ আসনে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ভোট পেছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জুলাইয়ে করলেও আইনি কোনো জটিলতা হবে না। এর আগে লক্ষ্মীপুর-২ এবং সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনও একই কারণে পিছিয়ে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিন সময় নিয়েছেন সিইসি।