শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুন, ২০২১ ০০:০৩

কৃষি

বাংলাদেশে ভিয়েতনামের লেবু

সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ

বাংলাদেশে ভিয়েতনামের লেবু
Google News

ব্রহ্মপুত্র নদ ঘেঁষে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কাশিয়ারচর। এই চরেই বড় একটি সবুজ মাঠের দিকে তাকাতেই মনে হয় যেন সবুজ চাদরে ঢাকা। এখানে ফলছে ভিয়েতনামের বীজবিহীন বারোমাসি লেবু। বাগানের পাশ দিয়ে গেলেও এই লেবুর কড়া ঘ্রাণ নাকে এসে লাগে। পাঁচ একর জমির প্রতি গাছে ঝুলছে ২৫০ থেকে ৩০০ লেবু। আর এই লেবুর নাম রাখা হয়েছে ‘বিনালেবু-১’। দেশের মাটিতে নতুন এই জাতের লেবু এখন কৃষকদের কাছে অনেকটাই সোনার মতো। তাই বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) মনে করছে কৃষিতে নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। বিনার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই লেবুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি বারোমাসই ফলন দেয়। অন্য জাতের চেয়ে ফলনও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া বিনালেবু-১ সুগন্ধিযুক্ত ও বীজবিহীন। এতে রস এবং ভিটামিন-সি এর পরিমাণও বেশি। এ লেবু চাষ লাভজনক হওয়ায় এর কদর বাড়ছে দিনকে দিন। ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, ভিয়েতনামের একটি স্থানীয় জাত থেকে জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে দীর্ঘ সময় গবেষণার পর মেলে সফলতা। আশানুরূপ ফলন হওয়ায় ২০১৮ সালে ‘বিনালেবু-১’ কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য নিবন্ধিত করে জাতীয় বীজ বোর্ড। ময়মনসিংহের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় ঘেঁষে গৌরীপুর উপজেলার কাশিয়ারচর এলাকায় পাঁচ একর জমি লিজ নিয়ে এ লেবু চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন বিনার বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে ময়মনসিংহসহ দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে চাষ হচ্ছে এ লেবু।

বিনালেবু-১ এর উদ্ভাবক ও বিনার উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘লেবু বাংলাদেশে জনপ্রিয় একটি টকজাতীয় ফল। আমরা ভিয়েতনাম থেকে এ লেবুর কৌলিক সারি সংগ্রহ করেছিলাম। পরবর্তীতে সারিটি লেবু চাষ উপযোগী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষা করা হয়। এর ফলন ভালো হওয়ায় সরকার এটিকে একটি উচ্চ ফলনশীল লেবুর জাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।’ তিনি আরও জানান, ‘কলমের চারা রোপণের ১০ থেকে ১১ মাসের মধ্যেই পাওয়া যায় ফল। একটি পরিপক্ব ফলে রস থাকে প্রায় ৩৮ শতাংশ। আর একটি গাছ ফল দেয় অন্তত ১৫ বছর।’ কাশিয়ার চর এলাকার কৃষক ফজলুল হকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে জমিটি লিজ নেওয়া হয়েছে এগুলো পতিত অবস্থায় ছিল। এই জায়গায় যে লেবুর এত ভালো ফলন হবে তা তাদের কল্পনাতীত ছিল। আশাতীত ফলন দেখে এলাকার যুবকরাও এটি চাষে আগ্রহী হচ্ছে ও স্বাবলম্বী হচ্ছে। বিনার মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, ‘বিনার উদ্ভাবিত লেবু চাষের মাধ্যমে এক বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করেই বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় করা সম্ভব। সেজন্য আমরা উদ্যোক্তাও তৈরি করছি। সারা দেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে আমরা এই লেবুর চারা কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিচ্ছি।’

এই বিভাগের আরও খবর