শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুন, ২০২১ ২৩:২৬

বরিশাল বিমানবন্দরের জন্য ২৭৭ কোটি টাকা অনুদান চায় বেবিচক

বর্ধিত করা হবে রানওয়ে, ওপরে দেওয়া হবে কংক্রিট ঢালাই

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

Google News

বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ে বর্ধিতকরণ ও সংস্কারের জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে, যেটি বাস্তবায়নে ২৭৭ কোটি টাকা সরকারের কাছে অনুদান হিসেবে চাওয়া হচ্ছে। বেবিচক বলেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ অর্থ সংস্থার তহবিল থেকে দেওয়া হবে। সূত্র জানায়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের অনুদানের বিষয়ে অর্থ বিভাগের মতামত চেয়ে গত এপ্রিলে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সর্বশেষ গত ২০ জুন আবারও একই বিষয়ে চিঠি পাঠিয়ে তারা অর্থ বিভাগের মতামত চেয়েছে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আকাশ থেকে শস্যখেতে কীটনাশক ছিটানোর কাজে ব্যবহারের জন্য ১৯৬৩ সালে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ‘প্লান্ট প্রোটেকশন’ বন্দর হিসেবে দুই হাজার ফুট রানওয়ে নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৮৫ সালে এটিকে বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হয়। বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ১৯৬৩ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে এ বিমানবন্দর করা হয়। এরপর ১৯৯৫ সালের ১৭ জুলাই থেকে দিনের বেলা ঢাকা-বরিশাল রুটে বাণিজ্যিক বিমানের চলাচল শুরু। ১৬০ দশমিক ৫ একর জমির ওপর বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ফুট এবং প্রস্থ ১০০ ফুট। বর্তমানে এই বিমান বন্দরে বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী বিমান চলাচল করছে। তবে সময়ের প্রয়োজনে বিমানবন্দরের রানওয়ের সম্প্রসারণ ও এর এটি সংস্কারের কাজ জরুরি হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ে বর্ধিতকরণসহ বিদ্যমান রানওয়ের সারফেস কংক্রিটে ঢালাইকরণ প্রকল্পটির ডিপিপি (ডিরেক্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল)- এর ওপর গত নভেম্বরে যাচাই কমিটির সভা হয় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে। ওই সভায় প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ২৫ শতাংশ অর্থ বেবিচকের নিজস্ব অর্থায়নে এবং অবশিষ্ট ৭৫ শতাংশ অর্থ সরকারের অনুদান হিসেবে বরাদ্দ প্রদানের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। চিঠিতে অনুদানের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় অবশ্য সেটি স্বীকার করছে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির জন্য আসলে অনুদান নয়, সরকারি অর্থ চাওয়া হয়েছে। বাজেট থেকে মন্ত্রণালয়ের নামে অর্থ বরাদ্দ করা হলে তারপর সেটি বেবিচক-এর প্রকল্পে ব্যবহৃত হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অনুদানে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোনো খাত থেকে অনুদান নেওয়া হবে, সেটি দেশি না বিদেশি অনুদান- এসব বিষয় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করলে সেই বিষয়ে মতামত দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের গৃহীত প্রকল্প সরকারি অর্থায়নে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এটি ডিপিপি-তে উল্লেখ করে অনুমোদনের জন্য একনেকে পাঠাতে হবে। কিন্তু সেটি না করে প্রকল্পের জন্য সরকারের কাছে অনুদান চেয়ে অর্থ বিভাগের মতামত চাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. মাহবুব আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকারের স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় মেটাতে অনেক সময় অনুদান দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি অর্থায়নে কোনো প্রকল্প নিতে হলে সেটি একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করতে হবে। অনুমোদিত প্রকল্পের জন্য তখন বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর