শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ জুন, ২০২১ ০০:০৭

মধু সুগন্ধি চা

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

মধু সুগন্ধি চা
Google News

হোয়াইট টি, ইয়েলো টি ও রোজ টির পর এবার বাজারে এসেছে হানি টি। এই চায়ে রয়েছে মধুর সুগন্ধ। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দেশে দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্রে ১ কেজি হানি টি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ১০০ টাকায়। ওই দিন হানি টি ছাড়াও নিলামে উঠেছিল লেমন টি, বিশ্বখ্যাত মাচা টি ও আল গ্রে টি। ১ কেজি লেমন টি বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৪২০ টাকা। ১ কেজি মাচা টি ১ হাজার ৫০০ টাকা ও ১ কেজি আল গ্রে টি ১ হাজার ২০০ টাকা। গত ২৩ জুন চলতি মৌসুমের চতুর্থ  নিলামে নতুন এই চার প্রকারের চা তুলেছিল শ্রীমঙ্গল টি ব্রোকার লি.। আর নিলাম  থেকে লেমন টি ও মাচা টি কিনে নিয়েছে এশিয়ান টি হাউস। হানি টি কিনেছে আলমগীর টি হাউস।

নিলাম কেন্দ্র থেকে জানা যায়, এবারই প্রথম শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্রে লেমন টি, হানি টি, আল গ্রে টি ও মাচা টি অফারিং করা হয়েছে। এগুলো ছিল বড়লেখার শাহবাজপুর চা বাগানের চা।

মাচা টি একমাত্র জাপানে উৎপাদন হয়। আর আল গ্রে টি উৎপাদন হয় একমাত্র ইংল্যান্ডে। লেমন ও হানি টি উৎপাদন হয় চীন ও শ্রীলঙ্কায়। এই প্রথম বিশ্বখ্যাত এই চাগুলো বাংলাদেশেই উৎপাদন করা হলো। শাহবাজপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চায়ের একটি পাতা ও একটি কুঁঁড়ির সঙ্গে ন্যাচারাল মধু মিশিয়ে হানি টি তৈরি করা হয়েছে। এই চা পান করলে মধু ও চা দুটিরই ঘ্রাণ পাওয়া যাবে। হানি টিতে চায়ের কাপে আলাদা করে চিনি দেওয়া লাগবে না। একইভাবে চায়ের পাতার সঙ্গে লেবু মিশিয়ে লেমন টি তৈরি করা হয়েছে। তবে মিশ্রণের আগে লেবু প্রসেসিং করে রাখা হয়। লেমন টি পান করার সময় চায়ের কাপে কোনো লেবু দেখা যাবে না, তবে প্রতি চুমুকে পাওয়া যাবে লেবুর ঘ্রাণ। আর চায়ের পাতার সঙ্গে সুগন্ধি ক্যামমিল ফুলের ফ্লেভার মিশিয়ে ইংল্যান্ডের আল গ্রে চা তৈরি করা হয়। এই ফ্লেভার তারা ইংল্যান্ড থেকে কিনে এনেছেন। জাপানের বিখ্যাত মাচা টি পাউডারের মতো। এই চা গরম পানিতে মিশিয়ে পান করতে হয়। শ্রীমঙ্গল টি ব্রোকার লির এমডি হেলাল আহম্মদ বলেন, ‘আমরা নতুন চার প্রকারের চা নিলামে তুলেছিলাম। সবগুলোই ভালো দামে বিক্রি হয়েছে।’

এশিয়ান টি সাপ্লাইয়ারর মালিক মো. রিয়াম চৌধুরী জানান, পর্যটন শহর শ্রীমঙ্গলে নতুন এই চায়ের চাহিদা রয়েছে। মূলত ক্রেতাদের চাহিদার কারণেই আমরা এগুলো কিনে এনেছি।’ শাহবাজপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে সবাই ব্ল্যাক টি উৎপাদন করে। শুধু ব্ল্যাক টি দিয়ে তো বিশ্বের বাজার ধরা যাচ্ছে না। তাই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদেরও নতুন নতুন চা উৎপাদন করতে হবে। এই চিন্তাধারা থেকেই আমরা নতুন ১০ প্রকারের চা উৎপাদন করি। এর মধ্যে সাতটি চট্টগ্রামে নিলাম কেন্দ্রে বিক্রি হয়েছে। শ্রীমঙ্গল নিলামে বিক্রি হয়েছে চারটি। আল গ্রে টি দুটি নিলাম কেন্দ্রেই বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, হানি টি পান করলে মধুর স্বাদ ও গন্ধ। ঠিক তেমনি লেমন টি পান করলে লেবুর সুগন্ধ পাওয়া যাবে। আর মাচা টি হলো জাপানি চা। আল গ্রে টি ইংল্যান্ডের। আল গ্রে টি ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় রাজার খুব পছন্দের চা ছিল। তাই এ চায়ের নাম তারা আল গ্রে রেখেছিল।’