বৃহস্পতিবার, ১১ মে, ২০২৩ ০০:০০ টা

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শিরায় অ্যাসিড পুশ করে হত্যা

স্ত্রী ও প্রেমিক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

দুপুরের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে খাওয়ান। ওষুধের প্রভাবে ঘুমিয়ে গেলে সিরিঞ্জের মাধ্যমে শিরায় অ্যাসিড পুশ করেন। আর তাতেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এভাবেই স্বামীকে হত্যার বর্ণনা দেন শেফালি বেগম। তিনি যশোর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আয়া হিসেবে কাজ করেন। তার স্বামী নিহত জহির হাসান শহরের হুশতলা এলাকার একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, শেফালির সঙ্গে শহরের শংকরপুর এলাকার রবিউল ইসলাম সরদার নামের এক যুবকের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে সোমবার শেফালির সঙ্গে জহিরের কথা কাটাকাটি হয়। মঙ্গলবার মৃত্যু হয় জহিরের। পুলিশ শেফালি বেগমকে আটক করেছে। আর তার প্রেমিক রবিউল ইসলাম সরদারকে আটক করেছে র‌্যাব। পরে নিহত জহিরের ভাই গাজী শাহনেওয়াজের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শেফালি ও রবিউলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান জানান, ওষুধ ব্যবসায়ী জহির হাসানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তার ভাড়া বাড়িতে যায়। লাশের বাম হাতের শিরায় কালো দাগ দেখে সন্দেহ হওয়ায় ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জহিরের স্ত্রী শেফালিকে নেওয়া হয় থানায়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন শেফালি। প্রেমিক রবিউলের সহায়তায় তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে স্বীকার করেন। শেফালি বলেন, দুপুরের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর জহির ঘুমিয়ে পড়েন। মোবাইল ফোনের ব্যাটারির ভিতরের গুঁড়া-অ্যাসিড পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি জহিরের বাম হাতের শিরায় পুশ করা হয়। শেফালির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মোবাইল ফোন, ব্যাটারি ও সিরিঞ্জ উদ্ধার করেছে পুলিশ। র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কমান্ডার এম নাজিউর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিউল ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার দুপুরে তাকে আটক করা হয়।

 

 

সর্বশেষ খবর