বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি। এটা ছাত্র-জনতার কাছে উন্মোচিত হয়েছে। সম্প্রতি দেশে যে গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে এতে হিন্দু-মুসলিম, ছাত্র-জনতা সবাই যোগ দিয়েছে। এখানে কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের কোনো পদক্ষেপ নেই। আজকে যে দ্বন্দ্ব হচ্ছে, এটা কোনো সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব নয়। এটি ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে সমগ্র জনগণের দ্বন্দ্ব, ছাত্র-জনতার দ্বন্দ্ব।
সোমবার (১২ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে চলমান সাম্প্রতিক নানাবিধ ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিতে এই অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে শান্তির পথে আমরা বাংলাদেশি।
নিতাই বলেন, হিন্দুদের একটি অংশকে ওই পরাজিত শক্তি (আওয়ামী লীগ) ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নানা কথা বলছে, মানববন্ধন করছে। আওয়ামী লীগের পাতানো এই সাম্প্রদায়িক উস্কানি টিকবে না। এই দ্বন্দ্ব সাম্প্রদায়িক নয়, এই দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক। লুটেরা শক্তির বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দ্বন্দ্ব।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে ধ্বংস করে আইন ও বিচার বিভাগকে নিজের কুক্ষিগত করে ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে কোনো ভোট হতে দেননি। তারা দেশে জনগণের ভোটাধিকারকে গুরুত্ব দেয়নি। এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর ছাত্র-জনতা অভূতপূর্ব বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে লুটেরা, রাষ্ট্র ধ্বংসকারী, গণতন্ত্র হত্যাকারী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটিয়েছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহান বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই নতুন দেশে আমরা ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ কোনো রকম বৈষম্য মানবো না।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে খুব সাবধান। তারা যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবার আপনাদের (সংখ্যালঘু) ব্যবহার করেছে। যতবার তারা ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, ততবার আপনাদের ব্যবহার করেছে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তো সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়নি। বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কোনো বৈষম্য থাকবে না। বাংলাদেশে আমার যতটুকু অধিকার, সেই একই অধিকার দেশের ১৭ কোটি মানুষের। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের (বিএনপি) হাতকে শক্তিশালী করুন।
সত্য রঞ্জন ঘোষের সভাপতিত্ব ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীর পরিচালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল হক প্রমুখ।
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন