প্রকাশ : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৩:১৫
আপডেট : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৩:৩২

হলি আর্টিজান মামলার রায় ও জামায়াতের রহস্যজনক নীরবতা

অনলাইন ডেস্ক

হলি আর্টিজান মামলার রায় ও জামায়াতের রহস্যজনক নীরবতা
ফাইল ছবি

গত ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার কূটনীতিকপাড়া গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১৭ বিদেশি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২২ জন নিহত হন। শেষ পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে ৫ জঙ্গির পাশাপাশি নিহত হয় আরও দু’জন রেস্টুরেন্টকর্মী।

এ ঘটনার পর আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে। এতে অন্তত ৭৯ জঙ্গি নিহত হয়। জব্দ  ও ধ্বংস করা হয় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য। গ্রেফতার করা হয় আড়াই শতাধিক জঙ্গিকে।

প্রায় দেড় বছরের বিচার প্রক্রিয়া শেষে গত ২৭ নভেম্বর এই মামলায় রায় ঘোষণা করেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান। এতে ৭ জঙ্গিকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক পরিচয়কে নিশ্চিহ্ন করতেই হলি আর্টিজানে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়।

রায়ের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের নেতারা এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিবিসি, আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স, এএফপি ও এপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থা এই রায় সংক্রান্ত সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমও এটিকে বিশেষভাবে প্রচার করে। সেই সঙ্গে আদালতের রায়কে স্বাগত জানায় ও হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে।

কিন্তু এক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর নির্বিকার নীরবতা মন-বিভ্রান্তিকর। অথচ দলটিকে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ, কখনও কখনও গুরুত্বহীন ইস্যুতেও নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে দেখা গেছে।

তবে কি হলি আর্টিজানের ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় তাদের বিবেককে মন্তব্য করার মতো নাড়িয়ে দিতে পারেনি?

অন্ততঃপক্ষে তারা এই জঘন্য হামলায় হতাহতদের বিচার পাওয়ার বিষয়ে সরকারি বাহিনী ও আদালতের কার্যক্রম নিয়ে দু/চারটি ভাল কথা তো বলতে পারত।

প্রকৃতপক্ষে, জামায়াতের এই নীরবতা তাদের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী/সমর্থকদের কাছে দলটির অবস্থান ও উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তবে কি আদালতের রায়কে নীরবে প্রত্যাখ্যান করতেই জামায়াতের এই ‘মন্তব্যহীন’ আচরণ? নাকি তারা রায়ের পক্ষে মন্তব্য করলে বাংলাদেশে পরিচালিত জঙ্গি সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিশোধের ভয় করছে? নাকি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে জামায়াত নেতারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি?

মনে হচ্ছে, জামায়াত ক্রমবর্ধমান জনসাধারণের অনুভূতি ও কট্টরপন্থী ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠীর বিপক্ষে যেতে চায় না। ফলে এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বণকেই প্রাধান্য দিচ্ছে দলটি।

যদিও শেখ হাসিনা সরকার যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। এখনও দলটি বারবার অভিযোগ করছে যে, তাদের নেতাকর্মীদের ক্রমাগতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দেশে যেকোনও ইস্যু পেলেই দলটি সরকারের বিরুদ্ধে মন্তব্যও করে। অথচ হলি আর্টিজানের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার রায়ের বিষয়ে তারা নিশ্চুপ রয়েছে।

একই সময়ে আরও একটি অদ্ভূত বিষয় পরিলক্ষিত হল। সেটি হচ্ছে, জামায়াতের সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনও এই ঘটনার বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চুপ। এর দ্বারা এটাই বোঝা যায় যে, জামায়াত এখনও ইমরান খান নেতৃত্বাধীন তথা পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য