শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২১:২০
প্রিন্ট করুন printer

যুবলীগের সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুবলীগের সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন

যুবলীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে এবার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে নেতাদের মধ্যে। মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেস পরবর্তীতে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। পরে যুবলীগের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের প্রথম ভার্চুয়ালি সভায় এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয় এবং বেশ কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, মঞ্জুর আলম শাহীন, আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, ডা. খালেদ শওকত আলী, এফবিসিসিআই-এর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এমপি, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. হাবিবুর রহমান পবন, মো. নবী নেওয়াজ, আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী এমপি, মো. এনামুল হক খান, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ এমপি, মৃণাল কান্তি জোদ্দার, তাজউদ্দিন আহমেদ, জুয়েল আরেং এমপি, মো. জসিম মাতুব্বর, মো. আনোয়ার হোসেন ও এম শাহাদাত হোসেন তসলিম। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সভার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান-পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বক্তব্য প্রদান করেন। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টন। ৯টি সাংগঠনিক বিভাগের জন্য ৯ জন সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দের মাঝে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাথে দু’টি করে বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগসমূহ : বরিশাল বিভাগ : যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, সাংগঠনিক, সম্পাদক কাজী মাজহারুল ইসলাম, রাজশাহী বিভাগ : যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগ: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, চট্টগ্রাম উত্তর বিভাগ : যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান চপল, ঢাকা উত্তর বিভাগ : যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলাম জোয়ার্দার সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন খসরু, রংপুর বিভাগ : যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুতিউর রহমান বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ বিভাগ : যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু মনির মো. শহিদুল হক রাসেল, খুলনা বিভাগ : যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল সাইফুল সোহাগ, সিলেট বিভাগ : যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম সৈকত জোয়ার্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. রেজাউল কবির।

যুবলীগ চেয়ারম্যানের এ সংক্রান্ত বিষয়ের উপর প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. মামুনুর রশীদ প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, জীবন- যাত্রার মান বাড়ছে। এই সময়ে নির্বাহী সদস্যদের মাসিক চাঁদার পরিমাণ হওয়া উচিত ২০০০ টাকা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের চাঁদার পরিমাণ হওয়া উচিত ১০০০ টাকা। যদি কোনো নির্বাহী সদস্য/কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এককালীন বাৎসরিক/ষান্মাসিক/ত্রৈমাসিক চাঁদার অর্থ অগ্রীম পরিশোধ করতে চান, সেই সুযোগ সদস্যদের জন্য রাখা উচিত এবং সদস্যদের মাসিক চাঁদা ক্যাশ/মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস/ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করার সুযোগ রাখতে হবে। প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানান প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর আলম শাহীন। নীতি নির্ধারণী সভার সদস্যবৃন্দ সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবের পক্ষে মত দেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন সংক্রান্ত কর্মসূচি প্রণয়ন কমিটি : ১) প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, ২) প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, ৩) সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মুস্তাফিজ, ৪) উপ- ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুর রহমান, ৫) সহ-সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী ওয়ারেসী চঞ্চল আগামী এক মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচির তালিকা দিতে হবে।

এছাড়া যুবলীগের উদ্যোগে প্রকাশনা, পুস্তিকা, বুকলেট প্রকাশের জন্য একটি কমিটিও প্রস্তুত করা হয়। প্রকাশনা প্রকাশ সংক্রান্ত কমিটি : ১) প্রেসিডিয়াম সদস্য রফিকুল ইসলাম, ২) গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম মিল্টন, ৩) উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শেখ নবিরুজ্জামান বাবু। উক্ত কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রকাশনা প্রকাশের রূপরেখা জমা দিতে বলা হয়েছে।

যুবলীগের নীতি নির্ধারণী সভায় একটি বাজেট প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। বাজেট প্রণয়ন কমিটি : ১) প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলে ফাহিম, ২) অর্থ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, ৩) উপ-অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম দুর্জয়, ৪) সহ-সম্পাদক আজিজুর রহমান সরকার, ৫) নির্বাহী সদস্য ড. আশিকুর রহমান শান্ত। উপর্যুক্ত কর্মকর্তাবৃন্দ বাজেট প্রণয়নে সরকারি রীতি-নীতি অনুসরণপূর্বক আগামী দুই মাসের মধ্যে খসড়া বাজেট প্রণয়ন করবেন।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:১২
প্রিন্ট করুন printer

মর্গে মৃত নারী ধর্ষণ : সেই মুন্না রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক

মর্গে মৃত নারী ধর্ষণ : সেই মুন্না রিমান্ডে
সংগৃহীত ছবি

মর্গে রাখা নারীদের ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় গ্রেফতার মুন্না ভগতের দুদিন করে মোট চারদিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার তেজগাঁও থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা আফসানা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সোমবার আসামি মুন্না ভগতকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও ধর্ষণের ঘটনায় মূলহোতাকে শনাক্ত করার জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম দুই মামলায় আসামি মুন্নার সাতদিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে দুই মামলায় দুইদিন করে মোট চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানার এসআই মো. আল আমিন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এরপর ২৫ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানার এসআই সনজিৎ কুমার ঘোষ বাদী মুন্নার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। গত ২০ নভেম্বর সিআইডির করা মামলায় আসামি মুন্না আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এদিন মুন্না স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মামুনুর রশিদের আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১৯ নভেম্বর সিআইডির ইন্সপেক্টর জেহাদ হোসেন বাদী হয়ে শেরে-বাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

বি ডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:০২
প্রিন্ট করুন printer

জন্মদিনে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে মেয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

জন্মদিনে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে মেয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বড় মেয়ে শামারূহ মির্জা ফেসবুকে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, লুটপাট আর হত্যাই বাংলাদেশের একমাত্র পরিণতি হতে পারে না। বাংলাদেশ একদিন অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে। লুটেরাদের বিপক্ষে, সাধারণ বঞ্চিত, অবহেলিত মানুষের পক্ষে প্রতিষ্ঠিত হবে- জনগণের সরকার। শুধু বাংলাদেশ স্বাধীন হলে চলবে না, বাংলাদেশের মানুষকেও স্বাধীন হতে হবে!

মির্জা ফখরুল-কন্যা ড. শামারূহ মির্জার দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :-

আমরা দুই বোন যখন ছোট্ট ছিলাম, আমার বাবা চাকরি ছেড়ে, পুরো পরিবারকে ঢাকায় ফেলে ঠাকুরগাঁয়ে চলে যান। এক-দুই দিন না, বছরের পর বছর আমরা বড় হয়েছিলাম বাবাকে কাছে না পেয়ে, কারণ তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করবেন।

খুব কঠিন ছিল আমাদের বড়ো হওয়া। আমরা কষ্ট পেয়েছি, বিরক্ত হয়েছি, কিন্তু আমার বাবাকে কোনো দিন নিরাশ হতে দেখিনি। ৩০ বছর পেরিয়ে গেল, আমরা টুক টুক করে বড় হলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি, পিএইচডি করেছি। চষে বেরিয়েছি পৃথিবী। প্রায়ই ভাবি, আমার বাবাও শিক্ষক ছিলেন, তার জন্যও আমার এই জীবনটা সম্ভব ছিল। কিন্তু তিনি কঠিনকে ভালবেসেছিলেন আপনাদের জন্য। সত্যিই বলছি আপনাদের জন্য। মির্জা আলমগীর এই ৭৩ বছরেও হতোদ্যম হননি।

আজকে এই জেলে তো কালকে ওই কোর্টে। শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। আমি তার মেয়ে-আমার দুঃশ্চিন্তার কোনও শেষ নেই। জিজ্ঞেস করলেই আব্বু বলেন, লড়াই আমাদের করতেই হবে শেষ পর্যন্ত। মির্জা আলমগীর বাসায় আমাদের যা বলেন, যে ভাষায় বলেন, আপনাদেরও ঠিক তাই বলেন- মন থেকে বলেন। তার চেহারা সর্বত্র একটাই।

মির্জা আলমগীর প্রতিশোধের জন্য রাজনীতি করেননি। তিনি শুধু একটাই জিনিস চেয়েছেন সারাজীবন - গণতন্ত্র, সাধারণ মানুষের উন্নতির রাজনীতি।

বাংলাদেশের আজকের পরিস্থিতিটা খুবই সহজ আসলে, আপনি যদি চিন্তা করেন। হয় আপনি সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের পক্ষে, না হলে আপনি শহরের কিছু কোটিপতির আরও বড়লোক হওয়ার পক্ষে। হয় আপনি ইনসাফের পক্ষে, না হয় আপনি বিনা বিচারে মানুষকে হত্যার পক্ষে, রামদা আর হাতুড়ির পক্ষে।

ক্লিশে মনে হতে পারে কিন্তু আব্বুর সারাজীবন না হলেও অন্তত আমার সারাটা জীবন তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্যেই দিয়েছেন। আজকে তার প্রয়োজন আপনাদের। আপনারা কেন ধরেই নিয়েছেন যে- লুটপাট আর হত্যাই বাংলাদেশের একমাত্র পরিণতি।

আপনারা কি স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছেন? মানুষটা তার যৌবন দিয়েছেন এই দেশের সাধারণ মানুষের জন্য, এই শেষ বয়সে এসে ক্ষমতাধর আর লুটেরাদের বিরুদ্ধে লড়ছেন।

আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে। মির্জা আলমগীর সাহেবের সারাজীবনের রাজনীতি বৃথা যাবে না। আপনি আর আমি এই ঘুরে দাঁড়ানোর রাজনীতির অংশ হবো। আমরা আমাদের সন্তানদের এমন বাংলাদেশ দিয়ে যাব, যেন তারা গর্ববোধ করতে পারে।

বি ডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৯:৫৯
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:২৮
প্রিন্ট করুন printer

দেশে যেসব কারণে বাড়ে চাল, পিয়াজ, আলুর দাম: গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক

দেশে যেসব কারণে বাড়ে চাল, পিয়াজ, আলুর দাম: গবেষণা
ফাইল ছবি

দেশে চাল, আলু ও পিয়াজের দাম বাড়ার কারণ কী? এক গবেষণায় সেই উত্তর উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশে চাল, আলু, পিয়াজের প্রাপ্যতা ও দামের অস্থিরতা: একটি আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা’ প্রতিবেদনটি আজ প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে এক কর্মশালায় এ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক বিএআরসির বাস্তবায়নে ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) অর্থায়নে চাল, আলু ও পিয়াজ ইত্যাদির দাম বাড়ার কারণ উদঘাটনের জন্য তিনটি স্টাডি টিমের মাধ্যমে জরিপ পরিচালনা করা হয়। ধান/চাল বিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্রে নওগাঁ, শেরপুর, কুমিল্লা ও ঢাকা জেলা, আলুর ক্ষেত্রে মুন্সিগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর ও ঢাকা জেলা এবং পিয়াজের ক্ষেত্রে ফরিদপুর, নাটোর, পাবনা ও ঢাকা জেলায় জরিপ চালানো হয়।
  
বাংলাদেশে চাল, আলু ও পিয়াজের মূল্য বৃদ্ধির কারণ উদঘাটনে বিএআরসি উপস্থাপিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, চালের দাম বাড়ার পেছনে মূল কারণ হলো: প্রায় সকল কৃষকই ধান কর্তনের প্রথম মাসের মধ্যে বাজারজাতযোগ্য উদ্বৃত্ত বিক্রি করে দেন। গত বোরো মৌসুমে ধান বিক্রির ধরনটি পরিবর্তিত হয়েছে। এ মৌসুমে কৃষকরা তাদের ধান মজুদ থেকে ধীরে ধীরে বিক্রি করেছেন। ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা করোনা পরিস্থিতিতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা করেছিলেন এবং মজুদ ধরে রেখেছিলেন।

আলুর দাম বাড়ার পেছনে কারণ হলো- ভবিষ্যতে মূল্য বৃদ্ধির আশায় কৃষক ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আলুর মজুদ করা। হিমাগারে মজুদ করা আলুর রশিদ পুনঃপুন হস্তান্তর। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে আলু রফতানি। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আলুর বিপুল মজুত ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা। বর্ষা মৌসুমের ব্যাপ্তি দীর্ঘতর হওয়ায় সবজির উৎপাদন হ্রাস ও আলুর চাহিদা বৃদ্ধি। হিমাগারে আলুর সংরক্ষণের পরিমাণ কম। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক আলুর বিতরণ অপ্রতুলসহ প্রভৃতি কারণ রয়েছে।

পিয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারণ হলো- দেশীয় অসাধু বাণিজ্য সিন্ডিকেট দ্বারা বাজারে কারসাজি ও ভারতীয় রফতানি নিষেধাজ্ঞা অথবা অতিমাত্রায় ভারতের ওপর পিয়াজে আমদানির জন্য নির্ভরতা অন্যতম কারণ।

গবেষণায় চাল, আলু ও পিয়াজের দাম বৃদ্ধিরোধে কিছু সুপারিশ করা হয়। 

চালের ক্ষেত্রে সুপারিশ 

ধান/চাল সংগ্রহ পদ্ধতির আধুনিকায়ন করা। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরিভাবে ধান সংগ্রহ করা। মিলারদের মাধ্যমে তা চালে পরিণত করা। চিকন ও মোটা দানার চালের জন্য সরকারের পৃথক ন্যূনতম সহায়তা মূল্য (এমএসপি) ঘোষণা করা। ন্যূনতম ২৫ লাখ টন চাল সংগ্রহ করা। মোট উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ সংগ্রহ করার সক্ষমতা অর্জন করা, যাতে করে সরকার বাজারে কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

আলুর ক্ষেত্রে সুপারিশ 

হিমাগারে আলুর সংরক্ষণ ও আবমুক্তকরণ সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির মধ্যে রাখা। আলুর বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। সরকার কর্তৃক আলুর উৎপাদন, চাহিদা, সরবরাহ ও মূল্য সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং তা হালনাগাদ রাখা। সরকারিভাবে আলুর মজুদ গড়ে তোলা। 

পিয়াজের মূল্য বৃদ্ধি রোধে সুপারিশ 

সংকটকালীন সময়ে পিয়াজ আমদানির জন্য দ্রুত একাধিক রফতানিকারক মুখোমুখি করা। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করা। কৃষিমূল্য কমিশন গঠনের মাধ্যমে সারা বছর বাজারে পিয়াজের দাম নির্ধারণ ও তদারকি করা। বাজারে পিয়াজের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও মজুতের অগ্রিম ব্যবস্থাপনা। সুচিন্তিত পরিকল্পনা নেওয়া। 

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চাল, পিয়াজ ও আলু— এই তিনটির দাম বেশি ছিল। সরকার দাম কমানো ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেয়। চালের দাম কমাতে আমদানি শুল্ক কমিয়ে ২৫ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে চালের বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছে। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:৪৭
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:৩৯
প্রিন্ট করুন printer

করোনা টেস্টে প্রতারণা: ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য পেছাল

অনলাইন ডেস্ক

করোনা টেস্টে প্রতারণা: ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য পেছাল
সাবরিনা চৌধুরী। ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা টেস্টের নামে জেকেজি হেলথ কেয়ারের প্রতারণা, জাল সনদ দেওয়ার অভিযোগের মামলায় ডা. সাবরিনা চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য পিছিয়ে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালত নতুন সাক্ষ্য গ্রহণের ওই তারিখ ধার্য করেন। 

গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয় জেকেজি হেলথকেয়ার। এর বেশিরভাগই ভুয়া বলে ধরা পড়ে। এ অভিযোগে গত ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে তেজগাঁও থানায় মামলা হয়।

মামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য শেষ হলো। 

মামলার অন্য আসামি হলেন সাবরিনার স্বামী জেকেজির সিইও আরিফুল হক চৌধুরী, তার সহযোগী সাঈদ চৌধুরী, জালিয়াত চক্রের প্রধান হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী, নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সের স্বত্বাধিকারী জেবুন্নেছা রিমা, বিপ্লব দাস ও মামুনুর রশীদ।   

গত ২০ আগস্ট সাবরিনাসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন একই আদালত। এর আগে ৫ আগস্ট এ মামলায় ঢাকা সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:৪২
প্রিন্ট করুন printer

নির্বাচন কমিশনের নতুন সচিব হলেন হুমায়ুন কবীর

অনলাইন ডেস্ক

নির্বাচন কমিশনের নতুন সচিব হলেন হুমায়ুন কবীর

নির্বাচন কমিশনের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। এর আগে তিনি রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

আজ মঙ্গলবার হুমায়ুন কবীরকে সচিব পদে পদোন্নতির পর এ নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরকে অবসরে যাওয়ার সুবিধার্থে তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে আরেকটি আদেশ জারি করে সরকার।

উল্লেখ্য, সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর আগামী ২ ফেব্রুয়ারি অবসরে যাবেন।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এই বিভাগের আরও খবর