শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ মে, ২০২১ ১৯:৩১
প্রিন্ট করুন printer

সড়ক নির্মাণে মানসম্মত বিটুমিন ব্যবহার হয় না: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক নির্মাণে মানসম্মত বিটুমিন ব্যবহার হয় না: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
Google News

সারাদেশে সড়ক নির্মাণে মানসম্মত বিটুমিন ব্যবহার হয় না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। 

তিনি বলেন, আমরা মানসম্মত বিটুমিনের ব্যবহার দেখছি না। মুনাফা লুণ্ঠন করতে গিয়ে সড়কে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে প্রতি বছর ২০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ প্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু মানসম্মত বিটুমিন, পাথরসহ অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার সঠিক মাত্রায় চাই। এই মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এখানে দুর্নীতি জড়িত। এটা যাদের মনিটরিং করার দায়িত্ব, তাদের মনিটরিং করবে কে? এমনকি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়- বুয়েট মিলে যে মান নির্ধারণ করেছিল, তাও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। 

আজ রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নত্তোরে এসব কথা বলেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন- বারভিডা সভাপতি আব্দুল হক, বেসরকারি সংস্থা নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ প্রমুখ। 

সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নত্তোরে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমরা মনে করি- নিরাপদ সড়ক পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। আমার দেশে রোড সেফটি অডিট বিভাগ থাকলেও, ব্যাপক অর্থে তাদের কোন কার্যক্রম দেখি না। তারা প্রতি বছর সড়ক অডিট করে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে দেখি না। এখানে জবাবদিহিতা প্রয়োজন। সবার আগে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার হচ্ছে কিনা, সেটা দেখা উচিত। 

তিনি বলেন, ঢাকা টু চট্টগ্রাম মহাসড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ এই সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে, এখনও তিন বছর হয়নি। এই সড়ক নির্মাণে যে সমস্ত উপকরণ ব্যবহার হওয়ার কথা, বিশেষ করে বিটুমিন, পাথরসহ অন্যান্য উপদানগুলো সঠিক মাত্রায় ব্যবহার হচ্ছে কিনা, তাও জরিপ করে দেখা উচিত। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, আমারা দেখতে পাচ্ছি- উন্নত বিশ্ব কিংবা আমাদের দেশের আশ-পাশের দেশগুলোতে সড়ক নির্মাণে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ খরচ হয় বাংলাদেশে। এসব দেশের সড়ক যে পরিমাণে টেকসই ও স্থায়িত্ব হয়, বাংলাদেশে তেমন হয় না। আমরা কোন কোন সড়কে দেখি, নির্মাণ কাজ এক কিলোমিটার শেষ হওয়ার আগেই, যে দিক থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল, সেই দিক থেকে রাস্তার ওপরের অংশ ওঠে যাচ্ছে। অর্থ্যাৎ- রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই নষ্ট হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, এক সময়ে ব্যবসায়ীরা ঠিকাদারি করতেন, এখন রাজনৈতিক নেতারা ঠিকাদারি করছেন। এ কথা কিন্তু আমরা বার বার বলছি। রাজনৈতিক নেতারা ঠিকাদারি করলে জবাবদিহির ঊর্ধ্বে চলে যান। আমলারা তাদের কাছ থেকে কাজ বুঝে পান না। ফলে সড়কের মান নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। বছর বছর সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। এখন বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা পৌঁছে গেছে। যে পরিমাণ টাকা বরাদ্দ হচ্ছে, সেই পরিমাণ রাস্তা জনগণ পাচ্ছে না। ফলে আমাদের অনিবার্য পরিণতি হিসেবে জীবন দিতে হচ্ছে। সে কারণে এ সকল বিষয়ে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনের তথ্যনুযায়ী, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোর লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও বিদায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতরে যাতায়াতে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩১৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৩ জন নিহত ও ৬২২ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সম্মিলিতভাবে ৩২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৩১ জন নিহত ও ৭২২ জন আহত হয়েছেন। 

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত

এই বিভাগের আরও খবর