৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ১০:০০

শিক্ষার্থীদের দেখলে চালকরা বাস থামান না, নিতেও চান না

-মোজাম্মেল হক চৌধুরী

শিক্ষার্থীদের দেখলে চালকরা বাস থামান না, নিতেও চান না

‘সড়কে চাঁদাবাজির কারণে খরচ বাস মালিকের কাছে চাপে আর মালিক তা শ্রমিকের কাঁধে চাপিয়ে  দেন। এখন শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রকৃত অর্থে অর্ধেক ভাড়া নিতে চান না। শিক্ষার্থীরা দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছে আর এ সময় আমরা বাসে বাসে পর্যবেক্ষণ করেছি। সেখানে আমরা দেখতে পেরেছি যে, আইডি কার্ড পরিহিত বা ইউনিফর্ম পরিহিত শিক্ষার্থীদের দেখলে চালকরা বাস থামান না, তাদের নিতেও চান না।’ বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কোন কারণে বাস যানজটে আটকা পড়লে বা বাস স্টপেজে থামলে তখন যদি শিক্ষার্থীরা বাসে উঠতে চায়, বাসের লোকজন হাফ পাস ভাড়া নিতে চান না। এখন যারা হাফ পাস দেয় সেই শিক্ষার্থীদের বাস থেকে নামার সময় ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়। আবার নামার সময় পা রাখামাত্র গাড়িটি এমনভাবে টান দেওয়া হয় যে, সেই শিক্ষার্থী ঝাঁকুনি খায়, এতে সে দ্বিতীয়বার বাসে উঠতে নিরুৎসাহিত হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের তো কোনো বিকল্প নেই। তারা অনেকটা বাধ্য হয়ে বাসে যাচ্ছে। বাড়তি ভাড়ার জন্য তারা অন্য যানবাহনও ব্যবহার করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দুই সপ্তাহের আন্দোলনের ফলে সরকার তাদের হাফ পাসের বিষয়টি মেনে নিয়েছে। আবার মালিকদের পক্ষ থেকেও মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন একে গেজেট আকারে প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে কোনো পরিবহন মালিক, চালক বা বাসের হেলপার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে, কটু কথা বললে বা তাদের ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দিতে চাইলে এর বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা পাওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত হবে। আর তা না হলে সড়ক শিক্ষার্থীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে আমি সরকারের কাছে একটি বার্তা দিতে চাই আর তা হলো- যদি একসঙ্গে, একাধারে এবং একই দিনে শিক্ষার্থীরা সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হয় তাহলে দেশে বড় ধরনের সংগ্রাম গড়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হবে। একে নিরসনের জন্য এখনই সমঝোতা প্রয়োজন। এখনই জরুরি ভিত্তিতে একটি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকারের সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণের যে অন্যতম শর্ত সেখানে মালিকদের ১০ শতাংশ মুনাফা পাওয়ার কথা। এই শর্ত লঙ্ঘন করে তারা চাঁদাবাজি এবং সড়কের যে অনায্য যাবতীয় খরচ তা যাত্রীর কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য সিটিং সার্ভিসের নামে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায়ের মহোৎসবে মেতে ওঠে। আর এই টাকা উঠাতে গিয়ে তারা যখন শিক্ষার্থীরা কম ভাড়া দিতে চায় তখন তাদের বাসে উঠাতে চায় না।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর