শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:০৭

দিনাজপুরে বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ‘সূর্যশিশির’

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর

দিনাজপুরে বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ‘সূর্যশিশির’

বিলুপ্তপ্রায় পতঙ্গভুক ‘সূর্যশিশির’ নামে এক উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে দিনাজপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে। ১৫ জানুয়ারি কলেজের সংরক্ষিত পুকুরপাড়ের পশ্চিমে এ উদ্ভিদ প্রজাতিটি শনাক্ত করেন কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। এখানে তিনটি গাছের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সূর্যশিশির- এই মাংসাশী উদ্ভিদটির ইংরেজি নাম Sundews, এটি Caryophyllales বর্গ ও Droseraceae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Drosera Rotundifolia. শীতকালে জন্মানো উদ্ভিদটি সংরক্ষণ ও বিস্তারে গবেষণা চলমান রয়েছে। ১৫ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের এমএসসি (শেষ বর্ষ) শিক্ষার্থী মো. মোসাদ্দেক হোসেনসহ শিক্ষার্থীরা রূপগল্প শোনার মতো মাংসাল উদ্ভিদকে প্রথমবারের মতো শনাক্ত করতে পেরে উদ্ভিদটি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা চলমান রেখেছেন। সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, গোলাকার সবুজ থেকে লালচে রঙের থ্যালাসের মতো মাটিতে লেপ্টে থাকা উদ্ভিদটি Carnivorous বা মাংসাশী উদ্ভিদসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড়।

 ৪-৫ সেন্টিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট গোলাকার থ্যালাসসদৃশ উদ্ভিদটির মধ্য থেকে একটি লাল বর্ণের ২-৩ ইঞ্চি লম্বা পুষ্পমঞ্জরি হয়। সংখ্যায় ১৫-২০টি তিন থেকে চার স্তরের পাতাসদৃশ মাংসাল দেহের চারদিকে পিন আকৃতির কাঁটা থাকে। মাংসাল দেহের মধ্যভাগ অনেকটা চামচের মতো ঢালু। পাতাগুলোয় মিউসিলেজ সাবস্টেন্স নামক এক প্রকার এনজাইম নির্গত করে। এনজাইমে পোকা পড়লে আঠার মতো আটকে রাখে। শীতের সকালে পড়া শিশিরে চকচক করে উদ্ভিদটি, তাতেও পোকারা আকৃষ্ট হয়। পোকামাকড় উদ্ভিদটিতে পড়লে এনজাইমের আঠার মাঝে আটকে যায়। তিনি জানান, কয়েক মাস থেকে বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক হোসেন ও তার সহপাঠীদের নিয়ে এক অনুসন্ধানী দল উদ্ভিদটির সংরক্ষণ এবং বিস্তারে তাদের গবেষণা চালাচ্ছে। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক জাহিদুর রহমান জানান, উদ্ভিদটি প্রথম ক্যাম্পাসে শনাক্ত করা হয় ১৯৯৭ সালে। তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান বিশিষ্ট উদ্ভিদবিদ রজব আলী মোল্লা এটি শনাক্ত করেন। পরিবেশের বিরূপ প্রভাবের কারণে উদ্ভিদটি এখন বিলুপ্তপ্রায়।


আপনার মন্তব্য