শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০১:৩৯

গাইবান্ধায় বারোমাসি থাই কাটিমন আম বাগান

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ছোট ছত্রগাছা গ্রামের বিশাল আম বাগানে এই শীত ঋতুতেও শোভা পাচ্ছে গাছে গাছে বারোমাসি থাই কাটিমন আম আর মুকুল। গ্রামের তিন যুবক- যারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু, তাদের দুই বছরের প্রচেষ্টায় এ সফলতা এসেছে। আর্থিক দিক দিয়েও তারা এখন লাভবান। ছোট ছত্রগাছা গ্রামের রুবেল মন্ডল, মাসুদ রানা ও জাহিদ হাসান জয় তিন বন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী। রুবেল মন্ডল ২০১৮ সালে ঢাকা পলিটেকনিক্যাল থেকে (ইলেকট্রিক্যাল) ডিপ্লোমা, মাসুদ রানা বগুড়া বিট পলিটেকনিক্যাল থেকে টেক্সটাইল ট্রেডে ডিপ্লোমা আর জাহিদ হাসান জয় ঢাকার শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক্যাল থেকে টেক্সটাইলে ডিপ্লোমা করেছেন। রুবেল মন্ডল বলেন, ‘তিন বন্ধু মিলে গ্রামে একটা কিছু করব এমন ভাবনা ছিল। পড়াশোনা শেষ করার পর ঢাকায় গার্মেন্টে চাকরি করা অবস্থায় অন্য কিছু করার চিন্তা আসে মাথায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১০ মার্চ আমরা তিন বন্ধু প্রথম আম বাগান করার সিদ্ধান্ত নেই।

পত্র-পত্রিকা দেখে বারোমাসি কাটিমন আমের চারা সংগ্রহ করি চুয়াডাঙ্গা থেকে। মাত্র চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে শুরু করি বাগান। ৫০০ আম ও ২৫০টি পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করি। এরপর দেড় বছরের নিবিড় পরিচর্যায় তা রূপ নেয় পরিপূর্ণ বাগানে। এই বাগানের বারোমাসি আম ও পেয়ারা বিক্রি করে প্রতি মাসে এখন লাখ টাকার মতো আয় হচ্ছে।’ আম ও পেয়ারা বিক্রির পাশাপাশি তারা কলম কেটে বিক্রি করছেন গাছের চারাও।

এক একটি আমের চারা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। এসব চারা তারা বিক্রি করছেন গাইবান্ধা ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

উদ্যোক্তা জাহিদ হাসান জয় বলেন, ‘থাইল্যান্ডের থাই কাটিমন আম গাছ বছরে তিনবার ফলন দেয়। তবে প্রথম দেড় বছর উচ্চ ফলনের আশায় কোনো ফল নেইনি। গত চার মাস হলো ফল বিক্রি করছি আমরা। এখন পর্যন্ত ১৫ মণ আম বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা আয় করেছি।’

আরেক উদ্যোক্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘এ ধরনের বাগান যে কেউ চাইলেই করতে পারবেন। পরিচর্যার পদ্ধতি সহজ। এই বাগান করে ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই। কেননা, এই আম সিজন (ঋতু) ছাড়া বারোমাসই পাওয়া যায়। অফ সিজনে ফলের দাম বেশি থাকে। আমরা পাইকারি দরে প্রতি কেজি আম বিক্রি করছি ৫০০ টাকায়। এই আমের স্বাদও ভালো।’

এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক আজিজার রহমান বলেন, ‘এখানকার আম-পেয়ারা নিতে বাহির থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসছেন। ডাল-পাতা দিয়ে জ্বালানি হচ্ছে। কলম কেটে নতুন চারা বিক্রি করছে। বাগানের সব কিছুই লাভজনক।’

সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খাজানুর রহমান বলেন, ‘ধাপেরহাটের তিন তরুণ কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তায় আম চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বাগান থেকে তারা প্রতি সপ্তাহে ২০-২৫ হাজার টাকার আম বিক্রি করছেন। এটা একটা নতুন প্রযুক্তি। যা সম্প্রসারিত করা গেলে সারা বছর আম পাওয়া যাবে। এ রকম উদ্যোক্তা আমরা আরও খুঁজছি।’


আপনার মন্তব্য