শিরোনাম
প্রকাশ : ৯ এপ্রিল, ২০২০ ২০:১৯
আপডেট : ১০ এপ্রিল, ২০২০ ০০:৪৫

চাল চুরি থেমে নেই, নেই কোন অনুতাপ

হাসিনা আকতার নিগার

চাল চুরি থেমে নেই, নেই কোন অনুতাপ
হাসিনা আকতার নিগার

অদ্ভূত এক জাতির দেশ বাংলাদেশ। একদল মানুষ জীবন বিপন্ন করে দেশের বিপদে লড়াই করে। আরেক দল মানুষ গরীবের খাবার চুরি করে ধনবান হয়। তবে দ্বিতীয় দলের  কিছু যায় আসে না মানুষ মরলে। কারণ তাদের ধারণা তারা বেঁচে থাকবে। আর ক্ষমতার দাপট নিয়ে থাকে এরা দুনিয়াতে। তাই এদের দরকার অনেক অর্থের, প্রভাব-প্রতিপত্তির। তাদের এ অর্থ উর্পাজন হয় সরকার আর গরীবের হক মেরে দিয়ে। 

বাংলাদেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পরিবর্তন আসেনি দুর্নীতিতে। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু দুর্নীতি এখানে এক স্থানে স্থবির হয়ে আছে। জনগণের সেবক হয়ে জনগণের মুখের অন্ন চুরি করা এক শ্রেণির মানুষের মজ্জাগত অভ্যাস। তাই করোনাভাইরাসের মতো মহামারি সংকটকালেও তারা নিজেদের লোভ সংবরণ করতে পারেনি।  

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ত্রাণ নিয়ে নয়ছয় করছে তারা। যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ইতিমধ্যে। আবার মানুষের মুখে শোনা যায় ত্রাণ দিতে গিয়ে চলছে দল মত নিয়ে পক্ষপাতিত্ব। এক্ষেত্রেও সরকার প্রধানের নির্দেশনা উপেক্ষিত। বলা হয়েছে এ সংকটকালীন সময়ে দল মতের বিচার নয়। সহায়তা সবাই পাবে। কিন্তু সরকারি সাহায্যের তালিকাতে এলাকায় এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনা বিদ্যমান। আর এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর সাথে জেলা প্রশাসক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা ভিডিও কনফারেন্সে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার যে বর্ণনা দেয় তা মিথ্যাচার প্রমাণিত হয় মানুষের কাছে।

সারা বিশ্ব এখন ক্ষুদ্র ভাইরাসের সাথে লড়াই করছে। বাংলাদেশও সে যুদ্ধের মাঠে এক সৈনিক। এ ভাইরাস মানুষকে এক ঘরে করে দিয়েছে। আবার বিচ্ছিন্ন থেকে একে অন্যকে বাঁচানোর শিক্ষা দিচ্ছে। বিধাতা মানুষকে তার অন্যায়ের পরিণতি দুনিয়াতে দেখিয়ে দেয়। কারণ প্রকৃতি অন্যায় সহ্য করে না। কিন্তু আজ মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়েও মানুষ মানুষের মুখের অন্ন নিয়ে যখন অন্যায় করছে। এর চেয়ে অমানবিক আর কিছু হতে পারে না। যারা এ ধরনের অন্যায় কাজ করে তাদের অমানুষ বললেও কম বলা হয়। 

দেশের ১৭ কোটি মানুষকে বাঁচাতে সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। কিন্তু  কিছু মানুষের অনিয়ম, মিথ্যাচার লোভাতুর মনোভাব সব চেষ্টাকে ম্লান করে দিচ্ছে। এসব মানুষ  অন্যায়ের জন্য অনুতাপ কোনদিন করেনি আর করবেও না। এমন দুর্যোগ বরং তাদেরকে অসৎ পথে আয়ের সুযোগ করে দেয়। ভোটের খরচ তুলে নেয় মানুষের হক নিজের করে।       

করোনাভাইরাসের আক্রমণ অন্য সময়ের বন্যা, ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মত দেশীয় দুর্যোগ নয়। সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়ে এ ভাইরাস স্থবির করেছে অর্থনীতির চাকা। এক দেশ আরেক দেশকে  আগামীতে সাহায্য করতে পারবে কিনা তা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। যার কারণে বলা হচ্ছে নিজেদের খাদ্য সামগ্রী নিজেরা উৎপাদনের চেষ্টা করতে হবে। খরচে সাশ্রয়ী হতে। অথচ বাংলাদেশের অসাধু জনপ্রতিনিধিরা রিলিফের মাল নিজের ঘরে মজুদ করছে। নীতিজ্ঞানহীন এসব ব্যক্তি মিথ্যা রাজনীতির আর্দশের বুলি দিয়ে জন প্রতিনিধি হয়ে ধ্বংস করছে দেশকে।           
    
বিশ্বের ক্ষমতাবান দেশগুলো করোনাভাইরাসের কাছে আজ অসহায়। তাদের অর্থ অস্ত্রের হুংকার সব তুচ্ছ হয়ে গেছে। কোথাও এখন পর্যন্ত অদেখা করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য নেই কোন প্রতিষেধক। অদৃষ্টকে মেনে নিয়ে শুধু সামাজিক সঙ্গ নিরোধ, পরিষ্কার থাকা এর প্রতিকার। যার কারলে ঘরবন্দী আক্রান্ত দেশের মানুষরা।  
 
আমাদের দেশের ঘরবন্দী দিন আনা দিন খাওয়া মানুষরা করোনাভাইরাসের চেয়ে অন্নের জন্য চিন্তিত। সন্তানের মুখে ভাত তুলে দিতে বের হয় কাজের জন্য। তারা মৃত্যুর চেয়ে ভয় পায় অনাহারকে। একবার তাদের কথা বিবেক দিয়ে ভাবুন। তাহলেই তাদের বরাদ্দকৃত ত্রাণ দিয়ে ফটোসেশন করে খাবার কেড়ে নিতে লজ্জিত হবেন। 

'জীব প্রেম করে যে জন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর- এ কথাটা উপলদ্ধি করুন। তা হলেই মিথ্যা জনগণের সেবকের মুখোশটা নিজেই উপড়ে ফেলে দিতে পারবেন। করোনাভাইরাস মানুষকে একটা নতুন পৃথিবী তখনই দিবে, যখন অন্যায়ের জন্য অনুতপ্ত হবে মানুষ। তার জন্য চাল চুরির মানসিকতা পরিহার করতে হবে। আর হাতটা বাড়তে হবে মানুষের দিকে, মানবিক ভাবনা দিয়ে। তবেই করোনাভাইরাসে পরাজিত হবে মানবিকতা কাছে   

লেখক : কলামিস্ট

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য