শিরোনাম
প্রকাশ : ৩ জুলাই, ২০২০ ০৮:২১

ভালো নেই কেউ

হাসিনা আকতার নিগার

ভালো নেই কেউ
হাসিনা আকতার নিগার

কেমন আছেন- এ প্রশ্নের উত্তর দিতে ইতস্তত হয় এখন। ভালো আছি বলাটা যেন স্ববিরোধী কথা।  করোনাভাইরাসের আতংক আর আর্থিক চিন্তা মানুষকে অস্থির করে তুলেছে। একটু মুক্ত বাতাসে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেবার উপায় নেই। প্রকৃতি তার আপনরূপ ফিরে পাচ্ছে মানুষকে ঘর বন্দি করে। কিন্তু সে রূপ নয়ন ভরে দেখা থেকে বঞ্চিত মানুষ। প্রকৃতির প্রতি অবিচারের শাস্তি হয়ত এটা। অন্যদিকে      বদলে যাওয়া পৃথিবীতে মানুষ এখন চরম বাস্তবতার সম্মুখীন। 

করোনাকালীন সময়ে ঘরে ঘরে অভাব রয়েছে সকলের কম বেশি। মৃত্যু বা অসুস্থতা হবার আশংকা নিয়েও মানুষ কাজে যাচ্ছে। কারণ পেটের ক্ষুধা আর জীবনের চাহিদা কোন নিয়ম মানে না। কোভিড ১৯ মানুষের ভালো থাকার সংজ্ঞাটাই পাল্টে দিয়েছে। 

শহর ছাড়ছে মানুষ। কারণ বাড়ি ভাড়া দেয়ার সার্মথ্য হারাচ্ছে জীবিকার পথ বন্ধ বলে। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশি। বিশ্বাস ছিল করোনাভাইরাস মানুষকে বদলে দিবে। প্রকৃতির মত নির্মলতা নিয়ে বিকশিত হবে মানবিক পৃথিবী। কিন্তু মানুষ নিজেকে পরিবর্তন করতে পারছে না৷ হানাহানি, অসাধুতা, ঘুষ দুর্নীতি সমাজকে অস্থির  করছে এ মহামারীরকালেও। তাই ভালো থাকার প্রত্যাশাটা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। 

কোভিড ১৯ এর প্রকৃত চিত্র দেশে নেই। প্রতিদিন চেনা জানা স্বজন মারা যাচ্ছে। কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। কেউ অন্য কোন রোগ। বলতে গেলে করোনার কারণে অন্য রোগের চিকিৎসা করা এখন দুরূহ ব্যাপার। বিত্তশালীরা অনেকেই বিদেশ যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দেখার কেউ নেই। মৃত্যু এখন মানুষ মেনে নিয়েছে। তাই এ মহামারীতে শোকের বার্তাকে মনে হয় কেবল লৌকিকতা। ঘরে বসে দিন যাপনের মত অবস্থা আর কারো নেই। মহামারি প্রকোপ দেখা দিয়েছে জনজীবনে। বাসা ভাড়া না পেয়ে বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াদের সাথে করছে অমানবিক আচরণ। পারিবারিক জীবনে অশান্তি দেখা দিচ্ছে পারিপার্শ্বিকতার চাপে। শুধু বাঁচার তাগিদে পেশার পরিবর্তন করতে হচ্ছে অনেককে। শিক্ষক আইনজীবী, ব্যবসায়ীরা জানে না কবে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে। 

ঘুরে দাঁড়াতে হলে সবার আগে টিকে থাকতে হবে। সে টিকে থাকাকে সহজসাধ্য করার জন্য মনোবল ফিরে পাওয়া জরুরি। কিন্তু কোভিড ১৯ মানুষকে জটিল এক জগতে প্রবেশ করে দিয়েছে। রোগের সাথে বসবাসকে বাস্তবতা ধরে সরকার ও জনগণ বাঁচাতে চাইছে। আর সে পরিস্থিতিতে ভালো থাকতে হলে আচরণগত পরিবর্তন করতে হবে সবাইকে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সকলে। নিজের একক ক্ষতিকে পুষিয়ে নিতে অন্যের প্রতি অবিচার অনিয়ম করা এ মুহুর্তে অন্যায়। তবে সে অন্যায় বাড়ছে সর্বক্ষেত্রে। যা নিয়ে সাধারণ জনগণ প্রতিবাদ করতে পারে না। কারণ তাদের কাছে করোনাভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর বেকার জীবন। কিন্তু এর থেকে মুক্তি চায় সকলে। তাই কোভিড ১৯ কে হাতিয়ার করে   মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগে ফায়দা নেয়া বন্ধ করতে হবে সবার আগে।        

মানুষের বিপদে মানুষকে পাশে থাকা স্বাভাবিক। সুতরাং একটু মানবিক হয়ে পরস্পরের প্রতি  সহমর্মিতা অনুভব করলেই অনিয়ম দুর্নীতি করার প্রবনতা কমে আসবে। ক্ষুদ্র এক অদৃশ্য ভাইরাসের কাছে কতটা তুচ্ছ এ বিত্ত বিলাস তা আজ প্রমাণিত। মিথ্যা মোহের প্রাসাদে গড়ে পৃথিবীকে কুলষিত করা আর বিধাতা মেনে নিবে না। অতএব রোগ থেকে মুক্তি পেতে যেমন সচেতন থাকা দরকার। তেমনিভাবে সকলে মিলে ভালো থাকতে হলে অন্যের প্রতি অমানবিক আচরণ পরিত্যাগ করতে হবে। তাহলেই ভালো থাকা সম্ভব হবে আগামীতে।

লেখক: কলামিস্ট। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর