Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ জুন, ২০১৯ ১০:৫১
আপডেট : ২৬ জুন, ২০১৯ ১১:০৬

ওয়াশিংটন বইমেলায় সাহিত্য পুরস্কার পেলেন মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন্নবী

নিউইয়র্ক থেকে এনআরবি নিউজ :

ওয়াশিংটন বইমেলায় সাহিত্য পুরস্কার পেলেন মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন্নবী

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী সংলগ্ন আর্লিংটনে শেরাটন পেন্টাগণ সিটির বলরুমে ‘বিশ্বজুড়ে বাংলা বই’ স্লোগানে দুই দিনব্যাপী বইমেলায় দেশ ও প্রবাসের খ্যাতনামা কবি-লেখক-সাহিত্যিকদের সাথে বিপুলসংখ্যক পাঠকের সমাগম ঘটে। 

মেলার সমাপনী দিবস তথা ২৩ জুন রবিবার বিপুল করতালির মধ্যে এবারের সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয় মুক্তিযোদ্ধা-লেখক-বিজ্ঞানী এবং নিউজার্সির প্লেইনসবরো সিটির কাউন্সিলম্যান ড. নূরন্নবীকে। 

এটি হস্তান্তর করেন দেশবরেণ্য ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন। 

উল্লেখ্য, গত বছর প্রবর্তিত এই পুরস্কার পেয়েছেন জনপ্রিয় লেখিকা দিলারা হাশেম। এবার পেলেন মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা আলোকে গবেষণামূলক প্রবন্ধের জন্য কাদেরিয়া বাহিনীর অসম সাহসী গেরিলা নূরন্নবী। এ সময় সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দারকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা  প্রদান করা হয়।

‘আমরা বাঙালি ফাউন্ডেশন’ নামক একটি সংগঠন ছিল বইমেলার আয়োজক। এটি ছিল ওয়াশিংটন ডিসিতে সর্ববৃহৎ বইমেলার দ্বিতীয় আয়োজন। 

মিডিয়া পার্টনার ছিল ‘বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’, ওয়াশিংটন সংবাদ,  বিষেরবাঁশী, আলাপন  ও ডিসি বাংলা। বইমেলার অফিসিয়াল পার্টনার ছিলো বিসিসিডিআই বাংলা স্কুল, বর্ণমালা শিক্ষাঙ্গন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ওয়াশিংটন ডিসি, সেতার নিকেতন। 

সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের প্রাক্কালে মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন্নবী সম্পর্কে জানানো হয় যে, ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বিষয়ে দু’টি ইংরেজিসহ মোট দশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। ২০১৭ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ড. নবীকে বাংলা একাডেমির ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও প্রথম সিনেটের নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি ড. নূরন্নবী যুক্তরাষ্ট্রে কোলগেট পালমোটিভ কোম্পানির ‘কোলগেট টোটাল’ ব্র্যান্ড টুথপেস্টের আবিস্কারক। যুক্তরাষ্ট্রে ড. নবীর ৫০ টিরও অধিক পেটেন্ট রয়েছে। ডেমক্র্যাটিক পার্টির রাজনীতির সাথে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ৩১ বছরের অধিক সময় যাবত। দুই পুত্র সন্তানের জনক ড. নূরন্নবীর স্ত্রী জিনাত নবীও মুক্তিযোদ্ধা এবং বিজ্ঞানী হিসেবে নিউজার্সির একটি গবেষণা কোম্পানীর সিনিয়র সায়েন্টিস্ট। 

পুুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরী, সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী, সাহিত্যিক আনিসুল হক, ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক সরকার কবির উদ্দিন ও আনিস আহমেদ, কবি সৈয়দ আল ফারুক, কবি হুমায়ুন ঢালী, আমরা বাঙালি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আরশাদ আলী বিজয়, ডিসি বইমেলা-২০১৯ এর প্রধান সমন্বয়ক সামিনা আমিন ও সচিব দস্তগির জাহাঙ্গীর।
প্রবাসী বাঙালিদের মাঝে বাংলা বই এবং প্রবাস প্রজন্মে বাঙালি সংস্কৃতি জাগ্রত রাখার অভিপ্রায়ে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি দ্বিতীয় বইমেলা শুরু হয় ২২ জুন শনিবার সকালে। সংগঠনের প্রধান সমন্ময়ক সামিনা আমিনের সূচনা বক্তব্যের পর “বিশ্ব মানব হবি যদি শাশ্বত বাঙ্গালী হ” নামে শোভাযাত্রায় বইমেলার সূচনা ঘটে। 

বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের পরিবেশনা ও পরিচালনা করেন মহিতোষ তালুকদার তাপস, নাসের চৌধুরী, আশিস বড়ুয়া ও শিমূল সাহা। 

মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো ছিলেন কবি সৈয়দ আল ফারুক, বিশিষ্ট সাহিত্যিক হাসান মাহমুদ, ও কবি মাহবুব হাসান সালেহ।  মেলা উপলক্ষে প্রেরিত প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বাণী পাঠ করেন আমরা বাঙালি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আরশাদ আলী বিজয়, তথ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বাণী পাঠ করেন যুগ্ম সম্পাদক মোঃ উল্লাহ আমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন, দূতাবাসের উপ-প্রধান কবি মাহবুব সালেহ ও বইমেলার প্রধান উপদেষ্টা কথাশিল্পী রোকেয়া হায়দার।

বর্ণমালা শিক্ষাঙ্গনের আয়োজনে  শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় মেলাতে। নতুন প্রজন্মের বিশেষ আয়োজন “প্রজন্ম” সহ  নতুনদের কথায় বক্তব্য  রাখেন অনামিত্রা বড়ুয়া ও মানাল আমিন।  

প্রথম দিনের আয়োজনে ছিল ৯ টি নতুন বই পরিচিতি ও  লেখকদের সাথে বিশেষ কথোপকথন। বই পরিচিতিতে ছিলেন আসিফ এন্তাজ রবি, ড. শাহাব আহমেদ, মুস্তফা তানিম, বেনজীর শিকদার, সামিনা আমিন, আমিনুল ইসলাম, আনিস আহমেদ ও হাসান মাহমুদ।

ছড়াকার ও কবি সন্তোষ বড়ুয়ার ডিসি বইমেলা-২০১৯ সময় কালকে বেছে নিয়েছেন তার নতুন বইয়ের প্রকাশ কাল।  কবির বই এর পাঠ উন্মোচন করা হয় বইমেলার প্রথম দিনে। 
কন্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমান সুমির প্রথম গানের এলব্যামের প্রকাশনা, বিশিষ্ঠ সেতার শিল্পী আলিফ লায়লার একক ও মনোমুগ্ধকর সেতার কনসার্ট, চায়ের সাথে লেখক কবিদের বিশেষ আড্ডা, বাংলা স্কুলের “লোকজ” পরিবেশনা  “ ধন্য ধন্য বলি তারে” ফতে মোল্লার উদ্ভ্রান্ত আলাপ ও নিউইয়র্ক থেকে আগত ও স্থানীয় ছড়াকারদের অনুষ্ঠান “ছড়াটে”।
প্রথম দিনের মেলার পর্দা নামে পঞ্চ কবিবের গানের অনুষ্ঠানে। এতে অংশ নেন শাহনাজ রহমান সুমি, কুমকুম বাগচী, রাজদীপ ভাদুরী , দিনার মনি ও ফয়সাল কাদের। 
দ্বিতীয় দিনের বইমেলার সূচনা ঘটে অতিথিদের সাথে প্রাত:রাশের মাধ্যমে। এতে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ, কানাডা ও বিভিন্ন অঙ্গরাষ্ট্র থেকে আগত অতিথি ও স্থানীয় লেখক কবি সকলে। দিনের আরেক আকর্ষণ সৈয়দ হারেস এর পরিকল্পনায় বিশেষ সেমিনার। মুল মঞ্চে পরিবেশনায় ছিলেন নিতু গঞ্জালভেজের সম্পাদনায় সৃষ্টি নৃত্যালয়ের পরিবেশনা “ নৃত্যের তালে তালে”।
এদিনে আরো ১১ টি নতুন বই পরিচিতি ও লেখকদের সাথে বিশেষ কথোপকথনেরও আয়োজন ছিল। এরা হলেন নুরজাহান বোস, ডঃ আব্দুন নূর, ড. এস মাহতাব আহমেদ, ওয়াহিদা আফজাল, মাহবুব সালেহ, সৈয়দ আল ফারুক, আশরাফ আহমেদ,  হুমায়ুন কবির ঢালী, ড. নূরনবী, হাসান মাহমুদ ও আনিসুল হক।
বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালায় সাজানো মেলার সারা বেলায় ছিল বর্ণে বর্ণে বাঙালি সম্মাননা প্রদান সহ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী, ঘুঙুরের পরিবেশনা, শান্তনু বাগচীর গ্রন্থনায় শ্রুতি নাটক, গল্প বলায় ওয়াহিদা আফজাল, বাগডিসির পরিবেশনা  মুনীর চৌধুরির কালজয়ী নাটক “ কবর”।
ফয়সাল কাদের, লাবনী কাদের ও শারমীন শর্মীর কন্ঠে আধুনিক গানের আসর, বাংলাদেশ থেকে আসা কন্ঠ শিল্পী নাহিদ নাজিয়ার সুরের মুর্ছনা, হৃদয়বীনার পরিবেশনা “ভরা থাক স্মৃতি সূধায়, গানের ছোঁয়ায় কবিতা’’, এস এম মিলনের গ্রন্থনায় ও অন্তরা বড়ুয়ার সহযোগিতায় একতারার বিশেষ অনুষ্ঠান “ভাটির টানে মাটির গানে”, লালনের গানে দিনার মনি।
বইমেলার সর্বশেষ পরিবেশনায় ছিলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী শ্রেয়া গুহ ঠাকুরতা।
বইমেলায় বিভিন্ন পর্বে যন্ত্র সঙ্গীতে ছিলেন হিরণ চৌধুরী, মোহাম্মদ মজিদ, আবু রুমি, নাসের চৌধুরী, ড্যাভিড রানা, আশিষ বড়ুয়া ও মীর নাকিবুল ইসলাম।
মেলার উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন আতিয়া মাহজাবীন নিতু, শতরূপা বড়ুয়া, নাসরীনা আহমেদ ও ফয়সাল কাদের।
মঞ্চ পরিচালনায় আরিফুর রহমান স্বপন ও আতিয়া মাহজাবীন নিতু ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন নাজমুল আহসান। 
বইমেলার গ্রাফিক্স পরিকল্পনায় ছিলেন স্থপতি আনোয়ার ইকবাল, মঞ্চ সাজে হারুন উর রশিদ ও ওয়েব সাইট ব্যবস্থাপনায় তারেক মেহদী।
মেলাতে বাংলাদেশ থেকে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতির নির্বাহী সম্পাদক মনিরুল হকের নেতৃত্বে অংশ গ্রহণ করে আমরা বাঙালি ফাউন্ডেশন, সর্বজন কথা, পুথিনীলয়, অংকুর, স্বদেশ, শৈলী, প্রথম আলো, প্রীতম, সময়, ঘুংঘুর, আহমেদ পাবলিশিং, নালন্দা, কল্লোল, কথা প্রকাশ, আনন্দময়ী, পঙ্খীরাজ, অন্য প্রকাশ, সন্দেশ, বিপিএল  প্রকাশনা।
বইমেলার এবারের প্রধান সমন্বয়ক সামিনা আমিন, সদস্য সচিব দস্তগীর জাহাঙ্গীর, আমরা বাঙালি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফজলুর চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আরশাদ আলী বিজয় অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন আমরা বাঙালি ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সম্পাদক মো: আমান উল্লাহ, ট্রেজারার মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক জীবক কুমার বড়ুয়া ও আলতাফ হোসেন। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য