Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২১:২৩

ওয়াহিদ ইবনে রেজা

অস্কার মনোনয়নে বাংলাদেশির দুই ছবি

শনিবারের সকাল ডেস্ক

অস্কার মনোনয়নে বাংলাদেশির দুই ছবি

বিশ্বের বুকে একের পর এক খ্যাতি কুড়াচ্ছেন ওয়াহিদ ইবনে রেজা। কাছের মানুষরা তাকে চেনেন বাপ্পি নামে। ছাত্রাবস্থায় যোগ দিয়েছিলেন বিখ্যাত কার্টুনিস্ট লেখক আহসান হাবীব সম্পাদিত উন্মাদ-এ স্টাফ রাইটার হিসেবে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করেন ওয়াহিদ। যোগ দেন একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। কিন্তু চাকরিতে তার মন বসে না, কিছুদিন পরই সব ছেড়েছুড়ে নাটক লেখা শুরু করেন। এরপর বিজ্ঞাপনে কাজ আর কিছুদিন ক্যারটকমে কাজ করে যোগ দেন গ্রে অ্যাডভার্টাইজিং বাংলাদেশে। সেখানে কপি হেডের দায়িত্বে ছিলেন ওয়াহিদ। ২০১০ সালে ওয়াহিদ দেশ ছেড়ে কানাডায় পড়তে যান। ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ফিল্ম প্রোডাকশন বিষয়ে।  ইন্টার্নশিপ করেন মার্কিন প্রতিষ্ঠান এনবিসি ইউনিভার্সেলে।

 

 

চলতি বছরে বাংলাদেশের গর্বিত সন্তান ওয়াহিদ ইবনে রেজার কাজ করা দুটি চলচ্চিত্র অস্কারে মনোনীত হয়েছে। চলচ্চিত্র দুটি হলো- ব্ল্যাক প্যানথার ও এভেঞ্জারস ইনফিনিটি ওয়ার! এই খবরটি ব্যক্তি রেজার জন্য যতটা গর্বের নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য ততটায় গর্বের। বর্তমানে তিনি হলিউডের নামজাদা প্রযোজনা সংস্থা সনি পিকচার্স স্টুডিওর অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান সনি পিকচার্স ইমেজ ওয়ার্কসের হয়ে কাজ করছেন। তবে সনিতে জয়েন করার আগে তার এই কাজগুলো করে আসা মেথড স্টুডিওতে।

কানাডায় গিয়ে ওয়াহিদ ইবনে রেজা প্রথম কাজ করেন টেলিভিশন ধারাবাহিক স্যুটস ও ডিফায়েন্সে। ফাইনাল ইয়ারের প্রজেক্ট হিসেবে ‘হোয়াট আই অ্যাম ডুয়িং হেয়ার’ নামের একটি শর্টফিল্ম নির্মাণ করেন। এই ফিল্মের জন্য পারসিসটেন্স অব ভিশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তার হাতে ওঠে বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড। গ্র্যাজুয়েশন শেষে যোগ দেন অ্যানিমেশন স্টুডিও বার্ডেলে। তার কিছুদিন পর এমপিসিতে প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে যোগ দেন। সেটাও বেশিদিন করেননি তিনি। যোগ দেন মেথড স্টুডিওস নামের আরেকটি বিখ্যাত ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট কোম্পানিতে। প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে মার্ভেল এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে। সেখানে ভিএফএক্স স্টুডিও যুক্ত থাকার সুবাদে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা : সিভিল ওয়ার’ ও ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ ছবির ভিজ্যুয়াল টিমে ছিলেন ওয়াহিদ। এরপর ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর থেকে সনি পিকচার্স ইমেজওয়ার্কসের হয়ে কাজ করছেন। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার শহর ভ্যানক্যুভারে এর কার্যালয়। এখানে তিনি অ্যাসোসিয়েট প্রোডাকশন ম্যানেজার পদে কাজ শুরু করেন।

ওয়াহিদ তার কর্মজীবনে হলিউডের ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান : ডন অফ জাস্টিস’, ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস সেভেন’, ‘নাইট অ্যাট দ্য মিউজিয়াম : সিক্রেট অব দ্য টম্ব, ‘এক্সোডাস : গডস অ্যান্ড কিংস’ এবং ‘ফিফটি শেইডস অব গ্রে’ ছবিতেও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৭ সালে ‘ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস’ বিভাগে তার কাজ করা ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ ও ‘ গার্ডিয়ান্স ২’ অস্কারে নমিনেশন পেয়েছিল। সনিতে যোগদানের পর অবশ্য রেজার বাবা কিছুটা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। ভেবেছিলেন, ছেলে আগে রিলেটিভলি ছোট কোম্পানিতে ছিল বলে আগেও দুটি অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু নতুন এই বড় কোম্পানিতে তাকে হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ সনিতে থাকা অবস্থায় বাবার সেই দুশ্চিন্তার অবসান ঘটিয়ে চলতি বছরে সুখবর যোগ হলো- দুটি ছবির মনোনয়ন। যেখানে ওয়াহিদ ইবনে রেজা নিজেই বিশ্বাস করেন, একেকটা কোম্পানি সাধারণত বছরে ৬-৭টা সিনেমায় কাজ করে। কে কোন সিনেমার কাজ করবে তা অনেকটাই ভাগ্যের ব্যাপার। তার মধ্যে কোন সিনেমা নমিনেশন পাবে সেটা আগে  থেকে বলা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু তার ভাগ্য ভালো ছিল বলে ডক্টর স্ট্রেঞ্জ আর গার্ডিয়ান্স ২ এ কাজ করতে পেরেছিলেন। অনেকে আছেন যারা ১৫-২০ বছরের ক্যারিয়ারেও একেবারের জন্য নমিনেটেড সিনেমায় কাজ করার সুযোগ পাননি। তার কাছে কাজ করার সুযোগ পেলে মজার। কিন্তু না পেলে একেবারে কঠিন হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

ওয়াহিদ ইবনে রেজা নিজেকে যেভাবেই বিশ্লেষণ করুন না কেন, তার পরম শত্রুও স্বীকার করবেন- সন্দেহাতীত প্রতিভা আছে বলেই আজ তিনি এত বড় বড় কোম্পানিতে কাজ করছেন।

এবারের অস্কার মনোনয়ন পাওয়া ব্ল্যাক প্যানথার প্রথম সুপার হিরো ফিল্ম হিসেবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও এভেঞ্জারস ইনফিনিটি ওয়ার-ভিএফএক্স ক্যাটাগরিতে বিবেচিত। রেজা জানান, ব্ল্যাক প্যানথারে কাজ করেছি চার মাস। প্রথম ট্রেইলার বের হওয়া পর্যন্ত, তখন প্রোডাকশন টিম মাত্র গোছানো হচ্ছিল। তাই একাই ৩-৪ জনের কাজ করেছি। ব্ল্যাক প্যানথার মুভিতে আমাদের স্টুডিও সবচেয়ে বেশি কাজ করে। মূল চরিত্র এবং ভিলেনের পোশাক আমরা বানাই। আমাদের কাছে তাই শুটিং  লোকেশন থেকে একচুয়াল কস্টিউম  ডেলিভারি হয়। আমরা সেগুলো ফটোগ্রাফি করি ডিজিটাইজ করার জন্য। তিনি এই পুরো দায়িত্বে ছিলেন। এ ছাড়াও ছিল আরও অনেক কাজ। অপরদিকে এভেঞ্জারস ইনফিনিটি ওয়ার সম্পর্কে তিনি বলেন-এতে কাজ করেছি দুই মাস। আমাদের কাজটা ছিল থর আর গার্ডিয়ান্স নিয়ে। প্রথম দুই মাসে আমরা কাজ করি স্পেসশিপ বানানোতে। রকেট যেটা চালায় সেটা। পাশাপাশি রকেট আর গ্রুট নতুন করে বানানো হয় ডিজনির কমিককনের জন্য। এ ছাড়া আমি এই  শোতে কাজ করা নতুন প্রোডাকশন  কো-অর্ডিনেটরদের ট্রেনিং দেই।  প্রোডাকশন কীভাবে করতে হবে তার একটা গাইডলাইন তৈরি করি। ক্লায়েন্ট কল অর্গানাইজ করি। এ কাজে তিনি সবচেয়ে মজা পেয়েছিলেন পিটার ডিংকলেজ এর চরিত্রটির দৃশ্যগুলোতে। সেখানে তাকে ছোট্ট মানুষকে কী করে জায়ান্ট বানানো যায়, তা নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করতে হয়। তিনি বলেন, আমি যখন চলে আসি তখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে শুরু করে, আর বানানো শুরু হয় সেই বিশাল এনভায়রনমেন্ট যেখানে থর তার নতুন হ্যামারটা বানায়। এ বছর অস্কারে মনোনয়ন পাওয়া দুটি চলচ্চিত্র নিয়ে এভাবেই অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন ওয়াহিদ ইবনে রেজা।


আপনার মন্তব্য