শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ মার্চ, ২০২১ ২২:০৩

দুই পা হারিয়েও ভ্যানচালক রোকেয়া

মো. রিয়াজুল ইসলাম

দুই পা হারিয়েও ভ্যানচালক রোকেয়া

আজ নারীরা নিজেদের আর সমাজের বোঝা মনে করেন না। বরং কঠোর পরিশ্রমই তাদের এগিয়ে নিচ্ছে সমাজের প্রতিটি স্তরে। এমনই এক দৃষ্টান্ত রেখেছেন দিনাজপুরের হাকিমপুরের বোয়ালদার গ্রামের রোকেয়া বেগম। দুই পা হারিয়ে রোকেয়া বেগম ভিক্ষাবৃত্তি নয় বরং ভ্যান চালিয়ে চালাচ্ছেন তার সংসার। রোকেয়ার বেঁচে থাকার লড়াই অনেকেরই জন্য শিক্ষণীয় এমনটাই বললেন স্থানীয়রা।

হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্ত থেকে চার কিলোমিটার পূর্বদিকে বোয়ালদাড় গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম। স্বামী নিয়ে ভালোই চলছিল তার সুখের সংসার। কিন্তু হঠাৎ একদিন এলোমেলো করে দেয় একটি দুর্ঘটনা।

ট্রেন দুর্ঘটনায় দুটো পা হারান রোকেয়া বেগমের। সংসারে নেমে আসে সীমাহীন অভাব। আর এই বিপদের সময় এবং অভাবের কারণে রোকেয়াকে রেখে সংসার ছেড়ে পালিয়ে যায় তার স্বামী আকমল হোসেন। তবুও জীবনসংগ্রামে থেমে থাকেননি এবং সংসারের হালও ছাড়েনি তিনি।

তবে তিনি নামেননি ভিক্ষাবৃত্তি পেশায় বরং কষ্টের জমানো টাকায় কেনা ব্যাটারিচালিত একটি ভ্যান চালিয়ে নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে সচল রাখেন তার সংসারের চাকা।

রোকেয়া বেগম বলেন, কয়েক বছর আগে ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েছি। এরপর আমাকে ফেলে রেখে স্বামী চলে যায়। সংসার দেখার মতো কেউ ছিল না। অনেক কষ্টের সামান্য টাকা দিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ক্রয় করি। সেই ভ্যান চালিয়ে যে টাকা পাই, সেটা দিয়ে চলে আমার সংসার।

তিনি আরও জানান, আমার কোনো জায়গা-জমি ছিল না। সরকার আমাকে জায়গা দিয়েছে কিন্তু আমার বাড়ি করার কোনো সামর্থ্য নেই। যা উপার্জন করি, তা আমার খেতেই চলে যায়।

তাই সরকারের কাছে অনুরোধ আমাকে যদি একটা বাড়ির ব্যবস্থা ও একটি ভালো ভ্যান দিত, তাহলে আমার জন্য অনেক ভালো হতো। এদিকে স্থানীয় কয়েকজন জানান, রোকেয়ার পা কেটে যাওয়ার পর সে অনেক কষ্ট করে দিন পার করেছেন। তারপরও রোকেয়া ভিক্ষা করেন নাই। ভ্যান চালিয়ে সে নিজের সংসার চালায়। জীবন চলার পথে থমকে যাবে না নারীরা। রোকেয়ার মতো উঠে দাঁড়াবেন আজকের নারী দিবসে এমনটাই প্রত্যাশা হোক সবার।