শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৩ ০০:০০ টা

নকশিকাঁথা ও পোশাকে কারুকাজে ভাগ্যবদল

কামরুজ্জামান সোহেল, ফরিদপুর

নকশিকাঁথা ও পোশাকে কারুকাজে ভাগ্যবদল

শিলা আক্তার, জবেদা বেগম, তুলসী রানী মালো, দীপালী রানী, আমেনা বেগম, মুন্নী আক্তারী। এরা সবাই এক সময় ভূমিহীন ছিলেন। তাদের কারও ছিল না থাকার ঘর কিংবা নিজস্ব জমি। কেউ রাস্তার কাছে, কেউবা সরকারি জায়গায়, কেউবা আবার অন্যের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করতেন। স্বামী-সন্তানদের নিয়ে তারা নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করতেন। তাদের স্বামীরা কেউ মাছ ধরেন, কেউ শ্রমিকের কাজ করেন, কেউবা আবার রিকশা-ভ্যান চালিয়ে জীবন যাপন করতেন। আর নিজেরা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে যা পেতেন তা দিয়েই কোনো রকমে স্বামী-সন্তান নিয়ে চলতেন। সেসব হতভাগ্য নারী এখন মাথা উচু করে বেঁচে থাকার অবলম্বন পেয়েছেন। এসব নারী প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিসহ পাকা ঘর পেয়েছেন। শুধু বাসস্থানই নয়, নানা সুযোগ-সুবিধাও পাচ্ছেন তারা। তাদের সন্তানেরা করছে পড়ালেখা। নিজেরা নানা কাজ করে আয়ের পাশাপাশি অন্যদের আলোর পথ দেখাচ্ছেন। ফরিদপুরের ছোট্ট একটি গ্রাম কফাই বালিয়া। নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের কুমার নদের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এ আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করছে ১২০টি পরিবার। এ আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা নারীরা নকশিকাঁথা, শাড়ি-থ্রিপিসের কারুকাজ করছেন। তাছাড়া পাট ও বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছেন। এ ছাড়া বাড়ির আঙিনায় সবজি ও মাছ চাষ করছেন। করছেন হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পালন। এসব করে একসময়ের হতদরিদ্র নারীদের এখন দিন বদলে গেছে। স্বামী, সন্তান নিয়ে তারা এখন সুখেই দিন কাটাচ্ছেন। কফাই বালিয়া গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পে আসার পর তাদের জীবনটাই পাল্টে গেছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ তারা পেয়েছেন। প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে এখন তারা নিজেরা তৈরি করছেন নকশিকাঁথা, শাড়ি-থ্রিপিসের নকশি, বাঁশ-বেত-পাট দিয়ে নানা পণ্য। তাদের এসব পণ্য কিনতে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসছে। তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য ঘরে বসেই বিক্রি করতে পারছেন। অল্প দিনেই তাদের এসব পণ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। জবেদা বেগম, মুন্নী আক্তারী জানান, তারা নকশিকাঁথা বিক্রি করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। প্রতিটি কাঁথা বিক্রি করা হচ্ছে প্রকারভেদে ২ থেকে ৪ হাজার টাকায়। বিভিন্ন স্থান থেকে এসে অনেকেই কাঁথা নিয়ে যাচ্ছেন। এবারের ঈদের আগে বেশ কিছু কাঁথার অর্ডার পেয়েছেন। কয়েক দিনের মধ্যে তারা কাঁথা বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা ৯টি ট্রেডে ৪৪৫ জন উপকারভোগীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করেছে উপজেলা প্রশাসন। নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি এসব নারীরা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈনুল হক।

সর্বশেষ খবর