শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মার্চ, ২০২১ ২১:৫০

বিশ্বের দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ

প্রতিদিন ডেস্ক

বিশ্বের দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ
Google News

পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ কক্সবাজারের চেহারা বদলে দিয়েছে।  কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ৮০ কিলোমিটার দীঘ। এটি কক্সবাজারের কলাতলী সৈকত থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০১৭ সালের ৬ মে এটি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে এটির নির্মাণ কাজ পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন এর নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ছিল। তিনটি ধাপে মেরিন ড্রাইভটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে ইনানী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার, দ্বিতীয় ধাপে শিলখালী থেকে টেকনাফ সদর পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার ও শেষ ধাপে শিলখালী থেকে টেকনাফের সাবরাং পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার সড়ক তৈরি করা হয়। এতে মোট খরচ হয় প্রায় ৪৫৬ কোটি টাকা। এর নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এক বছর আগেই তা শেষ হয়। সড়কটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভের ৮০ কিলোমিটার আগেই নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এটিকে একেবারে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত সমুদ্রের কোলঘেঁষে ১৭০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সড়কে যুক্ত হয় কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিদ্যমান ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের সঙ্গে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। পরিকল্পনা রয়েছে এ সড়ক ঘিরেই মিরসরাই থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠবে ছোট-বড় অসংখ্য রিসোর্ট, হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্ট। স্থানে স্থানে হচ্ছে ছোট ছোট সি-বিচ। এ মেরিন ড্রাইভ ঘিরে শুধু পর্যটনশিল্প থেকেই বছরে আয় করা সম্ভব  হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত কাঁচা পণ্যের ব্যবসা। এছাড়া বিশেষ করে ব্লু ইকোনমি বা সামুদ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে। সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে সেটি কাজে লাগানো যেতে পারে এ মেরিন ড্রাইভ ব্যবহার করে। সমুদ্র থেকে যে পরিমাণ মৎস্য সম্পদ আহরণ করা হয় সেটি দ্রুততম সময়ে দেশের যে কোনো প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে শুধু মেরিন ড্রাইভের কারণে। এখানে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে এ সমুদ্রঘেঁষা সড়কটি। এ মেরিন ড্রাইভের কারণেই চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকাগুলোর চেহারাও পাল্টে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় দেশের পূর্বাঞ্চলে একটি নতুন অর্থনৈতিক বেল্ট তৈরি হলো। সুরক্ষিত হবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকা। এটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল এলাকায়। এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ও দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ। বদলে যাবে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থাও। ওই অঞ্চলে কমবে বেকারত্ব। নানারকম কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশের অর্থনীতি মজবুত হবে।  এ মেরিন ড্রাইভ চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নির্মাণাধীন চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল এবং সীতাকুন্ড উপকূলে প্রস্তাবিত মিনি বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায়ও এ মেরিন ড্রাইভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় মেরিন ড্রাইভের সুফল পাওয়া যাবে।