শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ এপ্রিল, ২০২০ ২২:১৮

আজ সেই মহিমান্বিত ক্ষমা প্রার্থনার রাত...

মোহাম্মদ আবু তালহা তারীফ

আজ সেই মহিমান্বিত ক্ষমা প্রার্থনার রাত...

আজ ১৫ শাবানের পুণ্যময় সেই রজনী। মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং মুক্তি নিয়ে উপস্থিত মহিমান্বিত পবিত্র শবেবরাত। এটি ফার্সি শব্দ। অর্থ মুক্তির রাত। হাদিসের ভাষায় বলা হয়,  ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’। আরবি ভাষায় বলা হয় ‘লাইলাতুল বারাত’। পবিত্র কোরআনে এ রাতকে লাইলাতুল মোবারকা বা বরকতময় রাত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া তাফসির, হাদিস ও ফিকহের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে ভিন্ন নামে, ভিন্ন শব্দে ও ভিন্ন পরিভাষায় শবেবরাতের আলোচনা এসেছে। পবিত্র শবেবরাতকে বলা হয় ‘লাইলাতুল কিসমাহ’ বা ভাগ্যরজনী। লাইলাতুত তাওবাহ’ বা তাওবার রাত, তাওবা কবুল হয়। ‘লাইলাতুল আফউ’ বা ক্ষমার রাত। ‘লাইলাতুল ইৎক’ তথা জাহান্নাম থেকে মুক্তির রাত। ‘লাইলাতুত দোয়া’ বা প্রার্থনার রাত। ইবনে মাজাহ শরিফে এভাবে এসেছে, হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন তোমাদের কাছে শাবানের মধ্যরাত (শবেবরাত) উপস্থিত হবে তখন তোমরা সেই রাতটি জাগ্রত থাক (নামাজ পড়ে, কোরআন তেলাওয়াত করে, তসবি পড়ে, জিকির করে, দোয়া করে) এবং দিনের বেলা রোজা রাখ। কারণ, এ রাতে মহান আল্লাহ সূর্যাস্তের পর থেকে ফজর পর্যন্ত দুনিয়ার আসমানে তাশরিফ আনেন এবং তিনি ঘোষণা করেন, আছে কি এমন কোনো ব্যক্তি যে, তার গুনাহ মাফের জন্য আমার কাছে প্রার্থনা করবে। আমি তার গুনাহসমূহ  মাফ করে দেব। আছে কি এমন কোনো রিজিক প্রার্থনাকারী, যে আমার কাছে রিজিক প্রার্থনা করবে? আমি তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেব। আছে কি এমন কোনো বিপদগ্রস্ত, যে আমার কাছে বিপদ থেকে মুক্তি চাইবে? আমি তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করব। এভাবে পূর্ণরাত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা হতে থাকে এবং বান্দাদের ওপর রহমত বৃষ্টির মতো নাজিল হতে থাকে।

আল্লাহ যে কত মহান তিনি তা অনেকভাবে বুঝিয়েছেন। আমরা হতভাগারা তার কথা বুঝতেই চাই না। আল্লাহ শুধু তার বান্দাদের ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। এ রাতে তিনি তার অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রসুল (সা.) মধ্য শাবানের রাতে মদিনার কবরস্থান ‘জান্নাতুল বাকি’তে এসে মৃতদের জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করতেন।’ তিনি বলেন, ‘এ রাতে মহান আল্লাহ বনি কালবের বকরির পশমের সংখ্যার চেয়েও বেশি সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।’ (তিরমিজি)। আসুন, আজ রাতব্যাপী  মহান প্রভুর ইবাদতে নিজের পাপকর্ম থেকে মুক্তির আকাক্সক্ষায় আল্লাহর কাছে চোখের অশ্রু ফেলে প্রার্থনা করি।

আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, তাসবিহ, তাহলিলসহ প্রিয় নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠসহ প্রভুর ইবাদত-বন্দেগি করে মূল্যবান রাতকে মূল্যায়ন করি। অতীত জীবনের কাজা নামাজসহ তাহাজ্জুদের নামাজ এবং অতিরিক্ত নফল নামাজ আদায় করি। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও আল্লাহর জিকির করি।  শবেবরাতে কবর জেয়ারত করার ও রোজা রাখার কথা হাদিসে উল্লেখ আছে। আমরা অবশ্যই এ রাতে শিরকি কর্মকা-, অন্যের ব্যাপারে হিংসা-বিদ্বেষ অন্তর থেকে মুছে সব মানুষকে ক্ষমা করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে তাওবা করব। ক্ষমা চাইব। কীভাবে একা অন্ধকার কবরে থাকব।  জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর হে আল্লাহ এভাবে দোয়া করব নিজ পিতা-মাতা, নিজ স্বজনদের জন্য। শুধু ব্যক্তিজীবনে নয়, রাষ্ট্রীয় ও সমাজজীবনেও সবকিছু শুভ ও সুন্দর হোক এ দোয়াই করব। চোখের অশ্রু ফেলব  প্রভুর কাছে। হে আল্লাহ ক্ষমা কর আমাদের। আমিন।


আপনার মন্তব্য