শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জুন, ২০১৮ ২৩:১৬

ওই নতুনের কেতন ওড়ে

ক্রীড়া প্রতিবেদক, সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে

ওই নতুনের কেতন ওড়ে

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা টেনেটুনে ড্র করল আইসল্যান্ডের সঙ্গে। পরের ম্যাচটাতেই হেরে গেল ক্রোয়েশিয়ার কাছে (৩-০)। এ যেন ফুটবলের সপ্তাশ্চার্যের একটা। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আর্জেন্টিনার এমন বড় ব্যবধানে পরাজয়ের ঘটনা যে একেবারে নেই, তা নয়, ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৪ গোল হজম করে বাড়ি ফিরেছিল আলবেসিলেস্তরা। কিন্তু গ্রুপ পর্বেই যে এত বড় পরাজয়!

কেবল আর্জেন্টিনা কেন? বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিও তো প্রথম ম্যাচে হেরে গেছে মেক্সিকোর কাছে (১-০)। যে পাঁচটা দলকে ফেবারিট ধরা হয়েছিল, তাদের বেশির ভাগের অবস্থাই করুণ। আর্জেন্টিনা বিদায়ের পথে। জার্মানিও আছে খাদের কিনারায়। স্পেন কোনোরকমে পাড় পেয়ে গেছে। ব্রাজিলকে পরীক্ষায় নামতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত একটা বিশ্বকাপ খেলতে হচ্ছে। এখানে ঐতিহ্যটা পুরোপুরিই অকেজো হয়ে গেছে। নামসর্বস্ব দলগুলো আটকে যাচ্ছে অচেনাদের কাছে। আইসল্যান্ড তাদের রং ছড়াচ্ছে বিশ্বকাপেও। তিউনিসিয়া কাঁপিয়ে দিচ্ছে ইংল্যান্ডকে। স্বাগতিক রাশিয়া এরই মধ্যে ৮টা গোল করে নিজেদের ক্ষমতা বুঝিয়েছে। যে কোনো দলকেই চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত তারা। দ্বিতীয় রাউন্ডে রাশিয়া সম্ভবত পর্তুগালের মুখোমুখি হবে। রোনালদোরাও ভয় পেতে পারে রাশিয়ানদের। বিশ্বকাপটা নিজেদের করে নিতে মরিয়া হয়েই খেলবে রাশিয়া। ডেনিস চেরিসভ, গলোভিন, সমেদভদের নাম যোগ হচ্ছে তারকাদের তালিকায়।

রাশিয়ানরা স্বাগতিক হিসেবে কিছুটা ভালো খেলতেই পারে। এখানে তাদের চেনা মাঠ। চেনা আবহাওয়া। মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটা তো তারা চেনা আবহাওয়ার সুবিধা নিয়েই জিতেছে। আরব মরুর প্রচণ্ড গরমে অভ্যস্ত মিসর সেন্ট পিটার্সবার্গের গ্রীষ্মকালীন শীতটাও (১০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) সহ্য করতে পারেনি। রাশিয়া ছাড়াও অন্য অনেক নতুন দল দারুণ খেলছে। বেলজিয়াম দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে ভক্তদের। পানামাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা। বেলজিয়ামকে নিয়ে আশাবাদী এমনকি রাশিয়ানরাও। তারা চায়, হয় রাশিয়া নয়তো বেলজিয়াম চ্যাম্পিয়ন হোক। রাশিয়ানদের এই চাওয়া পূরণ হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এই বিশ্বকাপটাই যেন নতুনদের জন্য। একমাত্র ফ্রান্স ছাড়া কোনো ফেবারিটই নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। স্পেনকে ইরানের বিপক্ষে জিততে হয়েছে কঠোর পরিশ্রম করে। পর্তুগালও তো মরক্কোর বিপক্ষে জিতেছে প্রচুর ঘাম ঝরিয়ে। কলম্বিয়ার মতো ফুটবলের মহাশক্তিধর দলকে হারিয়ে দিল জাপান। বিশ্বকাপের ড্রতে এক নম্বর পটে থাকা পোল্যান্ডকে হারিয়েছে সেনেগাল। কলম্বিয়া এবং পোল্যান্ডের পরাজয়কেও তো অঘটনই বলতে হবে। বিপরীতভাবে বললে, নতুনের জয়। পুরনো-প্রাচীনকে যেন অস্বীকার করতে চাইছে এবারের বিশ্বকাপ। মহা আড়ম্বরে গ্রহণ করে নিচ্ছে নতুন নতুন দলকে।

এই যে নতুন দলগুলো দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিচ্ছে, এতে বিশ্বকাপের রংটাই যেন বদলে গেল। এখন যে কোনো দলই বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে। কেবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণটাই এখন আর শেষ কথা নয়। এরপরও অনেক কিছু থেকে যায়।


আপনার মন্তব্য