শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৫১

লিগে দরকার মানসম্পন্ন বিদেশি ফুটবলার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

লিগে দরকার মানসম্পন্ন বিদেশি ফুটবলার
ড্যানিয়েল কলিনড্রেস

স্পেনের লা লিগা অনেক আগেই শুরু হয়েছে। তবে এই লিগের জৌলুস বেড়ে গেছে বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত ফুটবলার মাঠে নামার পর। এতে করে লিগের শুধু আকর্ষণ বাড়েনি স্পেনের ফুটবলের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। যার বড় প্রমাণ ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো দেশটির বিশ্বকাপ জয়। ভালো খেলোয়াড় মানেই মানের উন্নয়ন। ফুটবল ইতিহাসে বাংলাদেশের বড় কোনো ট্রফি জেতার রেকর্ড নেই। কিন্তু আশি দশকে দেশের ফুটবলে ব্যাপক উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান শুধু এশিয়ান ক্লাব কাপের চূড়ান্তপর্বে খেলেনি। দুবার এশিয়ার সেরা সাতে অবস্থান করেছিল। এশিয়ার বিখ্যাত ক্লাব ইরানের পিরুজী ও কাতার আলসাদকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করে। ড্র করেছিল উত্তর কোরিয়া চ্যাম্পিয়ন এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভের বিপক্ষে।

এই অসম্ভবকে সম্ভব করা গিয়েছিল দলে মান সম্পন্ন বিদেশি ফুটবলার থাকায়। ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপ খেলা নাসের হেজাজি ছিলেন দলের কোচ। ইরানের নালজেগার, বিজন তাহেরি, নাইজেরিয়ার এমেকার মতো মানসম্পন্ন বিদেশি ছিলেন মোহামেডানে। এদের নৈপুণ্যর পাশাপাশি জ্বলে উঠেন স্থানীয় ফুটবলার কায়সার হামিদ, সাইদ হাসান কানন, সৈয়দ রুম্মন ওয়ালি বিন সাব্বির, সম্রাট হোসেন এমিলি, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, খোরশেদ বাবুল ও সালাউদ্দিন। সাব্বির এখনো বলেন, নালজেগারদের কাছে অনেক কিছু শিখেছি। যা আমাদের কাজে লেগেছে।

মোহামেডানের দেখাদেখি আবাহনীও উড়িয়ে আনে মানসম্পন্ন বিদেশি ফুটবলার। বিশেষ করে ১৯৮৭ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপ খেলা দুই ইরাকের ফুটবলার করিম মোহাম্মদ ও সামির সাকিরকে মাঠে নামায়। সঙ্গে পাকির আলী আর শ্রীলঙ্কার প্রেমলালকে। আশি দশকে মানসম্পন্ন বিদেশি আসায় মান ও জনপ্রিয়তা দুটোই বেড়ে যায়। কিন্তু পেশাদার লিগে প্রতিটি দলে একাধিক বিদেশি ফুটবলার অংশ নিলেও খুব একটা মানসম্পন্ন ছিল। অবশ্য এর মধ্যে সনি নর্দে ও ওয়েডসন ছিল ব্যতিক্রম। ভালো মানের বিদেশি না থাকায় মানও নিচে নেমে যায়। যার প্রভাব পড়ে জাতীয় দলে। এবার বসুন্ধরা কিংসই রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলা ড্যানিয়েল কলিনড্রেস, সঙ্গে ব্রাজিলের মার্কোস ও কিরগিজস্তানের বখতিয়া,কে উড়িয়ে আনে। খুব একটা পিছিয়ে ছিল না ঢাকা  আবাহনী, শেখ রাসেল, সাইফ, শেখ জামাল এমনকি মোহামেডানও। মানসম্পন্ন বিদেশি আসায় লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেড়ে গেছে। স্থানীয়রাও যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে। অনেক দিন পর বিদেশির পাশাপাশি স্থানীয়রাও হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব পেয়েছেন। এবার ভালোমানের বিদেশি আসায় ফুটবলপ্রেমীরাও মুগ্ধ। মাঠ কাঁপানো সাবেক ফুটবলার শেখ মো. আসলাম বলেন, হয়তো অর্থের কারণে সম্ভব নয়। তারপরও আমি মনে করি ধনী ক্লাবগুলোর অন্তত কলিনড্রেস মানের ফুটবলার আনার। এতে দেশের ফুটবলাররা অনেক কিছু শিখতে পারবে। মান নেই এমন বিদেশি আনা মানে ফুটবলের ক্ষতি।


আপনার মন্তব্য