শনিবার, ২৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
ওয়ানডে সিরিজ

তামিমরা কি কিছু শিখলেন!

►বাংলাদেশ ০ ►নিউজিল্যান্ড ৩

মেজবাহ্-উল-হক

তামিমরা কি কিছু শিখলেন!

এক রানে আউট হয়ে হতাশ তামিম ড্রেসিং রুমে ফিরছেন -এএফপি

লিটন দাস পুল করে বল ঘুরিয়ে দিলেন থার্ডম্যানে। নিশ্চিত বাউন্ডারি! কিন্তু না, বাঁ দিকে অনেক দৌড়ে এসে প্রাণপণে ডাইভ দিলেন ট্রেন্ট বোল্ট। শরীরকে শূন্যে ভাসিয়ে বাজপাখির মতো ছো মেরে বাঁ হাত দিয়ে বল ধরে ফেললেন। বোলার ম্যাট হেনরির বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে রইলেন লিটনও।

মাঠের আম্পায়ার জানিয়ে দিলেন আউট। তারপর গ্যালারিতে উল্লাস।

কী অসাধারণ এক ক্যাচ! এটা তো একটি উদাহরণ মাত্র। ডাইভ দিয়ে আরও অনেকবারই বাউন্ডারি বাঁচিয়েছেন ব্ল্যাক ক্যাপস ফিল্ডাররা। ক্রিকেট এমনই- হাফ চান্সকেও ক্যারিশমা দেখিয়ে ‘ফুল চান্স’ বানিয়ে ফেলতে হয়। যেটা নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডাররা দেখিয়ে দিয়েছেন। দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে তারা অনেক রান সেভ করেছেন।

কিন্তু তামিমরা বরাবরের মতোই ওয়েলিংটনে আঁকলেন হতাশার ছবি। ভেন্যু পরিবর্তন হলেও টাইগারদের পারফরম্যান্সে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্রাইস্টচার্চে ফিল্ডিংয়ে যে হাস্যকর ভুলগুলো করেছিলেন, নিউজিল্যান্ডের রাজধানী শহর ওয়েলিংটনে যেন সে ভুলে আরও নতুন মাত্রা যোগ করলেন!

উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিম আবারও ছেড়েছেন ক্যাচ। ফিল্ডিং মিস করে বাউন্ডারি উপহার দিয়েছেন প্রতিপক্ষকে। মিস করেছেন রানআউটের সহজ সুযোগও। একের পর এক মিসের পরও নাকি মুশফিকই ‘সেরা পছন্দ’ কিপার হিসেবে।

এ দলে সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এ ম্যাচে তারও ক্যাচ মিসের পর্বটা অব্যাহত থাকল। মাহমুদুল্লাহকে দেখে মনে হলো ক্যাচ মিসটা যেন গা সওয়া হয়ে গেছে তার। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের কী দায়িত্বজ্ঞানহীন ফিল্ডিং!

বোলিংয়ে ভরসার প্রতীক মুস্তাফিজুর রহমান তো রীতিমতো ব্লান্ডার করে দিলেন। ১০ ওভারে দিলেন ৮৭ রান। একটি সহজ ক্যাচও তার হাত ফসকে বেরিয়ে গেল।

রুবেল হোসেন বোলিং করলেন বটে। তিনটি উইকেটও পেলেন। কিন্তু ব্যাটসম্যানের দুর্বলতা কী তা বুঝে মাথা খাটিয়ে বোলিং করতে পারেননি বলেই ১০ ওভারে দিলেন ৭০ রান। এ দুই পেসারের তুলনায় অবশ্য তাসকিন আহমেদ বেশ ভালো করেছেন। তার বেশ কিছু ডেলিভারি কিউই ব্যাটসম্যানদের বিব্রতকর অবস্থায়ও ফেলেছে। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে তার হাতের নিচ দিয়ে গিয়ে বল বাউন্ডারি হয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি ছিল খুবই দৃষ্টিকটু।

রানআউটের একটা দারুণ সুযোগ নষ্ট করেছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। ম্যাচের ব্যবচ্ছেদ করলে ফিল্ডিংয়ের আরও বেশ কিছু হতাশার চিত্র সামনে চলে আসবে।

আর যে ব্যাটিং নিয়ে টাইগারদের গর্ব সেখানে আরেকটা চোট লাগল। যে উইকেটে নিউজিল্যান্ড ৩১৮ রান করল সেখানে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে গেল মাত্র ১৫৪-তে। ১৬৪ রানের লজ্জার হারে হোয়াইটওয়াশ টাইগাররা।

তবে ফিল্ডিংয়ে ভুল করলেও ব্যাটিংয়ে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেছেন অপরাজিত ৭৬ রানের ইনিংস। মাহমুদুল্লাহ ছাড়া আর কারও স্কোরই বলার মতো নয়। এমন দিনে অধিনায়ক তামিম ইকবাল ১ রানেই আউট! লিটন দাস ২১। সৌম্য সরকার আরও একটি সুযোগ হেলায় হারালেন। বিলাসী শট খেলে ১ রানেই ড্রেসিংরুমের পথে। আগের ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ মিথুন এ ম্যাচে উইকেটে সেট হওয়ার জন্য লম্বা সময় নিলেন। কিন্তু আউট হলেন ৩৯ বলে মাত্র ৬ রান করে। সব মিলে হযবরল অবস্থা।

অথচ নিউজিল্যান্ডের দুই নতুন ব্যাটসম্যান কী অসাধারণ খেললেন। ডেভন কনওয়ে ১২৬ আর ডেরিল মিচেল অপরাজিত ১০০। ওয়েলিংটনে তারা পার্টনারশিপে নতুন রেকর্ড গড়লেন। অথচ দুই ক্রিকেটারেরই এটি তৃতীয় ম্যাচ। বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই তাদের অভিষেক হয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ডানেডিনে। কনওয়ে তো সিরিজ সেরাও হলেন। নিজেদের প্রিয় ফরম্যাটে তিন ম্যাচেই হতাশার ছবি। তবে ফিল্ডিং, বোলিং কিংবা ব্যাটিং- এ ম্যাচ তিনটি থেকে টাইগারদের শেখার অনেক কিছু আছে। কিন্তু তামিমরা কি কিছু শিখলেন!

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর