শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ১৪:১৮

টাইগারদের বিপক্ষে দলে মালিক-হাফিজ, ক্ষিপ্ত রমিজ রাজা

অনলাইন ডেস্ক

টাইগারদের বিপক্ষে দলে মালিক-হাফিজ, ক্ষিপ্ত রমিজ রাজা
রমিজ রাজা

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার জেরে সাতজন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দিয়েছে পাকিস্তান। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন এই টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে ডাক পেয়েছে নতুন তিন মুখ। তারা হলেন- হ্যারিস রউফ, আহসান আলী ও আমাদ বাট। একই সঙ্গে দলে ফিরেছেন দুই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক ও মোহাম্মদ হাফিজ।

এছাড়া বাদ পড়া সাত ক্রিকেটার হচ্ছেন- ফখর জামান, মোহাম্মদ আমির, আসিফ আলী, হারিস সোহেল, ইমাদ-উল-হক, মোহাম্মদ ইরফান এবং ওয়াহাব রিয়াজ। এই সাতজনই অস্ট্রেলিয়া সফরে ২-০ ব্যবধানে হেরে আসা দলের সদস্য ছিলেন।

ব্যাপক রদবদল এনে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের এই পাকিস্তান দল ঘোষণা হওয়ার পর সমালোচনায় মেতেছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার এবং জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা।

রমিজ রাজা মূলত ক্ষিপ্ত মালিক ও হাফিজকে দলে ফেরানোর বিষয়ে। তার মতে, এ দুজন অতীতে তাদের সেরাটা ফেলে এসেছেন। তাদের ওই দুই স্থানে অন্যদের সুযোগ দেয়া যেত।

বৃহস্পতিবার পিসিবির স্কোয়াড ঘোষণার পর নিজের জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তান দল দেখেছি। আমি খুবই রাগান্বিত, ক্ষুব্ধ। মালিক ও হাফিজকে ফেরানো ভুল হয়েছে। ভবিষ্যত ভেবে খেলোয়াড় নির্বাচন করা হয়নি। এতে পরিষ্কার, নির্বাচকরা আর হার মেনে নিতে পারছে না। কার্যত সেটি এড়াতে মালিক-হাফিজকে স্কোয়াডে ফিরিয়েছে তারা। যারা অতীতে সেরাটা ফেলে এসেছে। আমার প্রশ্ন– হারের ভয় করলে কিভাবে পাকিস্তান এগোবে, কেমন করে ভালো দল হয়ে গড়ে উঠবে? স্বীয় স্বার্থেই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে নির্বাচকরা। সমালোচনা সহ্য করতে না পারার ভয়ে সবকিছু বিসর্জন দিয়েছে তারা।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অন্যতম শীর্ষ দল পাকিস্তান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের পারফরম্যান্সটা মোটেও ভালো নয়। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে তারা। এর আগেও একাধিক ম্যাচ হেরেছে। সেই দগদগে ক্ষতে প্রলেপ দিতেই অভিজ্ঞ-তরুণদের মিশেলে শক্তিশালী দল গড়েছে মিসবাহর নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি।

রমিজ বলেন, নির্বাচকরা যুক্তি দিয়েছে ৩৮ বছর বয়সী দুই ক্রিকেটারের অভিজ্ঞতা ম্যাচ জেতাতে সহায়তা করবে। তা হলে অস্ট্রেলিয়া সফরেই তাদের নিয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু উল্টো কঠিন এক সফরে নিয়ে যাওয়া হলো তারুণ্যনির্ভর দল। একটা বিষয় মাথায় রাখা উচিত, তরুণদের প্রথমে খেলতে দিতে হয় হোমগ্রাউন্ডে। এখানে অভ্যাস হলেই বিদেশ সফরের জন্য তাদের বাছাই বা দলভুক্তির জন্য বিবেচনা করা যায়।

পিসিবি নির্বাচকদের একহাত নিয়ে জনপ্রিয় এ ধারাভাষ্যকার বলেন, আপনারা বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের ভয় করছেন, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু নিরাপদ অবস্থানে দাঁড়াচ্ছেন কেন? জয় পেতে মালিক-হাফিজকে ফিরিয়েছেন। কিন্তু তারা তো আগেই নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। ওরা এখন আর কী দেবে?

তিনি বলেন, শোয়েব-হাফিজের প্রতি আমার ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ নেই। তাদের আক্রমণও করছি না। দীর্ঘদিন তারা পাকিস্তানের সেবা করেছে। দেশকে প্রচুর ম্যাচ জিতিয়েছে দুজন। তবে এ বয়সে বেশি অবদান রাখতে পারবে না ওরা।

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য