Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:১৫

বিপর্যস্ত শ্যামা সুন্দরী খাল

রেজাউল করিম মানিক, রংপুর

বিপর্যস্ত শ্যামা সুন্দরী খাল

রংপুর নগরীর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত শ্যামা সুন্দরী খাল আবর্জনার স্তূপে ভরাট হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে পানিপ্রবাহ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় দখল-দূষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খালটি। এ খাল এখন মশার নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র। সংস্কারের নামে ২৫ কোটি টাকা লোপাট হলেও তা নিয়ে প্রশাসন নীরব। কথিত আছে, এক সময়ে রংপুরে ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, কলেরা ও বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল। রোগভোগের কারণে অনেকের অকাল মৃত্যু হতো। ডিমলার রাজবধূ ছিলেন চৌধুরানী শ্যামা সুন্দরী দেবী। তিনি ম্যালেরিয়া রোগে অকাল মৃত্যুবরণ করেন। তার এই মৃত্যুশোকে পুত্র জানকীবল্লভ সেন মাতার স্মরণে ১৮৯০ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত আট বছর ধরে এই খাল খনন করেন। তখন থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত সৌন্দর্য বর্ধনে শ্যামা সুন্দরী খাল অন্যতম ভূমিকায় ছিল। বর্তমানে শ্যামা সুন্দরী খালটির জীর্ণদশা। ময়লা, আবর্জনা ও দূষণে বিপর্যস্ত। অন্যদিকে এ খাল সংস্কারের নামে প্রায় ২৫ কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ উঠেছে বিগত পৌর চেয়ারম্যান ও সিটি মেয়রের বিরুদ্ধে। নগর দূষণমুক্ত রাখতে খননকৃত এই শ্যামা সুন্দরী খাল এখন নগর দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শ্যামা সুন্দরী খাল ঘিরে নির্মিত কেরামতিয়া মসজিদ সংলগ্ন পার্কটিতে একসময় সবুজের সমারোহ দেখা গেলেও এখন তা বিবর্ণ রূপ নিয়েছে। পানিপ্রবাহ বন্ধ ও খালটির সঙ্গে আশপাশের বাড়িঘরের পয়ঃনিষ্কাশনের সংযোগ থাকায় দুর্গন্ধে পার্কের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ২০১২ সালে ১২ কিলোমিটার শ্যামা সুন্দরী খাল সংস্কার, খালের ওপর সেতু নির্মাণ ও খননের জন্য তৎকালীন রংপুর পৌরসভা ২৫ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করে। ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রাকল্পিত মূল্যের কাজ ৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। ওই সময়ে খালের কিছু অংশের দুই পাশে বোল্ডার বসানো, খালের দুই পাশে ফুটপাথ নির্মাণ এবং খাল খনন ছাড়াই তিনটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে কাজ সম্পূর্ণ না করেই বিল তোলে।

নগর ভবনের একটি সূত্র বলছে, দরপত্র অনুযায়ী শ্যামা সুন্দরী খালের ১২ কিলোমিটারজুড়ে দুই পাশে বোল্ডার বসানো, খালের দুই পাশে ফুটপাথ নির্মাণ এবং খালের ওপর তিনটি সেতু নির্মাণ করার কথা ছিল। কিন্তু সদর হাসপাতালের পেছন থেকে গোমস্তাপাড়া হয়ে গ্র্যান্ড হোটেল মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি টাকার তিন কিলোমিটারে কোনো কাজই হয়নি। বিষয়টি ধাপাচাপা দিতে রংপুর পৌরসভা থেকে রংপুর এলজিইডিকে প্রকল্পটির দায়িত্ব দেওয়া হয়। অবৈধভাবে খাল দখল, স্থাপনা নির্মাণ প্রতিনিয়ত বাড়লেও কর্তৃপক্ষ নীরব। আগে শ্যামা সুন্দরী খালের প্রস্থ ছিল স্থানভেদে ৬০-১০০ ফুটের বেশি। কিন্তু এখন তা সর্বোচ্চ ৫২ ফুট। সংস্কারের সময় অবৈধ দখলমুক্ত না করায় এ খাল নালায় পরিণত হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, শ্যামা সুন্দরী খাল নিয়ে আমরা ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। এতে খালের ওপরে ফ্লাইওভার, ব্রিজ, পানির প্রবাহ ধরে রাখা, এর দুই পাড়ে ওয়াক ওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এসব বাস্তবায়ন হলে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।


আপনার মন্তব্য